কুমিল্লার ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী সোহাগী জাহান তনু হত্যা মামলায় হাইকোর্টের দেয়া জামিন স্থগিতের পর নির্ধারিত সময়ে আত্মসমর্পণ না করায় অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য হাফিজুর রহমানকে পুনরায় গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। শনিবার ঢাকার কেরানীগঞ্জের নিজ বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পিবিআই জানিয়েছে, আসামি যাতে পালিয়ে যেতে না পারেন এবং আপিল বিভাগের চেম্বার আদালতের নির্দেশনা বাস্তবায়নে এই পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। তাকে কুমিল্লা আদালতে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। এর আগে গত ২রা আগস্ট হাইকোর্ট থেকে জামিন পাওয়ার পর ৪ঠা আগস্ট কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তি পান হাফিজুর।
পরবর্তীতে রাষ্ট্রপক্ষ ওই জামিন আদেশ স্থগিত চেয়ে লিভ টু আপিল করে। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ৬ই আগস্ট আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি মো. রেজাউল হকের আদালত হাইকোর্টের জামিন ৯ই আগস্ট পর্যন্ত স্থগিত করেন এবং হাফিজুরকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেন। আদেশ অনুযায়ী আত্মসমর্পণ না করলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে তাকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেয়া হয়েছিল। তবে আদালতের দেয়া নির্ধারিত সময় অর্থাৎ গত শুক্রবার (৭ই আগস্ট) সন্ধ্যা পর্যন্ত হাফিজুর আত্মসমর্পণ করেননি বলে জানান কুমিল্লা আদালত পুলিশের পরিদর্শক সাদেকুর রহমান ও কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার শাহ আলম খান। এর আগে ২০১৬ সালের ২০শে মার্চ সন্ধ্যায় কুমিল্লা সেনানিবাস এলাকায় টিউশনি করতে গিয়ে নিখোঁজ হন তনু। পরদিন সেনানিবাসের একটি জঙ্গল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে কোতোয়ালি মডেল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন তনুর বাবা ইয়ার হোসেন। শুরুতে থানা পুলিশ, জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও পরে সিআইডি দীর্ঘ সময় ধরে মামলাটি তদন্ত করেও কোনো রহস্য বের করতে পারেনি।
তবে ২০১৭ সালের মে মাসে তৎকালীন তদন্ত সংস্থা সিআইডি তনুর পোশাক থেকে নেয়া নমুনার ডিএনএ পরীক্ষা করে তিনজন পুরুষের শুক্রাণু পাওয়ার কথা জানিয়েছিল। সে সময় ডিএনএ প্রোফাইল তৈরি হলেও সন্দেহভাজনদের সঙ্গে নমুনা ম্যাচিং (মেলানো) করা হয়নি। সর্বশেষ পুলিশ সদর দপ্তরের নির্দেশে ২০২০ সালের ২১শে অক্টোবর তনু হত্যা মামলার নথি পিবিআইয়ের ঢাকা সদর দপ্তরে হস্তান্তর করে সিআইডি। প্রায় চার বছর মামলাটি তদন্ত করেন পিবিআই পরিদর্শক মো. মজিবুর রহমান। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর থেকে মামলাটির ষষ্ঠ তদন্ত কর্মকর্তার দায়িত্ব পেয়েছেন পরিদর্শক মো. তরিকুল ইসলাম।
