হোম নাকি অ্যাওয়ে, কোন পথে হাঁটবে বাফুফে

হোম নাকি অ্যাওয়ে, কোন পথে হাঁটবে বাফুফে

ফন্ট সাইজ:

আগামী সেপ্টেম্বর-অক্টোবর ফিফা উইন্ডোতে জাতীয় দলের ম্যাচ আয়োজন নিয়ে দু’টি বিকল্প নিয়ে ভাবছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)। ঘরের মাঠে তিন বা চার জাতির টুর্নামেন্ট আয়োজন, নাকি কিরগিজস্তানের আমন্ত্রণে ত্রিদেশীয় সিরিজে অংশ নেয়া- এই দুই অপশনের যেকোনো একটি বেছে নিতে পারে বাংলাদেশ। ন্যাশনাল টিমস ম্যানেজমেন্ট কমিটির মাধ্যমে চলতি সপ্তাহেই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়াল।

আট বছর পর আবারো বাংলাদেশের মাটিতে ফিরছে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ। আগামী ৪ থেকে ১৭ই নভেম্বর ঢাকার জাতীয় স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে দক্ষিণ এশিয়ার ফুটবলের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ এই আসর। এই টুর্নামেন্টকে সামনে রেখেই জাতীয় দলকে প্রস্তুত করতে চাইছে বাফুফে। সেই লক্ষ্যেই সেপ্টেম্বর-অক্টোবরের এই উইন্ডোকে গুরুত্বের সঙ্গে কাজে লাগাতে চায় ফেডারেশন। তাবিথ আউয়াল জানান, এবারের সেপ্টেম্বর-অক্টোবর উইন্ডোটি অন্য যেকোনো সময়ের চেয়ে দীর্ঘ। দুই সপ্তাহ লম্বা এই উইন্ডোতে অন্তত চারটি ম্যাচ খেলার সুযোগ রয়েছে।

ঘরের মাঠে খেলার জন্য ইতিমধ্যে একাধিক দেশকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে বাফুফে, যার মধ্যে দু’টি দেশের কনফার্মেশনও পাওয়া গেছে। গতকাল বাফুফেতে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তাবিথ আউয়াল বলেন, ‘আমরা কি তিনটি দেশ নিয়ে টুর্নামেন্ট করবো নাকি চারটি দল নিয়ে- সেটি এই সপ্তাহে চূড়ান্ত করবো। এরপর আনুষ্ঠানিকভাবে দলগুলোর নাম ঘোষণা করা হবে।’ অন্যদিকে কিরগিজস্তান থেকেও ত্রিদেশীয় সিরিজে অংশ নেয়ার আমন্ত্রণ পেয়েছে বাংলাদেশ। স্বাগতিক কিরগিজস্তান ও অন্য একটি দলের বিপক্ষে অ্যাওয়েতে খেলার এই প্রস্তাবটিও বাফুফের বিবেচনায় রয়েছে। এর আগে ২০২১ সালেও কিরগিজস্তানের কাছ থেকে এমন একটি তিন জাতি সিরিজের আমন্ত্রণ পেয়ে ইতিবাচক সাড়া দেয় বাফুফে। সেবার ফিলিস্তিনের কাছে ২-০ ও স্বাগতিক কিরগিজস্তানের কাছে ৪-১ গোলের ব্যবধানে হেরেছিল বাংলাদেশ। চলতি সপ্তাহেই ন্যাশনাল টিমস ম্যানেজমেন্ট কমিটি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।

জাতীয় দল ঘরের মাঠে খেলবে নাকি অ্যাওয়েতে যাবে। যদি অ্যাওয়েতে খেলার সিদ্ধান্ত হয়, তবে ঘরের মাঠে টুর্নামেন্টে অংশ নিতে রাজি হওয়া দলগুলোকে তা জানিয়ে দেয়া হবে। নভেম্বরে ঘরের মাঠে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের আগে এই উইন্ডোই হতে যাচ্ছে জাতীয় দলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তুতিপর্ব। হামজা চৌধুরী, শমিত সোমসহ প্রবাসী ফুটবলারদের নিয়ে গড়া বর্তমান দল সাফল্য পেয়েছে। মাঠে ফিরেছে দর্শক। এমন বাস্তবতায় সেপ্টেম্বর-অক্টোবরের এই উইন্ডোতে ঘরের মাঠ নাকি কিরগিজস্তান- কোন পথে হাঁটবে বাফুফে, সেটাই দেখার বিষয়।
ইনফান্তিনোকে সমর্থন জানায়নি বাফুফে
ফিফা প্রেসিডেন্টের বিশ্বকাপ বেসরকারিকরণ ও ‘ফিফা ফরোয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ’ প্রজেক্ট নিয়ে বাংলাদেশ আগাম কোনো সমর্থন জানায়নি বলে নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) সভাপতি তাবিথ আউয়াল। উয়েফার জোরালো ভূমিকা এবং আন্তর্জাতিক মহলে এই ইস্যুটি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা থাকায়, বাফুফে সরকার ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করেই ভবিষ্যতে নিজেদের আনুষ্ঠানিক অবস্থান জানাবে। সমপ্রতি একটি আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় খবর প্রকাশিত হয় যে, ফিফা প্রেসিডেন্ট জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর প্রস্তাবনাকে সমর্থন করেছে বাংলাদেশ। এই খবর নাকচ করে দিয়ে বাফুফে সভাপতি জানান, ফেডারেশনের যে কোনো সিদ্ধান্ত এক্সিকিউটিভ কমিটিতে (ইসি) আলোচনার পর চূড়ান্ত হয় এবং তা প্রকাশ্যে জানানো হয়।

তাবিথ আউয়াল বলেন, ‘আমরা কোনো অগ্রিম সাপোর্ট বা কনফার্মেশন দিইনি। কোনো ব্যক্তির জন্যও দিইনি, কোনো প্রতিষ্ঠানের পক্ষেও দিইনি। ফিফা ফরোয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ নামের যে প্রোগ্রামটি নিয়ে মেম্বার অ্যাসোসিয়েশনগুলোর মতামত চাওয়া হয়েছিল, আমাদের ইসি তা বিবেচনা করার আগেই ফিফা সেটি বাতিল ঘোষণা করেছে।’ এই প্রজেক্টের অধীনে বিশ্বকাপের ২০ শতাংশ মালিকানা একটি প্রাইভেট ফার্মকে দেয়ার প্রস্তাব ছিল। এর বিনিময়ে প্রতিটি মেম্বার অ্যাসোসিয়েশন ভবিষ্যতে ৪০ মিলিয়ন ডলার পর্যন্ত পেতে পারত, যা বর্তমানে ১০ মিলিয়ন ডলার রয়েছে। তবে প্রজেক্টটি বাতিল হলেও ফিফার ভবিষ্যৎ লিডারশিপ নিয়ে বিতর্ক রয়ে গেছে। বাফুফে সভাপতি বলেন, ‘ইস্যুটা ইউয়েফার একটি স্ট্রং ভূমিকা রাখার কারণে জিওপলিটিক্যাল রূপ নিচ্ছে। এ কারণে আমি মনে করি ইসির সাথে সাথে আমাদের স্পোর্টস মিনিস্ট্রি এবং ফরেন মিনিস্ট্রির সাথেও কথা বলতে হবে। সার্বিক বিষয়ে আলাপ করেই আমরা ভবিষ্যতে আমাদের অবস্থান জানাবো।’

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন