উইকেট তৈরির চ্যালেঞ্জে অজি কিউরেটররা

বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া টেস্ট সিরিজ

উইকেট তৈরির চ্যালেঞ্জে অজি কিউরেটররা

ফন্ট সাইজ:

২০০০ সালের পর এই প্রথম গ্রীষ্মকালীন সূচির বাইরে গিয়ে টেস্ট খেলবে অস্ট্রেলিয়া। প্যাট কামিন্সের দল বাংলাদেশের বিপক্ষে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ খেলবে ডারউইন ও ম্যাকাইয়ে। এই দুই মাঠে টেস্ট ক্রিকেট প্রত্যাবর্তনের দায়িত্বে আছেন দুই কিউরেটর জ্যাক পাভলিক ও পিটার কাজাকফ। দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজকে সামনে রেখে উইকেট তৈরি নিয়ে ভিন্ন চ্যালেঞ্জে পড়েছেন তারা।

ডারউইনের আবহাওয়া অ্যাডিলেডের চেয়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন। নভেম্বর থেকে এপ্রিল অবধি মাঠ ভেজা থাকে। মে-অক্টোবর এই সময় শুষ্ক উইকেট দেখা যায়। ১২,০০০ দর্শক ধারণক্ষমতার মার্রারা ওভালের ঘাস নিয়ে নর্দার্ন টেরিটরি ক্রিকেটের ফ্যাসিলিটিজ প্রধান পাভলিক বলেন, ‘সবচেয়ে বড় কথা হলো, এটি বাড়তেই থাকে। এর ওপর বৃষ্টির সঙ্গে লড়াই করতে হয়। আপনাকে সব সময় পরিকল্পনা করতে হয় এবং গ্রোথ বা ঘাসের বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করতে হবে। এখানে আগাছা জন্মায়, অথচ আপনি খুব বেশি হার্বিসাইড স্প্রে করতে পারবেন না। কারণ এটি উইকেটের ঘাসকে প্রভাবিত করে। নীতিগুলো একই হলেও চ্যালেঞ্জ সম্পূর্ণ ভিন্ন।’ ২০২৪ সালে দায়িত্ব নেয়ার পর পাভলিকের বড় চ্যালেঞ্জ ছিল মূল স্টেডিয়ামের মাঝখানে একটি ড্রপ-ইন উইকেট দুই টুকরোয় স্থানান্তর করা।

২০০৩ সালে বাংলাদেশের বিপক্ষেই প্রথমবার এই ‘স্লিপট পিচ’ পদ্ধতি সফলভাবে বাস্তবায়ন করেছিল ডারউইন। এই কাজ নিয়ে হাসতে হাসতে পাভলিক বলেন, ‘এটি একটি দারুণ ঝামেলার ব্যাপার। পিচগুলোর নিচের অবকাঠামো বেশ পুরনো। এটি কনক্রিটের একটি স্ল্যাব যার ওপর কিছু বালি দেয়া আছে। প্রতি বছরই বিষয়টি একটু কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। কখনো এটি খুব সুন্দরভাবে বসে যায়, আবার কখনো বেশ বেগ পেতে হয়।’ গত বছর দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে টি-টোয়েন্টির জন্য তৈরি করা পিচ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘গত বছর মানুষ বুঝতেই পারেনি যে এটি একটি স্লিপট উইকেট ছিল, আর সেটাই হলো আমাদের লক্ষ্য।’ অস্ট্রেলিয়ায় ২০ ডিগ্রির নিচে তাপমাত্রা নামলে ঘাসের বৃদ্ধি থমকে যায় বলে জানান পাভলিক। এজন্য মাটি গরম রাখতে গ্রোথ ম্যাট ব্যবহার করেন কিউরেটররা।

তিনি বলেন, ‘আমরা এগুলো অ্যাডিলেডে পুরোদমে ব্যবহার করি। আমি ভেবেছিলাম এখানে হয়তো কখনো এগুলোর প্রয়োজনই হবে না, তবে বর্তমানে আমরা এমন একটি ভালো তিন মাসের সময়ের মধ্যে আছি যেখানে এগুলো থেকে বেশ ভালো ফলাফল পাওয়া যায়।’ সীমিত ওভারের জন্য বানানো উইকেট আর পাঁচদিন স্থায়ী হওয়া টেস্ট উইকেট তৈরির মধ্যে বিস্তর ফারাক জানিয়ে পাভলিক বলেন, ‘নিঃসন্দেহে এখানে কিছু চাপ থাকে।’
শ্রীলঙ্কার ২০০৪ সালের সফরের পর প্রথমবার টেস্ট ক্রিকেট ফিরছে মার্রারায়। যেখানে ডারউইনের প্রথম ঘরের ছেলে হিসেবে ব্যাগি গ্রিন মাথায় তুলতে পারেন জ্যাক ওয়েদারল্ড।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন