সমকাল
দৈনিক সমকালের প্রধান শিরোনাম ‘গ্যাস বাড়লেও কাটেনি বিদ্যুৎ সংকট, দিনরাত লোডশেডিং’। প্রতিবেদনে বলা হয়, কক্সবাজারের মহেশখালীর ক্ষতিগ্রস্ত ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল থেকে জাতীয় গ্রিডে আংশিক গ্যাস সরবরাহ শুরু হলেও বিদ্যুৎ সংকট কাটেনি। বরং দিনের পাশাপাশি এখন মধ্যরাতেও লোডশেডিং হচ্ছে। সরকারি ছুটির দিন গতকাল শনিবার দেশের বিভিন্ন এলাকায় দুই হাজার থেকে প্রায় তিন হাজার মেগাওয়াট পর্যন্ত বিদ্যুৎ ঘাটতি ছিল।
বিদ্যুৎ খাত-সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, গতকাল বিকেল ৫টায় দেশে বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১৮ হাজার ৮৯৬ মেগাওয়াট। ওই সময় লোডশেডিং করা হয় দুই হাজার ৫৩৪ মেগাওয়াট। এর আগে বিকেল ৩টায় ১৫ হাজার ৩৭৭ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে লোডশেডিং ছিল দুই হাজার ৯৫৮ মেগাওয়াট।
সাধারণত সকালে বিদ্যুতের চাহিদা তুলনামূলক কম থাকায় লোডশেডিং কম হয়। তবে গতকাল সকালে পরিস্থিতি স্বাভাবিক ছিল না। সকাল ৯টায় ১৩ হাজার ৭৩৯ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে এক হাজার ৫০৫ মেগাওয়াট লোডশেডিং করতে হয়েছে। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে মধ্যরাতের বিদ্যুৎ সংকট। গত শুক্রবার রাত ৩টায় ১৪ হাজার ৪০৭ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে লোডশেডিং ছিল দুই হাজার ৪৩২ মেগাওয়াট। অর্থাৎ, দিনের ব্যস্ত সময়ের পাশাপাশি রাতেও বিদ্যুৎ সরবরাহে বড় ঘাটতি দেখা দিচ্ছে।
এর আগে বৃহস্পতিবার দিনের পরিস্থিতি তুলনামূলক ভালো ছিল। ওই সময় লোডশেডিং ছিল ৩০০ থেকে ৪০০ মেগাওয়াটের মধ্যে। কিন্তু এক দিনের ব্যবধানেই পরিস্থিতির বড় অবনতি হয়েছে।
বিদ্যুৎ উৎপাদনে গ্যাস সরবরাহ কমে যাওয়াই সংকটের অন্যতম কারণ বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। বিদ্যুৎকেন্দ্রে যেখানে আগে দৈনিক ৯৯ থেকে ১০০ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হতো, বর্তমানে দেওয়া হচ্ছে প্রায় ৬৮ কোটি ঘনফুট। ফলে গ্যাসনির্ভর বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদন করতে পারছে না। এ ছাড়া পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি ইউনিট বন্ধ থাকায় মাত্র ৪০০-৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে।
এদিকে মহেশখালীর ক্ষতিগ্রস্ত এলএনজি টার্মিনাল থেকে বৃহস্পতিবার রাত ৩টা ১০ মিনিটে আবার জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ শুরু হয়েছে। বর্তমানে টার্মিনালটি থেকে প্রায় ২৮ কোটি ঘনফুট গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে। দ্বিতীয় বয়লার চালু হলে আরও প্রায় ৩০ কোটি ঘনফুট গ্যাস গ্রিডে যুক্ত হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান মো. আব্দুল মান্নান জানিয়েছেন, টার্মিনালটি পুরোপুরি সচল হলে গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে। এরই মধ্যে প্রয়োজনীয় এলএনজি কার্গোর সরবরাহও নিশ্চিত করা হয়েছে।
দুর্ঘটনার আগে জাতীয় গ্রিডে প্রতিদিন প্রায় ২৬৫ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হতো। গত ২১ জুলাই মহেশখালীর এলএনজি টার্মিনালে আগুন লাগার পর তা কমে প্রায় ২১২ কোটি ঘনফুটে নেমে আসে। বর্তমানে সরবরাহ বেড়ে প্রায় ২৩৬ দশমিক ৭ কোটি ঘনফুট হয়েছে। তবে দৈনিক প্রায় ৩৮০ কোটি ঘনফুট চাহিদার তুলনায় সরবরাহ এখনও অনেক কম।
প্রথম আলো
‘ব্রিকস সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর না যাওয়া প্রায় নিশ্চিত’-এটি দৈনিক প্রথম আলোর প্রথম পাতার খবর। প্রতিবেদনে বলা হয়, দিল্লিতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে সাংবাদিকদের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময়ের সুযোগ করে দেওয়ার পর বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কে নতুন উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। এরই মধ্যে আগামী ১২-১৩ সেপ্টেম্বর দিল্লিতে অনুষ্ঠেয় ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের আউটরিচ পর্বে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অংশ না নেওয়াটা প্রায় নিশ্চিত হয়ে গেছে।
বাংলাদেশ সরকারের একাধিক উচ্চপর্যায়ের সূত্র গতকাল শনিবার প্রথম আলোকে জানিয়েছে, সাম্প্রতিক পরিস্থিতির পর ব্রিকস আউটরিচে প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণের সম্ভাবনা কার্যত শেষ।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বিমসটেকের বর্তমান চেয়ারম্যান হিসেবে তারেক রহমানকে ওই অধিবেশনে অংশ নেওয়ার আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। গত ১৪ জুলাই ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনের মাধ্যমে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে একটি কূটনৈতিক পত্র পাঠিয়ে এ আমন্ত্রণ জানানো হয়।
অর্থনৈতিক দিক দিয়ে উদীয়মান ১১টি দেশের জোট ব্রিকস। বিমসটেক হলো বঙ্গোপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোর সহযোগিতা জোট। ব্রিকসের আউটরিচ পর্বে সাধারণত সদস্য নয়—এমন নির্বাচিত দেশ ও আঞ্চলিক সংস্থার নেতাদের অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হয়।
ঢাকা ও দিল্লির কূটনৈতিক সূত্র বলছে, সাম্প্রতিক উত্তেজনা যাতে দীর্ঘস্থায়ী সংকটে রূপ না নেয়, সে জন্য সম্পর্ক স্বাভাবিক করার উপায় খুঁজছে দুই দেশ। উদ্ভূত পরিস্থিতি কীভাবে সামাল দিয়ে পারস্পরিক আস্থা পুনর্গঠন করা যায়, সে বিষয়ে দুই দেশই যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছে।
এ প্রেক্ষাপটে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে ঢাকায় ভারতের নবনিযুক্ত হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর প্রথম সৌজন্য সাক্ষাৎকে তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। আগামীকাল সোমবার এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। এর আগে আজ রোববার পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের সঙ্গে ভারতের হাইকমিশনারের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।
কূটনৈতিক সূত্রগুলোর মতে, সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে দুই পক্ষের অবস্থান ও পরবর্তী করণীয় নিয়ে এসব বৈঠকে আলোচনা হতে পারে।
কূটনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পর বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ককে নতুন ভিত্তিতে এগিয়ে নেওয়ার যে সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল, তা বাস্তবে প্রত্যাশিত গতি পায়নি। সম্পর্কের নতুন অধ্যায়ের কথা বলা হলেও পারস্পরিক আস্থা তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক উদ্যোগে ঘাটতি ছিল বলে পর্যবেক্ষক মহল মনে করে। সাম্প্রতিক উত্তেজনার পর সেই ঘাটতি কাটিয়ে সম্পর্ককে কীভাবে এগিয়ে নেওয়া যায়, সেটিই এখন দুই দেশের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ।
সরকারি সূত্রগুলোর ভাষ্য, গত বুধবার দিল্লিতে শেখ হাসিনার অনুষ্ঠানের পর বাংলাদেশ আনুষ্ঠানিকভাবে কড়া ভাষায় নিজেদের অবস্থান জানায়। দিল্লিতে সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়ের সুযোগ দেওয়াকে সরকার ইতিবাচকভাবে নেয়নি—বিষয়টি স্পষ্টভাবে ভারতের কাছে তুলে ধরা হয়েছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বাংলাদেশ বলেছে, পলাতক দণ্ডপ্রাপ্ত গণহত্যাকারী শেখ হাসিনাকে নয়াদিল্লিতে সরাসরি গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলার অনুমতি দেওয়ায় বাংলাদেশ ক্ষুব্ধ হয়েছে। সেখানে তিনি এবং তাঁর সহযোগীরা বাংলাদেশ রাষ্ট্র ও এর জনগণের বিরুদ্ধে বিষাক্ত ঘৃণা ছড়িয়েছেন।
এরপর শুক্রবার ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত ব্রিফিংয়ে দেশটির মুখপাত্র রণধীর জয়সোয়ালের বক্তব্যকে ঢাকায় ইতিবাচকভাবে দেখা হচ্ছে। এক প্রশ্নের জবাবে জয়সোয়াল বলেন, ওই মঞ্চ থেকে যা কিছু বলা হয়েছে, বিশেষ করে বাংলাদেশের বৈধভাবে গঠিত সরকারের বিরুদ্ধে, তা ভারত সরকার অনুমোদন করে না।
বাংলাদেশের কূটনৈতিক মহলের মতে, ভারতের এ অবস্থান ইঙ্গিত দিচ্ছে যে সাম্প্রতিক উত্তেজনা সত্ত্বেও দুই দেশ সম্পর্ককে আরও অবনতির দিকে নিতে আগ্রহী নয়। পারস্পরিক শ্রদ্ধা, মর্যাদা, অভিন্ন স্বার্থ এবং একে অন্যের সংবেদনশীল বিষয়ে সতর্ক থাকার ভিত্তিতে সম্পর্ককে নতুন করে এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ এখনো রয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সতর্কবার্তা
দিল্লিতে অবস্থানরত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার রাজনৈতিক তৎপরতা নিয়ে ভারতকে সতর্ক করে দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। গতকাল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এক অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, ভারত যদি গণ-অভ্যুত্থানের মুখে পালিয়ে যাওয়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে সেখানে বসে রাজনৈতিক তৎপরতা চালানোর সুযোগ দেয়, তাহলে বাংলাদেশের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক নিয়ে ভারতকে নতুন করে ভাবতে হবে।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তি অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘আপনারা হাসিনা কার্ড খেলবেন আর বাংলাদেশের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক চাইবেন; মনে রাখতে হবে, দুটো বিপরীত। আশা করি, ভারতের কর্তৃপক্ষ ও ভারত সরকার বিষয়টি বুঝবে।’
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ভারতকে শেখ হাসিনার রাজনৈতিক বক্তব্য দেওয়া এবং বাংলাদেশবিরোধী কর্মকাণ্ডে সমর্থন না দেওয়ার আহ্বান জানান। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ প্রতিবেশী ভারতের সঙ্গে পারস্পরিক নির্ভরতা ও সার্বভৌমত্বের ভিত্তিতে বন্ধুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখতে চায়।
এদিকে ভারতের প্রভাবশালী ইংরেজি দৈনিক দ্য হিন্দুর কূটনীতি–বিষয়ক সম্পাদক সুহাসিনি হায়দার গতকাল এক এক্সপ্লেইনারে বর্তমান উত্তেজনার পরিপ্রেক্ষিতে ইতিবাচক পথে এগিয়ে যাওয়ার পক্ষে মত দিয়েছেন। তাঁর মতে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজের দেশে ফিরবেন, নাকি তৃতীয় কোনো দেশে যাবেন—এটা একান্তভাবে তাঁর নিজের সিদ্ধান্ত। তবে এ মুহূর্তে যে উত্তেজনা বিরাজ করছে, তার ঊর্ধ্বে উঠে বাংলাদেশের সঙ্গে সুসম্পর্কের বিষয়ে ভারতকে মনোযোগী হতে হবে বলে মনে করেন তিনি।
যুগান্তর
দৈনিক যুগান্তরের প্রধান শিরোনাম ‘জটিলতায় ঢাকা দিল্লি সম্পর্ক’। প্রতিবেদনে বলা হয়, ভারতের দিল্লিতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সংবাদ সম্মেলন এবং রাজনৈতিক বক্তব্য দেওয়াকে কেন্দ্র করে ক্রমেই জটিল হয়ে উঠেছে ঢাক-দিল্লির সম্পর্ক। এ আয়োজনের কয়েকদিন আগেই সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে দিল্লিতে যেন সংবাদ সম্মেলনটি না হয়, সে বিষয়ে ভারতের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছিল। এতে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে প্রভাব পড়তে পারে, জানানো হয়েছিল সেই আশঙ্কার কথা। তারপরও ঢাকার অনুরোধকে গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। এখন শেখ হাসিনার রাজনৈতিক বক্তব্য প্রদানের দায় দিল্লিকেই নিতে হবে বলেছেন সরকারের উচ্চমহল, কূটনৈতিক বিশ্লেষক ও বিশিষ্টজনরা। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র দুই দফায় এ বিষয়ে ভারত সরকারের কোনো দায় নেই বললেও বিশ্লেষকরা বলছেন, এর সম্পূর্ণ দায় দিল্লিকেই নিতে হবে। কূটনৈতিক শিষ্টাচার ও প্রথা না মেনে এমনটা করা হয়েছে। উসকানিমূলক এমন আচরণ বন্ধ না হলে ভারত-বাংলাদেশ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক দীর্ঘ চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে বলে মনে করছেন তারা।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ শনিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাদা দল ও ইউট্যাব আয়োজিত ‘জুলাই অভ্যুত্থানে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের ভূমিকা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় বলেন, দিল্লিতে অবস্থান করে শেখ হাসিনা বাংলাদেশের রাজনীতি নিয়ে যে বক্তব্য এবং রাজনৈতিক তৎপরতা চালাচ্ছেন, এর দায় ভারত এড়াতে পারে না। একই সঙ্গে একজন সাবেক স্বৈরশাসক ও মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে ভারতে বসে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ দেওয়ার বিষয়েও বাংলাদেশের আপত্তি রয়েছে।
তিনি প্রশ্ন তোলেন, গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে অবস্থান এবং মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ থাকা একজন রাজনৈতিক নেতাকে ভারত কীভাবে গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির নেতা হিসাবে বিবেচনা করতে পারে। তার অভিযোগ, শেখ হাসিনা দিল্লিতে বসে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক পরিবেশের বিরুদ্ধে এবং দেশে অস্থিরতা তৈরির মতো বক্তব্য দিয়ে যাচ্ছেন। এ ধরনের রাজনৈতিক তৎপরতার দায়িত্ব ভারত এড়িয়ে যেতে পারে না।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে ভারত বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে চাইলে পারস্পরিক মর্যাদা, সম্মান ও সার্বভৌম সমতার ভিত্তিতে সেই সম্পর্ক এগিয়ে নিতে হবে। শেখ হাসিনাকে ভারতে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালানোর সুযোগ দেওয়া এবং বাংলাদেশের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক-দুটো বিষয় একসঙ্গে চলতে পারে না।
একই আয়োজনে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী প্রশ্ন তোলেন, তারেক রহমানের চীন সফরের কারণেই ভারত ‘হাসিনা কার্ড’ খেলছে কি না। তিনি বলেন, ভারত সরকারের অনুমতি ছাড়া কীভাবে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সংবাদ সম্মেলন সম্ভব, তার স্পষ্ট ব্যাখ্যা দরকার।
বুধবার সন্ধ্যায় ভারতের নয়াদিল্লির ফরেন করেসপনডেন্টস ক্লাব (এফসিসি) অব সাউথ এশিয়ার নির্ধারিত এক প্রেস কনফারেন্সে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে বক্তব্য দেন শেখ হাসিনা। এই আয়োজনের কয়েকদিন আগেই শেখ হাসিনা যেন ভারত থেকে কোনো রাজনৈতিক বক্তব্য না দেন, সে বিষয়ে দেশটির সহযোগিতা চাওয়া হয়েছিল। সোমবার পররাষ্ট্র উপদেষ্টা হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর বৈঠকেও বিষয়টি তোলা হয়। একই দিন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম শেখ হাসিনার রাজনৈতিক বক্তব্য দেওয়ার বিষয়ে ভারতকে তার অবস্থান স্পষ্ট করতে হবে বলে গণমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন। একদিন পর মঙ্গলবার ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল নিয়মিত এক ব্রিফিংয়ে জানান, শেখ হাসিনার বক্তব্য দেওয়ার আয়োজনে ভারত সরকারের কোনো ধরনের সম্পৃক্ততা নেই। তাই এর দায়ও তারা নেবে না।
জাতীয় অধ্যাপক মাহবুব উল্লাহ্ যুগান্তরকে বলেন, শেখ হাসিনাকে প্রশ্রয়, তার ইচ্ছামতো বাংলাদেশের বিরুদ্ধে রাজনীতি করতে দিয়ে অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা ভারত সরকারের, যা এক ধরনের উসকানিমূলক আচরণ। এর ফলে দুই দেশের সম্পর্কের উন্নতি দীর্ঘ সময়েও ফিরে আসবে বলে মনে হচ্ছে না। ভারত যদি দুই দেশের সম্পর্কের উন্নতি চায়, তাহলে এ ধরনের উসকানিমূলক আচরণ থেকে বিরত থাকতে হবে। তারা এখন যা করছে, তা কূটনৈতিক রীতিনীতি ও শিষ্টাচারের সম্পূর্ণ বিরোধী।
সাবেক রাষ্ট্রদূত এম হুমায়ুন কবির বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতের মেহমান। ভারত তাকে সেভাবেই দেখে। মেহমান বেড়াতে এসে যদি এমন কাজ করে, যাতে অন্যের সঙ্গে আপনার সম্পর্ক খারাপ হয়, তাতে আপনার দায় নেই-এমনটা বলা যাবে না। দায় ভারতের অবশ্যই আছে এবং সে বিষয়ে তাদের সতর্ক হওয়ার প্রয়োজন ছিল। সরকারের সম্পৃক্ততা নেই-এমন কথা ভারতের দিক থেকে বলা হয়েছে। কিন্তু শেখ হাসিনা কোনো টেকনিক্যাল ইস্যু নয় রাজনৈতিক ইস্যু।
সাবেক এই কূটনীতিক আরও বলেন, এ ঘটনায় দুই দেশের সম্পর্কে জটিলতা সৃষ্টির আশঙ্কা আছে। কারণ, বিষয়টি বাংলাদেশের মানুষ, সরকার ও রাজনৈতিক দলগুলোকে হিট করছে। কাজেই এতগুলো জায়গাকে নেতিবাচকভাবে ঠেলে দিয়ে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে গেলে পলিসি লেভেলেও রেজিসট্যান্স ফেস করতে হয়। সরকারের জন্য জটিলতা তৈরি হয়। তাই এ বিষয়ে বাড়তি সতর্কতা দরকার। তা না হলে জটিলতা বাড়ার আশঙ্কা আছে।
পুরো বিষয়টিতে বাংলাদেশ ও ভারত সম্পর্কের বিশ্লেষণে সাবেক রাষ্ট্রদূত মাহবুব হাসান সালেহ যুগান্তরকে বলেন, ৫ আগস্ট বাংলাদেশের মানুষ ও সরকারের জন্য একটি ঐতিহাসিক দিন। এমন একটি দিনে ভারতের দিল্লিতে বসে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রেস কনফারেন্স করা এবং রাজনৈতিক বক্তব্য দেওয়ার দায় ভারত সরকার কোনোভাবেই এড়াতে পারে না। এর সম্পূর্ণ দায় তাদের। ভারত সরকার তাদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়ালের মাধ্যমে জানিয়েছে, এই প্রেস কনফারেন্সে সরকারের দিক থেকে কোনো সম্পৃক্ততা ছিল না। অনুষ্ঠানটি একটি প্রাইভেট আয়োজন। কিন্তু ভারত সরকার চাইলেই এটি বন্ধ করতে পারত, এ বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই। সাধারণত কোনো দেশের রাষ্ট্রদূত বা হাইকমিশনারের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বা সংবেদনশীল বিষয়ে পররাষ্ট্র সচিব কথা বলেন। এক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীকে সংবাদ সম্মেলনটি যেন করার অনুমতি না দেওয়া হয়, সে বিষয়ে অনুরোধ করেছিলেন। বলেছিলেন, শেখ হাসিনা রাজনৈতিক বক্তব্য দিলে সেটি দুই দেশের সম্পর্কে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র উপদেষ্টা কথা বলার পর বিষয়টির গুরুত্ব ভারত সরকারের অনুধাবন করা উচিত ছিল। তারা সেটি করেনি, অনুষ্ঠানটি বন্ধ করার কোনো উদ্যোগ নেয়নি।
কালের কণ্ঠ
‘আওয়ামী সরকারের ১,৭১২ কোটি টাকার অনিয়ম’-এটি দৈনিক কালের কণ্ঠের প্রথম পাতার খবর। প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রায় দেড় বছর কার্যক্রম বন্ধ। অডিটে এক হাজার ৭১২ কোটি টাকার অনিয়মের অভিযোগ।
দুদকের অনুসন্ধান চলছে। পরিকল্পনা কমিশনও প্রকল্পটি সমাপ্ত করার নির্দেশ দিয়েছিল। কিন্তু সেই প্রকল্পের মেয়াদই আবার দুই বছর বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নতুন সংশোধিত প্রস্তাবে অব্যয়িত ৫২৮ কোটি ৬৫ লাখ টাকা দিয়ে নতুন কিছু কার্যক্রম যুক্ত করার প্রস্তাব করা হয়েছে।
ফলে দুর্নীতির অভিযোগে প্রশ্নবিদ্ধ ‘সমন্বিত ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে কৃষি যান্ত্রিকীকরণ’ প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানো নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ২০২০ সালের জুলাইয়ে তিন হাজার ২০ কোটি টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ে প্রকল্পটি নেওয়া হয়। নির্ধারিত মেয়াদ ছিল ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত। লক্ষ্য ছিল ৫১ হাজার ৩০০টি কৃষিযন্ত্র কৃষকদের মধ্যে বিতরণ করা।
অনুন্নত এলাকা ও হাওরাঞ্চলে ৭০ শতাংশ এবং অন্যান্য এলাকায় ৫০ শতাংশ ভর্তুকিতে হার্ভেস্টারসহ ১২ ধরনের কৃষিযন্ত্র দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল। এর মাধ্যমে চাষাবাদের ব্যয় ২০ শতাংশ কমানো, কৃষিকাজে সময় ৫০ শতাংশ সাশ্রয়, ফসলের অপচয় ১০ থেকে ১৫ শতাংশ কমানো এবং উৎপাদনশীলতা ও শ্রম দক্ষতা বাড়ানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়।
কিন্তু বাস্তবায়নের পথে প্রকল্পটি একের পর এক অনিয়মের অভিযোগে জড়িয়ে পড়ে। কৃষি ও পরিবেশ অডিট অধিদপ্তরের ২৬টি আপত্তিতে এক হাজার ৭১২ কোটি ৫৪ লাখ টাকার অনিয়মের অভিযোগ তোলা হয়েছে। প্রকল্পের মোট ব্যয় তিন হাজার ২০ কোটি টাকা হলেও জুন ২০২৫ পর্যন্ত ব্যয় হয়েছে দুই হাজার ৪৯১ কোটি ৪১ লাখ ৬৮ হাজার টাকা, অর্থাৎ মোট প্রাক্কলিত ব্যয়ের ৮২.৫০ শতাংশ। এই সময়ে বাস্তব অগ্রগতি হয়েছে ৮১.০৭ শতাংশ। অর্থাৎ বিপুল অর্থ ব্যয়ের পরও পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি প্রকল্পের কাজ।
ডিপিপির বাইরে অবৈধভাবে ৩১২ কোটি টাকা ব্যয়
সবচেয়ে বড় প্রশ্ন উঠেছে অনুমোদিত প্রকল্পের বাইরে অবৈধভাবে করা ব্যয় নিয়ে। সংশোধিত আরডিপিপির ব্যয় বিভাজনে ‘ডিপিপি সংস্থান বহির্ভূত উন্নয়ন সহায়তা কার্যক্রমে অতিরিক্ত ব্যয়’ নামে ৩১২ কোটি ৩৮ লাখ টাকা সংস্থানের প্রস্তাব করা হয়েছে। অর্থাৎ অনুমোদিত মূল প্রকল্পে যেসব কার্যক্রমের জন্য অর্থ বরাদ্দ ছিল না, সেসব খাতে এরই মধ্যে যে অতিরিক্ত ব্যয় হয়েছে, সেটি এখন সংশোধিত প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা চলছে।
প্রকল্পের টাকায় কোন খাতে কত ব্যয়
প্রস্তাবিত সংশোধিত ব্যয় বিভাজনেও বিভিন্ন খাতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন দেখা গেছে। কর্মকর্তাদের বেতন ও ভাতাদি খাতে ২৪ কোটি ৪৮ লাখ টাকা, প্রশিক্ষণ, উদ্বুদ্ধকরণ, ভ্রমণ ও কৃষি মেলার জন্য ৭৩ কোটি ৪৯ লাখ টাকা, কর্মশালা ও সেমিনারে এক কোটি ৭৭ লাখ টাকা এবং স্থানীয় পরামর্শক ও কৃষি যান্ত্রিকীকরণ বিশেষজ্ঞের জন্য ৩৬ লাখ টাকা প্রস্তাব করা হয়েছে।
সমন্বিত যান্ত্রিক খামারে বীজ সহায়তা ও প্রযুক্তি প্রদর্শনী খাতে ব্যয় ২৩ কোটি ১৭ লাখ টাকা করার প্রস্তাব রয়েছে। সরবরাহ ও সেবায় ১৮ কোটি এক লাখ টাকা এবং অনিয়মিত শ্রমিক মজুরিতে তিন কোটি ৯৬ লাখ টাকা প্রস্তাব করা হয়েছে। পরিবহন ব্যয়ও বাড়িয়ে তিন কোটি ১২ লাখ টাকার প্রস্তাব করা হয়েছে।
ইত্তেফাক
‘লক্ষাধিক শিক্ষক-কর্মচারীর চার বছরের মানবেতর জীবনের অবসান ঘটানোর উদ্যোগ’-এটি দৈনিক ইত্তেফাকের প্রথম পাতার খবর। প্রতিবেদনে বলা হয়, শিক্ষাক্ষেত্রে জীবন উত্সর্গ করার পর অবসরে এসে নিজেদের ন্যায্য পাওনার জন্য অসহায়ভাবে অপেক্ষা করতে বাধ্য হওয়ায় এমপিওভুক্ত স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের মধ্যে গভীর হতাশা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। অবসরে গিয়ে চিকিত্সা, সংসার পরিচালনা বা সন্তানের লেখাপড়ার ব্যয় মেটাতে অনেকেই ঋণে জর্জরিত। চার বছরের বেশি সময় ধরে অবসর ও কল্যাণ ট্রাস্টের পাওনা না পেয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন লক্ষাধিক শিক্ষক-কর্মচারী। শতাধিক শিক্ষক-কর্মচারী প্রাপ্য পাওয়ার আগেই মারা গেছেন। ছয় মাসের মধ্যে অবসরকালীন সুবিধা প্রদানের জন্য হাইকোর্টের একটি নির্দেশও রয়েছে। কিন্তু বাস্তবে সেই নির্দেশ মানা হয়নি। অবশেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চরম দুর্দশার মুখে পড়া এসব শিক্ষক-কর্মচারীর পাশে দাঁড়িয়েছেন। তাদের অবসর ও কল্যাণের টাকা পরিশোধে এককালীন ২ হাজার কোটি টাকা বিশেষ থোক বরাদ্দ দেওয়ার সিদ্ধান্ত দিয়েছেন। অতি দ্রুত এই টাকা ছাড়ের জন্য অর্থ মন্ত্রণালয়কে নির্দেশও দেন প্রধানমন্ত্রী। আগামী ১৫ আগস্ট অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা একযোগে পাচ্ছেন অবসর-কল্যাণের টাকা। রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এ কর্মসূচির উদ্বোধন করার কথা রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
জানা গেছে, মহতি এই উদ্যোগের আওতায় অবসর সুবিধা বোর্ডের ৭০ হাজার এবং কল্যাণ ট্রাস্টের ৪৪ হাজার শিক্ষক-কর্মচারী অর্থ পেতে পারেন। এ বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরতে আগামী ১৩ আগস্ট শিক্ষামন্ত্রীর সংবাদ সম্মেলন করার কথা রয়েছে। জানা গেছে, এবার প্রথম বারের মতো ‘আইবাস প্লাস প্লাস’ (সফটওয়্যার)-এর মাধ্যমে সরাসরি উপকারভোগীদের ব্যাংক হিসাবে অর্থ পাঠানো হবে। এতে দালাল বা মধ্যস্বত্বভোগীর কোনো সুযোগ থাকবে না। শিক্ষক নেতারা বলেন, সরকারের এই ঐতিহাসিক উদ্যোগের ফলে জীবনের শেষ বয়সে চরম আর্থিক ও চিকিত্সাসংকটে থাকা শিক্ষক-কর্মচারীদের জীবনে বড় ধরনের স্বস্তি ফিরে আসবে। সংশ্লিষ্টদের মতে, অবসর সুবিধা বোর্ড ও শিক্ষক-কর্মচারী কল্যাণ ট্রাস্টের ইতিহাসে এটিই সবচেয়ে বড় এককালীন অর্থ বিতরণ কর্মসূচি।
কেন এত দিন আটকে ছিল : অবসর ও কল্যাণ সুবিধার টাকার বড় একটি অংশ নেওয়া হয় এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের কাছ থেকেই। অবসর সুবিধার জন্য চাকরিকালীন তাদের মূল বেতনের ৬ শতাংশ টাকা মাসে কেটে রাখা হয়। কল্যাণ সুবিধার জন্য কাটা হয় মূল বেতনের ৪ শতাংশ। এছাড়া সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী শিক্ষার্থীদের কাছ থেকেও বছরে ১০০ টাকা নেওয়া হয়। এর মধ্যে ৭০ টাকা অবসর তহবিলে এবং ৩০ টাকা কল্যাণ তহবিলে জমা হয়। বাকি অর্থ সরকারি সহায়তা ও তহবিলের বিনিয়োগ থেকে অর্জিত আয় দিয়ে সমন্বয় করা হয়। কিন্তু গত ১৭ বছরে সেই জামানতের অনেক টাকাই বেহাত হয়েছে। আবার দুর্বল ব্যাংকেও অনেক টাকা আটকে রয়েছে। এছাড়া আগের সরকারের পক্ষ থেকে প্রতি বছর বাজেটে বরাদ্দ না দেওয়ায় অবসর বোর্ডে প্রতি মাসে ঘাটতি ছিল ৪২ কোটি টাকা। অন্যদিকে কল্যাণ ট্রাস্টে প্রতি মাসে ঘাটতি থেকে যায় ১৩ কোটি টাকা। এ কারণে নিষ্পত্তির অপেক্ষায় থাকা শিক্ষক-কর্মচারীর আবেদন জমা বাড়তে থাকে। অথচ শেষ জীবনের সম্বল বলতে তাদের অবসর বোর্ড ও কল্যাণ ট্রাস্টের এককালীন টাকা। শেষ জীবনে শিক্ষকরা হজ করা, নিজের চিকিত্সা, দৈনন্দিন প্রয়োজন মেটানো, মেয়ের বিয়ে বা ছেলেকে ব্যবসা ধরিয়ে দিতে এই টাকার ওপরই ভরসা রাখেন। কিন্তু ২০২২ সাল থেকে যেসব শিক্ষক অবসরে গেছেন, তারা অবসর-কল্যাণের টাকা না পেয়ে রয়েছেন চরম ভোগান্তিতে। এই টাকা পেতে তারা দ্বারে দ্বারে ঘুরছিলেন। বিএনপি সরকারের মেয়াদ ছয় মাস পূর্ণ হওয়ার আগেই প্রধানমন্ত্রী তাদের টাকা পরিশোধের অনন্য উদ্যোগ নিয়েছেন। বেসরকারি শিক্ষকদের জন্য তার এই উদ্যোগ বাংলাদেশের ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে বলে মনে করছে শিক্ষকসমাজ।
নয়া দিগন্ত
দৈনিক নয়া দিগন্তের প্রথম পাতার খবর ‘বড় ধরনের সাইবার ঝুঁকিতে দেশ’। প্রতিবেদনে বলা হয়, ভয়াবহ সাইবার ঝুঁকিতে পড়েছে দেশ। সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে বাদ যাচ্ছেন না আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরাও। এমনকি পুলিশ সদর দফতরসহ বিভিন্ন সংস্থার দফতরগুলোকেও টার্গেট করে ছড়ানো হচ্ছে অপরাধমূলক ভুয়া তথ্য। এসব সাইবার অপরাধ দমনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে নানামুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হলেও তা অপ্রতুল।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আগামী পাঁচ বছরে এআইবেজড ফ্রড, ডিপফেক ব্ল্যাকমেইল, ফিন্যান্সিয়াল ফিসিং, মোবাইল ব্যাংকিং ফ্রড, র্যানসমওয়্যার, ক্রিটিকাল ইনফ্রাসট্রাকচার অ্যাটাক এবং অনলাইন র্যাডিক্যালাইজেশন, ডার্ক ওয়েবভিত্তিক ডাটা বা তথ্য কেনাবেচার মতো অপরাধগুলো বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি বাড়তে পারে। এ ব্যাপারে জরুরি ব্যবস্থা না নিলে বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।
একসময় পুলিশের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল চুরি, ডাকাতি ও হত্যাকাণ্ড। পরে যুক্ত হয় মাদক, ছিনতাইসহ অন্যান্য অপরাধ। কিন্তু বর্তমানে সে সব অপরাধের সাথে যুক্ত হয়েছে সাইবার অপরাধ। এখন অপরাধের বড় অংশ ঘটছে অনলাইন দুনিয়াতে। অপরাধীরা এখন ভিপিএন, টর ব্রাউজার, এনক্রিপ্টেড মেসেজিং অ্যাপ, ভার্চুয়াল নম্বর, ফেক এনআইডি দিয়ে সিম, ক্রিপ্টো পেমেন্ট, এআই জেনারেটেড ভয়েস-ভিডিও, ডিপফেক, ফিশিং কিট, রিমোট অ্যাকসেস টুল এবং ডার্কওয়েব মার্কেটপ্লেস ব্যবহার করছে। কয়েক মিনিটের মধ্যে মোবাইল ফোন ব্যবহার করে হাতিয়ে নিচ্ছে টাকা। বিদেশে বসে পরিচালিত হচ্ছে অনলাইন জুয়া, হুন্ডি, মানবপাচার এবং সাইবার জালিয়াতি। প্রযুক্তি ব্যবহার করে অপরাধীরা অনেক ক্ষেত্রে পুলিশকেও গোলকধাঁধায় ফেলে দিচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন দফতরের নাম ব্যবহার করেও সাধারণ নাগরিকদের প্রতারিত করা এখন নিত্যদিনের ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে।
পুলিশ সূত্র বলছে, বর্তমানে তাদের যে প্রযুক্তি ও ডিভাইস রয়েছে তা দিয়ে সাইবার জগতের ওপরের স্তর নিয়ে কাজ করতে পারলেও নানা কারণে ‘ডার্ক ওয়েব’ থেকে তথ্য নেয়া এখনো সম্পূর্ণরূপে সম্ভব হয় না। ফলে অপরাধীদের সুরক্ষিত অ্যাপ ব্যবহারের তথ্য-প্রমাণ পেতে পুলিশের কাউন্টার পার্ট হিসেবে উন্নত অনেক দেশের সহযোগিতা চাওয়া হয়, যা সময়সাপেক্ষ ব্যাপার। তবে সাইবার অপরাধকে গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করে বাহিনীর প্রতিটি ইউনিটকে ঢেলে সাজানোর কাজ চলছে। আমদানি করা হচ্ছে নতুন নতুন ডিভাইসসহ বিভিন্ন সফটওয়ার।
পুলিশ সদর দফতর সূত্র জানিয়েছে, দেশে-বিদেশে নিরাপত্তা হুমকির ধরন দ্রুত বদলাচ্ছে। ফলে প্রচলিত নিরাপত্তাব্যবস্থা আধুনিকায়ন করা জরুরি। এ ব্যাপারে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো এটিইউর নাম পরিবর্তনসংক্রান্ত প্রস্তাবনায় পুলিশে নিরাপত্তা ব্যবস্থার আধুনিকায়নের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে। প্রযুক্তি পরিবর্তনের দিকে লক্ষ্য রেখে পুলিশের সব উইং এখন প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধির দিকে বিশেষভাবে মনোযোগ দিচ্ছে।
অনলাইন জিডি, ডিজিটাল পুলিশ ক্লিয়ারেন্স, জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯, সিসি ক্যামেরা বিশ্লেষণ, সাইবার ক্রাইম তদন্ত, ডিজিটাল ফরেনসিক এবং তথ্যভিত্তিক অপরাধ বিশ্লেষণের মতো উদ্যোগ পুলিশের সেবা আগের চেয়ে অনেক বেশি প্রযুক্তিনির্ভর করেছে। সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমাতে ধাপে ধাপে চালু করা হয়েছে একাধিক ডিজিটাল সেবা। পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটে যুক্ত হয়েছে ডিজিটাল কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোলব্যবস্থা, সিসি ক্যামেরা মনিটরিং, জিপিএস ট্র্যাকিং এবং আধুনিক যোগাযোগ প্রযুক্তি।
বণিক বার্তা
‘চট্টগ্রাম অঞ্চলের বেশির ভাগ বড় প্রকল্পই অসফল’-এটি দৈনিক বণিক বার্তার প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, দেশের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি চট্টগ্রাম। সমুদ্রবন্দর, পাহাড়, নদী ও উপকূলকে ঘিরে গত দেড় দশকে এ অঞ্চলে নেয়া হয়েছে একের পর এক মেগা প্রকল্প।
কর্ণফুলী নদীর তলদেশে টানেল, চট্টগ্রাম এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, মিরসরাইয়ে দেশের বৃহত্তম অর্থনৈতিক অঞ্চল, মাতারবাড়ী বিদ্যুৎ কেন্দ্র ও বন্দরকেন্দ্রিক অবকাঠামো, কয়েকটি বিসিক শিল্পনগরী এবং বন্দরনগরীর জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পে ব্যয় হয়েছে হাজার হাজার কোটি টাকা। তবে বিপুল বিনিয়োগের বিপরীতে অধিকাংশ প্রকল্পই প্রত্যাশিত ব্যবহার, বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান কিংবা নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করতে পারেনি। কোথাও সুযোগের তুলনায় ব্যবহার কয়েক ভাগ কম, কোথাও গ্যাস-বিদ্যুৎ-পানির সংযোগের অভাব, আবার কোথাও প্রকল্প বাস্তবায়নের পরও মূল সমস্যার সমাধান হয়নি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘমেয়াদি ও সমন্বিত পরিকল্পনার পরিবর্তে রাজনৈতিক স্বার্থ, অতিরঞ্জিত পূর্বাভাস, দুর্বল সম্ভাব্যতা সমীক্ষা, খণ্ডিত উন্নয়ন চিন্তা এবং সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয়হীনতায় চট্টগ্রামের বিভিন্ন বড় প্রকল্পে বিনিয়োগ কাঙ্ক্ষিত ফল দিচ্ছে না। এতে ঋণ, পরিচালন ও রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয়ের বোঝা শেষ পর্যন্ত জনগণের ওপর পড়ছে।
কর্ণফুলী টানেল এমন পরিস্থিতির বড় উদাহরণ। ২০২৩ সালের অক্টোবরে যান চলাচলের জন্য খুলে দেয়া এ টানেলকে ঘিরে ‘ওয়ান সিটি, টু টাউন’ ধারণা বাস্তবায়ন এবং চট্টগ্রামের দক্ষিণাংশে নতুন অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সৃষ্টির প্রত্যাশা ছিল। নির্মাণকালে প্রতিদিন প্রায় ১৮ হাজার যানবাহন চলাচলের পূর্বাভাস দেয়া হয়। কিন্তু বাস্তবে চলছে মাত্র ৪ হাজার। ফলে টোলের আয় দিয়ে টানেল রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয়ের এক-চতুর্থাংশও উঠছে না।
১০ হাজার ৬৮৯ কোটি টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ের এ প্রকল্পে চীনের এক্সিম ব্যাংক থেকে প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকা ঋণ নেয়া হয়েছে। ২০২৫ সাল থেকে ঋণের বার্ষিক কিস্তি পরিশোধ শুরু হয়েছে। আনোয়ারা প্রান্তে প্রায় ৪৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত রিসোর্টও প্রকল্পটির ব্যয়ের যৌক্তিকতা নিয়ে বড় প্রশ্ন তৈরি করেছে।
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অধ্যাপক ড. সামছুল হকের মতে, শুরু থেকেই অতিরঞ্জিত পূর্বাভাসের ভিত্তিতে টানেলকে লাভজনক হিসেবে দেখানো হয়েছিল। শাহ আমানত সেতুর তুলনায় বেশি টোল ব্যবহারকারীদের নিরুৎসাহিত করছে। অন্যদিকে ছিল প্রাক্কলনের তুলনায় প্রায় আড়াই গুণ নির্মাণ ব্যয় এবং বেশি পরিচালন ও রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয়। জনস্বার্থের চেয়ে আমলাতান্ত্রিক বিলাসিতা ও ‘উন্নয়ন প্রদর্শন’কে গুরুত্ব দেয়ার কারণেই এমন ব্যয়বহুল অবকাঠামো তৈরি হয়েছে বলে মনে করেন তিনি।
টানেলের এক-চতুর্থাংশ ব্যয়ে কর্ণফুলীর উজানে একাধিক সেতু ও দুই পাড়ে সমান্তরাল সড়ক নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা গেলে ১২ লেনের যোগাযোগ ব্যবস্থা তৈরি করা সম্ভব হতো বলে বণিক বার্তাকে জানিয়েছেন নগর বিশেষজ্ঞ প্রকৌশলী দেলোয়ার হোসেন মজুমদার।
একই চিত্র চট্টগ্রাম নগরের প্রথম এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের ক্ষেত্রেও। সম্ভাব্যতা সমীক্ষায় ২০২৫ সালে প্রতিদিন গড়ে ৬৬ হাজারের বেশি যানবাহন চলাচলের পূর্বাভাস দেয়া হলেও বাস্তবে চলছে ৭ হাজারের কম। গত ৩ জানুয়ারি আনুষ্ঠানিকভাবে যান চলাচল শুরুর পর প্রথম মাসে টোল আদায় হয়েছে মাত্র ১ কোটি ৪৫ লাখ টাকা। অথচ মাসে ৮ থেকে সাড়ে ৮ কোটি টাকা আয়ের প্রত্যাশা ছিল।
ইনস্টিটিউশন অব ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশ (আইইবি) চট্টগ্রাম কেন্দ্রের সাবেক সভাপতি প্রকৌশলী দেলোয়ার হোসেন মজুমদার বলেন, ‘এক্সপ্রেসওয়ে থেকে প্রাপ্ত টোল থেকে দৈনিক পরিচালন ব্যয়ের এক-তৃতীয়াংশও উঠছে না। ফলে সরকারি ভর্তুকির ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে।’
বিশেষজ্ঞদের মতে, তড়িঘড়ি করে ডিপিপি তৈরি, নকশা ও গন্তব্য পরিবর্তন এবং প্রয়োজনীয় র্যাম্প সময়মতো নির্মাণ না হওয়ায় এক্সপ্রেসওয়েটি পূর্ণ সক্ষমতায় ব্যবহার করা যাচ্ছে না। পর্যাপ্ত সংযোগ না থাকায় মূলত শাহ আমানত বিমানবন্দরগামী সীমিতসংখ্যক যাত্রীই এটি ব্যবহার করছেন।
আজকের পত্রিকা
