কিশোরের মরদেহ ঝুলছিল শহীদ মিনারে

কিশোরের মরদেহ ঝুলছিল শহীদ মিনারে

ফন্ট সাইজ:

১৫ বছরের কিশোর সিহাব তার মায়ের কাছে ৫০০ টাকা চেয়েছিল বন্ধুদের সঙ্গে ঘুরতে যাবে বলে। কিন্তু এত টাকা দেয়ার মতো অবস্থা ছিল না দরিদ্র মায়ের। টাকা না পেয়ে অভিমান করে বাড়ি থেকে বের হয়ে যায়। এর একদিন পরই শহীদ মিনারের পিলারে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া গেল কিশোরের মরদেহ। ঘটনাটি মানিকগঞ্জ পৌর এলাকার ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের জাগির ধলেশ্বরী সেতু সংলগ্ন এলাকায়। ঘটনাটি আত্মহত্যা নাকি হত্যা এ নিয়ে জনমনে দেখা দিয়েছে নানা প্রশ্ন। নিহত সিহাব সদর উপজেলার হিজুলি এলাকার সেলিম মিয়ার ছেলে। সে মানিকগঞ্জ বাসস্ট্যান্ড কাঁচাবাজারের মাছ ব্যবসায়ী মো. মনির হোসেনের কর্মচারী হিসেবে কাজ করতো।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বন্ধুদের সঙ্গে বেওথা ব্রিজে ঘুরতে যাওয়ার জন্য মায়ের কাছে ৫০০ টাকা চেয়েছিল কিশোর সিহাব। টাকা না পেয়ে অভিমান করে শনিবার সকালে বাড়ি থেকে বের হয় সিহাব। এরপর দিন শেষে রাত পার হয়ে গেলেও সিহাবের সন্ধান পাচ্ছিল না তার পরিবার। রোববার সকালে স্থানীয় জাগির এলাকায় একটি শহীদ মিনারে তার ঝুলন্ত লাশ দেখতে পান স্থানীয় কয়েকজন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশটি উদ্ধার করে। সিহাবের কর্মস্থলের মালিক মো. মনির হোসেন বলেন, শনিবার সিহাব ছুটি নিয়েছিল। ওইদিন সে কর্মস্থলে যায়নি। পারিবারিক সূত্র জানান, বন্ধুদের সঙ্গে ঘুরতে যাবে বলে মায়ের কাছে ৫০০ টাকা চেয়েছিল।

কিন্তু দরিদ্র মায়ের কাছে এতগুলো টাকা না থাকায় ছেলের সখ পূরণ করতে পারেনি। এই অভিমানে সিহাব বাড়ি থেকে বের হয়ে জীবন্ত ফিরে আসেনি। এ ছাড়া সিহাব মাঝে মধ্যে বাড়ির বাইরে বন্ধুদের সঙ্গে রাত কাটিয়ে থাকে। তবে তার মায়ের অভিযোগ এটা কোনোভাবেই আত্মহত্যা নয়। এদিকে তার মৃত্যুর পর তার সঙ্গে থাকা বন্ধুদের বিষয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে। তবে এটি আত্মহত্যা নাকি অন্য কোনো কারণে তার মৃত্যু হয়েছে, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ঘটনার সঙ্গে অন্য কারও সম্পৃক্ততা রয়েছে কিনা, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। মানিকগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনির হোসেন বলেন, লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মানিকগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন