সেপ্টেম্বরে ভারতের বাংলাদেশ সফর নিয়ে রাজনৈতিক টানাপড়েনে চরম অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। দুই দেশের সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহের প্রভাব এখন ক্রিকেটেও স্পষ্ট। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) ২৯শে আগস্ট থেকে ১৫ই সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সাদা বলের সূচি নির্ধারিত রাখলেও তা মাঠে গড়ানো কঠিন। ভারতীয় দল আসবে কিনা তা নির্ভর করছে তাদের সরকারের অনুমতির ওপর। ভারতের একটি সূত্রে জানা গেছে বিসিসিআই শিগগিরই আবেদন জানাবে সরকারের কাছে। যদিও বিসিসিআই-এর এটি অফিসিয়াল কোনো বক্তব্য নয়। মূলত গত ৫ই আগস্ট দিল্লিতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার দলের কয়েকজনের ভার্চ্যুয়াল সংবাদ সম্মেলনের পর অসন্তোষ বাড়ে। সরকারি পর্যায়ে সংশয় দেখা দিলেও বিসিবি আতিথেয়তা দিতে আগ্রহী। শেষমুহূর্ত পর্যন্ত আশা রাখলেও পরিস্থিতি তাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে জানা গেছে সিরিজটি পিছিয়ে যাচ্ছে। সিরিজটির জন্য বের করা হচ্ছে নতুন সময়। তবে সমাধান নিয়ে আশাবাদী ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল ইসলাম। তিনি জানিয়েছেন, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তা নিয়ে কাজ করছে। এমনকি সফরটি স্থগিত বা পিছিয়ে যাওয়া নিয়ে বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবাল মুখ খুলতে রাজি নন। তিনি মানবজমিনকে বলেন, ‘ভারত সফর নিয়ে এখনো আলোচনা চলছে। এখনই এ সফর নিয়ে কিছু বলতে পারবো না। তবে সংবাদ সম্মেলন করে জানাবো বিষয়টি। ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী কি বলেছেন তা এখনো জানি না।’
গেল ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনের পর নতুন সরকার দায়িত্ব নেয়ার মাধ্যমে দুই দেশের ক্রিকেটীয় সম্পর্ক স্বাভাবিক হওয়ার একটা বড় আশা তৈরি হয়েছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাপ্রবাহের কারণে সমস্ত পরিকল্পনা এখন বড় ধাক্কা খেয়েছে। এখনো সফর বাতিলের কোনো দাপ্তরিক ঘোষণা হয়নি, সঙ্গে ইতিবাচক পরিবর্তনের গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে। ২৮শে আগস্ট ঘনিয়ে আসায় হাতে সময়ও খুব বেশি নেই। এমন পরিস্থিতিতে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক জানিয়েছেন, সিরিজটির ভাগ্য নির্ধারণে সরকারি পর্যায়ে যোগাযোগ চলছে। তিনি বলেন, ‘আমাদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং ইন্ডিয়ান হাইকমিশন যৌথভাবে বিষয়টি নিয়ে কাজ করছে। আশা করছি, দ্রুত সময়ের ভেতরেই ঢাকায় সিরিজটি অনুষ্ঠিত হওয়ার বিষয়ে আমরা আশাবাদী।’ তবে মন্ত্রীর এমন বক্তব্যের পরও বিসিবি’র একটি সূত্রের দাবি সিরিজটি শেষপর্যন্ত পিছিয়ে যাচ্ছে। এমনই বার্তা পাওয়া গেছে ভারতের পক্ষ থেকে।
অন্যদিকে ক্রিকেট মাঠে আন্তর্জাতিক সমীকরণ তৈরি করছে নতুন রোমাঞ্চ। আয়ারল্যান্ড ও আফগানিস্তানের মধ্যকার সাম্প্রতিক ওয়ানডে সিরিজ ওয়েস্ট ইন্ডিজের ভাগ্য নির্ধারণে বড় ভূমিকা রেখেছে। সিরিজের প্রথম ম্যাচ বৃষ্টিতে ভেস্তে যাওয়ার পর দ্বিতীয় ওয়ানডেতে জয় পায় আফগানরা। রশিদ-ইব্রাহিমদের ম্যাজিকে আইরিশদের ৯২ রানে হারিয়ে তারা সরাসরি বিশ্বকাপে খেলার পথ সুগম করেছে। এতে ধাক্কা খেয়েছে সাবেক দু’বারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ক্যারিবিয়ানরা। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সেরা ৮ দলের তালিকায় অবস্থান পোক্ত করতে না পারায় সরাসরি খেলার সুযোগ হারাতে বসেছে তারা। ওয়ানডে বিশ্বকাপের মূল পর্বের টিকিট কাটার এই কঠিন দৌড়ে এখন তাদের একমাত্র প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বি বাংলাদেশ। স্বাগতিক মর্যাদা থাকায় দক্ষিণ আফ্রিকা এবং জিম্বাবুয়ে সরাসরি মূল পর্বে খেলবে। প্রোটিয়ারা র্যাঙ্কিংয়ের ৪ নম্বরে থাকায় মোট ৯টি দল সরাসরি খেলার যোগ্যতা অর্জন করবে। ফলে বাকি থাকা একমাত্র জায়গা দখল নিতে এখন ক্যারিবিয়ানদের সামনে প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ।
বর্তমানে ৮৩ রেটিং পয়েন্ট নিয়ে ওয়ানডে র্যাঙ্কিংয়ের ৯ নম্বর স্থানে শক্ত অবস্থানে ঝুলছে বাংলাদেশ। বর্তমানের এই ৯ নম্বরের অবস্থান অক্ষত রাখতে পারলেই বিশ্বকাপের সরাসরি টিকিট নিশ্চিত করবে লিটন দাসের দল। অন্যদিকে ৭৭ রেটিং পয়েন্ট নিয়ে ১০ নম্বরে অলস বসে আছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। লিটনদের চেয়ে তারা স্পষ্ট ৬ রেটিং পয়েন্টে পিছিয়ে রয়েছে। আগামী ৩০শে সেপ্টেম্বরের কাট-অফ সময়ের পূর্বে সেরা ৯ দলের ভেতর স্থান বজায় রাখতে পারলে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সরাসরি মূল পর্বে খেলবে। কাট-অফ ডেটের আগে ক্যারিবিয়ানদের হাতে বাকি রয়েছে কেবল ২টি ওয়ানডে ম্যাচ। এই ২টি ম্যাচই শাই হোপদের খেলতে হবে ভারতের মাটিতে শক্ত প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে। ভারত সফর জিতলেও ৯ নম্বর পজিশন দখল করা ওয়েস্ট ইন্ডিজের জন্য চরম কঠিন এক চ্যালেঞ্জ। কারণ এই নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বাংলাদেশের আর কোনো ওয়ানডে ম্যাচ নির্ধারিত নেই। ফলে লিটনদের পয়েন্ট বাড়ার কোনো সম্ভাবনা না থাকলেও রেটিং হারানোর বিন্দুমাত্র ভয় নেই। যার ফলে ক্যারিবিয়ানদের পক্ষে এই ৬ পয়েন্টের দীর্ঘ ব্যবধান ঘুচিয়ে বাংলাদেশকে স্পর্শ করা কার্যত সম্পূর্ণ অসম্ভব ব্যাপার। তবে বাংলাদেশ-ভারত সিরিজটি শেষপর্যন্ত হলে নতুন করে বাংলাদেশের পয়েন্টের পরিবর্তন আসতে পারে।