দৈনিক আজকের পত্রিকার প্রধান শিরোনাম ‘কৃষক কার্ড কার্যক্রমে ধীরগতি ৩ সংকটে’। প্রতিবেদনে বলা হয়, সরকার চলতি আগস্ট মাসে ১০ লাখ এবং চলতি বছরে ৪৭ লাখ কৃষককে কৃষক কার্ডের আওতায় আনার পরিকল্পনা নিয়েছে। এ লক্ষ্যে সারা দেশের সব উপজেলায় একযোগে চলছে কৃষক নিবন্ধন কার্যক্রম। তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নিবন্ধন কার্যক্রমে অর্থছাড়ে বিলম্ব, ডিজিটাল ভূমি রেকর্ড না থাকা এবং লক্ষ্যমাত্রা অনুপাতে কৃষকদের ইন্টারন্যাশনাল ডেবিট কার্ড দিতে ব্যাংকগুলোর অপারগতা–এ তিন কারণে এই কার্ড কার্যক্রমে কাঙ্ক্ষিত গতি নেই।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (ডিএই) সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। অবশ্য কৃষি মন্ত্রণালয়ের সূত্র বলেছে, কৃষক কার্ড বিষয়ে সরকারের বিশেষ অগ্রাধিকার রয়েছে। ফলে সংকটগুলো দ্রুতই সমাধান হবে। ডিপিপি সংশোধন করে কৃষক কার্ডের জন্য ১ হাজার ৪০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, সারা দেশে গতকাল শনিবার পর্যন্ত ১১ লাখ ৪১ হাজার ৩২৪ জন কৃষক নিবন্ধনের আওতায় এসেছেন। কৃষক কার্ডের কার্যক্রম চলছে কৃষি মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন ‘প্রোগ্রাম অন অ্যাগ্রিকালচার অ্যান্ড রুরাল ট্রান্সফরমেশন ফর নিউট্রিশন এন্ট্রাপ্রেনিউরশিপ অ্যান্ড রেসিলিয়েন্স ইন বাংলাদেশ’ প্রকল্পের আওতায়। বিশ্বব্যাংক, ইফাদ এবং বাংলাদেশ সরকারের অর্থায়নের এই প্রকল্পকে সংক্ষেপে ‘পার্টনার’ প্রকল্প বলা হয়। ২০২৩ সালে শুরু হওয়া প্রকল্পটির ডিপিপিতে (উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব) কৃষক কার্ডের জন্য ৭৪১ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছিল। ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থান, সরকার পরিবর্তনসহ বিভিন্ন কারণে কৃষক কার্ড কার্যক্রমে এত দিন গতি আসেনি। গত ফেব্রুয়ারিতে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে ক্ষমতায় আসা বিএনপি সরকার কৃষক কার্ডকে বিশেষ অগ্রাধিকার দিয়েছে। ফলে প্রকল্পসংশ্লিষ্টরা কৃষক কার্ড কার্যক্রম সচলে তোড়জোড় শুরু করেন।
ডিএইর তথ্য অনুসারে, কৃষক কার্ডের পাইলট কার্যক্রমের আওতায় ৫০৩টি উপজেলার ৫০৩টি কৃষি ব্লকে কৃষকদের তথ্য সংগ্রহ শেষ হয়েছে। গত ৩১ জুলাই পর্যন্ত এসব ব্লকে প্রায় ৮ লাখ কৃষক নিবন্ধনের আওতায় এসেছেন। এখন পাশের নতুন ব্লকে নিবন্ধন কার্যক্রম চলছে। গত এপ্রিলে প্রি-পাইলটিং পর্যায়ে আট বিভাগের ১০ জেলার ১১ উপজেলার ১১টি কৃষি ব্লকের ২০ হাজার ৮৩২ কৃষকের মধ্যে কৃষক কার্ড বিতরণ করা হয়েছে।
পার্টনার প্রকল্পের ডিপিপি অনুসারে, সারা দেশে ২ কোটি ২৭ লাখ কৃষক রয়েছেন। চলতি বছরের মধ্যে ৪৭ লাখ কৃষককে কার্ডের আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। কৃষি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, কৃষি খাতে সরকারের দেওয়া ভর্তুকি, ঋণ ও প্রণোদনার মতো সুবিধা সহজলভ্য করতে কৃষকদের কার্ডের আওতায় আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পর্যায়ক্রমে সব কৃষককে এই কার্ডের আওতায় আনা হবে। মৎস্যচাষি ও দুগ্ধ খামারিরাও এ কার্ডের সুবিধা পাবেন।
পার্টনার প্রকল্পের তথ্য অনুসারে, এই প্রকল্পে বরাদ্দ করা ৭৪১ কোটি টাকায় সারা দেশে কৃষক কার্ড করা প্রায় অসম্ভব। নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রকল্পের এক কর্মকর্তা আজকের পত্রিকাকে জানান, নতুন করে ডিপিপি সংশোধন করে কৃষক কার্ডের জন্য ১ হাজার ৪০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। প্রকল্পের তুলনামূলক কম গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম থেকে বরাদ্দ এনে এই টাকার সংস্থান করা হয়েছে। প্রকল্পের বাদ দেওয়া কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের ১০০ কোটি টাকা, রামু অ্যাগ্রো ইকো পার্কের বরাদ্দের ১০০ কোটি টাকা, পূর্বাচলে প্ল্যান্ট কোয়ারেন্টাইন ল্যাব ও প্যাকিং হাউস (প্যাকহাউস) স্থাপনের জন্য বরাদ্দ ২২০ কোটি টাকা ও উপজেলা পর্যায়ে বরাদ্দ করা কৃষক কংগ্রেসের ১৮ কোটি টাকা।
কৃষি মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানায়, পার্টনার প্রকল্পের বরাদ্দ চূড়ান্ত অনুমোদন হতে সময় লাগতে পারে। তাই চলমান কৃষক কার্ডের কার্যক্রমের জন্য সরকারের রাজস্ব খাত থেকে আরও ১ হাজার ৪০০ কোটি টাকা বিশেষ বরাদ্দের জন্য কৃষি মন্ত্রণালয় প্রস্তাব আকারে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠিয়েছে। এই টাকার একটি বড় অংশ কৃষক কার্ডের আওতায় আসা কৃষকদের দেওয়া হবে।
প্রকল্পসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, পার্টনার প্রকল্পের বরাদ্দের টাকায় সোনালী, জনতা ও কৃষি ব্যাংকের মাধ্যমে কৃষকদের ইন্টারন্যাশনাল ডেবিট কার্ড দেওয়া হবে। সরকার চলতি আগস্টের মধ্যে ১০ লাখ কৃষককে কার্ড দেওয়ার পরিকল্পনা করলেও ব্যাংকগুলো বলছে, আগামী তিন মাসে তাঁরা সর্বোচ্চ দেড় লাখ কার্ড দিতে পারবে।
জানতে চাইলে পার্টনার প্রকল্পের কো-অর্ডিনেটর আবুল কালাম আজাদ আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘কৃষক কার্ড কর্মসূচি বাস্তবায়নে আমাদের নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হচ্ছে। মাঠপর্যায়ে তথ্য সংগ্রহের দায়িত্বে থাকা আমাদের কর্মীদের আনুষ্ঠানিক প্রশিক্ষণ বা সরঞ্জাম সরবরাহ করতে পারিনি। আমাদের পরিকল্পনা রয়েছে। বরাদ্দ অনুমোদন হলে আমরা ব্যবস্থা করব।’
দেশ রূপান্তর
