প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ‘যে বিভাগে এরকম দুটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে দু’জন ব্যক্তি আছেন, সেই এলাকার উন্নয়ন কেউ ঠেকিয়ে রাখতে পারবে না, ইনশাআল্লাহ।’ রোববার (৯ আগস্ট) দুপুরে চট্টগ্রামের বাঁশখালীর বাহারছড়া এলাকায় বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মধ্যে নতুন ঘরের চাবি হস্তান্তর অনুষ্ঠানে বক্তব্যের শেষ দিকে তিনি এ কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আপনাদের চট্টগ্রাম থেকে আমরা দুজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিকে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দুটি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দিয়েছি। একটি হচ্ছে অর্থ মন্ত্রণালয়, আরেকটি হচ্ছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। যেই বিভাগে এরকম দুটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে নিয়োজিত দুইজন ব্যক্তি আছে, সেই এলাকার উন্নয়ন কেউ ঠেকিয়ে রাখতে পারবে না ইনশাআল্লাহ।’ এ সময় বাঁশখালীর বহুল প্রত্যাশিত বেড়িবাঁধ নির্মাণের বিষয়েও কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘বেড়িবাঁধ—এটি আমাদের মূল পরিকল্পনার একটি অংশ।
ইনশাআল্লাহ বেড়িবাঁধের কাজও শুরু হবে।’ এর আগে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন কর্মসূচির উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় তিনি ক্ষতিগ্রস্ত ১০০ পরিবারের হাতে টিনের ছাউনি দেওয়া নতুন ঘরের চাবি তুলে দেন। পরে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সঙ্গে কথা বলে তাদের পরিবার ও সার্বিক পরিস্থিতির খোঁজখবর নেন। সেখানে একটি মেহগনি গাছের চারাও রোপণ করেন তিনি। বাঁশখালীর কর্মসূচিতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের মানুষের সুখে-দুঃখে পাশে থাকা সরকারের দায়িত্ব। চলতি অর্থবছরে ৪১ লাখ পরিবারের মায়ের হাতে ফ্যামিলি কার্ড তুলে দেওয়া হবে। একই সঙ্গে আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে দেশের প্রতিটি উপজেলা হাসপাতালকে ১০১ শয্যায় উন্নীত করার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। লবণ চাষিদের জন্য কৃষক কার্ড দেওয়ার ঘোষণা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শুধু ধান, পাট বা অন্যান্য ফসলের চাষিরাই নন, লবণ চাষিরাও কৃষক কার্ড পাবেন।
তাদের কষ্ট লাঘবে শিগগিরই লবণের নতুন মূল্য নির্ধারণ করে তা জানানো হবে। চট্টগ্রামের সমুদ্র উপকূলীয় অঞ্চলে শিল্প-কারখানা স্থাপনের মাধ্যমে ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টির পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, মীরসরাই থেকে মাতারবাড়ী পর্যন্ত সমুদ্রসম্পদকে কাজে লাগিয়ে বিভিন্ন শিল্প-কারখানা স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। চীনা বিনিয়োগের মাধ্যমে চট্টগ্রামে কয়েকশ মিল-কারখানা স্থাপনের সম্ভাবনার কথাও উল্লেখ করেন তিনি। বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকট প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘদিনের অপরিকল্পিত জ্বালানি ও বিদ্যুৎ ব্যবস্থাকে জনগণের স্বার্থে পুনর্গঠনে সময় লাগবে।
আগামী ১০ বছরের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি পরিকল্পনা জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করা হবে বলে জানান তিনি। দেশে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশে বিশৃঙ্খলা থাকলে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীরা বিনিয়োগ করতে চাইবেন না। তাই যারা বিভ্রান্তি ছড়িয়ে জনগণের শান্তি নষ্ট করতে চায়, তাদের বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আর পিছনে পড়ে থাকা যাবে না। এখন একটিই লক্ষ্য, একটিই উদ্দেশ্য—জনগণের জীবনমান উন্নত করা, দেশের ভাগ্যের পরিবর্তন করা।’ তিনি বলেন, সরকারের লক্ষ্য শুধু দুস্থ মানুষকে সাময়িক সহায়তা দেওয়া নয়, কর্মসংস্থানের মাধ্যমে তাদের স্বাবলম্বী করে তোলা।
দেশের তরুণ সমাজকে প্রশিক্ষণ দিয়ে দেশে ও বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা হবে বলেও জানান তিনি। বাঁশখালীর বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের ঘর হস্তান্তর অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলুসহ সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