‘বিদেশিদের খুশি করতে চাপ বিমানে!’-এটি দৈনিক দেশ রূপান্তরের প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসে সমস্যা কাটছেই না। রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ পরিবহন সংস্থাটিকে লাভজনক প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নানা উদ্যোগ নিলেও কাজের কাজ হচ্ছে না। যে সরকারই আসে, তারাই চাপিয়ে দেয় বোঝা। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বেশকিছু সিদ্ধান্তে নাখোশ ছিল বিমান কর্তৃপক্ষ। অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে লাভের আশা দূরের কথা উল্টো বোয়িং কেনার চুক্তি করা হয়। বর্তমান সরকারও লাভের আশাতেই এয়ার বাস কিনতে যাচ্ছে। চলতি মাসেই ১০টি এয়ার বাস কেনার চুক্তি করার কথা রয়েছে। বিমান কর্তৃপক্ষ বলছে, বিদেশিদের খুশি করতেই বিমানকে চাপ দিচ্ছে সবাই। এ নিয়ে তারা ক্লান্ত, ক্ষুব্ধ ও হতাশ।
অ্যাভিয়েশন বিশ্লেষকদের মতে, বিমানের লাভজনক হওয়ার চেয়ে লোকসানি প্রতিষ্ঠান হওয়ার আশঙ্কাই বেশি। বিমানবহরের জন্য একসঙ্গে ২৪টি বোয়িং ও এয়ার বাস কেনা ঠিক হচ্ছে না, যা করা দরকার তা ধীরে-সুস্থে করা দরকার। উড়োজাহাজগুলো একসঙ্গে আসবে না বটে, তবে উভয় সংস্থার পাওনা কিন্তু একই সময়ে পরিশোধ করতে হবে, যা বিমানের ওপর বিশাল আর্থিক চাপ তৈরি করবে। বরং বিমানকে লাভজনক করার পরিকল্পনা সাজাতে হবে। বিদেশিদের খুশি করা নয়, বরং দেশের কদর বাড়াতে হবে। বন্ধ রুটগুলো চালু করতে হবে। দুর্নীতি বন্ধ করতে হবে। ব্যাংক ঋণ কমাতে হবে। রাজনৈতিক প্রভাব কমিয়ে পেশাদারত্ব বাড়াতে হবে। এগুলো করতে পারলে বিমান লাভজনক প্রতিষ্ঠান হয়ে উঠবে; বিদেশি এয়ারলাইনসগুলোর সঙ্গে প্রতিযোগিতায় নামতে পারবে।
বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘বিমানকে আধুনিক মিক্সড ফ্লিটে রূপান্তরের চেষ্টা চলছে। সংস্থাটিকে আরও উন্নত ও লাভজনক করতে আমরা চেষ্টা করছি। বিমানে দুর্নীতিবাজের ঠাঁই হবে না। উন্নতির জন্যই বোয়িংয়ের ১৪টি ও এয়ার বাসের ১০টি নতুন উড়োজাহাজ বিমানবহরে যুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’
করা হয়নি ঋণ শোধের পরিকল্পনা : বিমান-সংশ্লিষ্টরা দেশ রূপান্তরকে জানান, বর্তমানে বিমানের বহরে ১৯টি উড়োজাহাজ আছে। নতুন উড়োজাহাজ যুক্ত হলে বহরের আকার ২৯টিতে পৌঁছাবে। সরকার ২০৩৪-৩৫ অর্থবছরের মধ্যে বিমানের বহর ৪৭টিতে উন্নীত করার পরিকল্পনার লক্ষ্যে সংস্থাটিকে আধুনিক, লাভজনক ও প্রতিযোগিতামূলক করতে চায়। বাংলাদেশকে দক্ষিণ এশিয়ায় যাত্রী ও কার্গো পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক কেন্দ্রস্থলে পরিণত করার পরিকল্পনাও রয়েছে সরকারের নীতিনির্ধারকদের। ১০টি এয়ার বাস ও ১৪টি বোয়িং যুক্ত হলে আগামী এক দশকে বিমানের বহরে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন ঘটবে বলে ধারণা সরকারের। তবে অর্থ পরিশোধ নিয়ে চিন্তিত বিমান কর্তৃপক্ষ। কীভাবে নতুন উড়োজাহাজ কেনার ঋণ পরিশোধ করা হবে, তার পরিকল্পনা এখনো করা হয়নি। এমনকি কীভাবে অর্থায়ন হবে, ঋণের সুদের হার কত হবে এবং রক্ষণাবেক্ষণ ও প্রশিক্ষণে কত ব্যয় করা হবে, তা নিয়েও কোনো পরিকল্পনা নেই। উড়োজাহাজ পরিচালনার জনবল নিয়োগের ব্যাপারেও কোনো হিসাব নেই।
বাংলাদেশ প্রতিদিন
দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিনের প্রধান শিরোনাম ‘কমিশন গঠনে বাধা কোথায়’। প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশের একমাত্র দুর্নীতিবিরোধী সংস্থা দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) টানা পাঁচ মাসের বেশি কার্যত নেতৃত্বহীন। চেয়ারম্যান ও দুই কমিশনারের পদত্যাগের পর এখনো নতুন কমিশন গঠন করতে পারেনি সরকার। ফলে নতুন দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধান, মামলা দায়ের, আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল, সম্পত্তি জব্দ, বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা এবং গ্রেপ্তারি পরোয়ানার মতো কমিশনের অনুমোদননির্ভর প্রায় সব গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম স্থবির হয়ে আছে। এ অবস্থায় দুদক কমিশন নিয়োগে বাধা কোথায়, এমন প্রশ্ন এখন সরকারের ভিতরে-বাইরে।
জানা গেছে, দুদকের শূন্য নেতৃত্ব থাকাবস্থায় ৮ হাজারের বেশি দুর্নীতির অভিযোগ জমা পড়েছে। এর মধ্যে কমিশনের অনুমোদনের অপেক্ষায় ৪ হাজারের বেশি নথি ও ফাইল আটকে আছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দুদক কার্যকর না থাকার সুযোগ নিচ্ছেন দুর্নীতিবাজরা। তারা নির্বিঘ্নে আগের মতো ঘুষ-দুর্নীতি অব্যাহত রেখেছেন। সম্প্রতি স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী এবং বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আগে যারা ঘুষ খেত, তারা এখনো একইভাবে সুযোগ খুঁজছে এবং ভালো উদ্যোগও আটকে দিচ্ছে। শুধু সরকার পরিবর্তন নয়, প্রশাসনের মানসিকতার পরিবর্তনও জরুরি।
যদিও তিনি সরাসরি দুদকের নিয়োগ নিয়ে মন্তব্য করেননি, প্রশাসনিক সংস্কারের বিষয়ে তার এ বক্তব্যকে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
গত ৪ আগস্ট কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটে এক অনুষ্ঠানে গণফোরামের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী সরকারকে উদ্দেশ করে বলেন, দুদকে কমিশন নিয়োগ দিতে পারছেন না কেন। এর পেছনে বাধা কোথায়। দুদকের একাধিক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানান, কমিশনের অনুমোদনের অপেক্ষায় বর্তমানে চার হাজারের বেশি ফাইল আটকে রয়েছে। প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১০টি নতুন দুর্নীতির অভিযোগ জমা পড়লেও কমিশন না থাকায় সেগুলো প্রকাশ্য অনুসন্ধানের জন্য গ্রহণ করা যাচ্ছে না। একইভাবে শেষ হওয়া বহু অনুসন্ধান ও তদন্তের প্রতিবেদনও অনুমোদনের অভাবে ঝুলে আছে। ফলে শুধু নতুন অভিযোগ নয়, পুরোনো গুরুত্বপূর্ণ মামলাগুলোর বিচারিক অগ্রগতিও থমকে গেছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সরকারি নানা প্রতিষ্ঠানে ঘুষ-দুর্নীতির বিরুদ্ধে একমাত্র পাহারাদার হলো দুদক। এটি না থাকাতে সেসব অনিয়ম দুর্নীতির নির্ভয়ে ইচ্ছামতো চলছে। কারণ কমিশন না থাকায় সেসব ক্ষেত্রে দুদক অভিযানও চালাতে পারছে না।
