ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সংরক্ষিত নারী আসনের ভোটের তফসিল এখনো ঘোষণা না হলেও বগুড়ায় বইছে নির্বাচনী হাওয়া। আসনটি ঘিরে বিএনপি’র সম্ভাব্য নারী প্রার্থীরা এখন থেকেই নড়েচড়ে বসেছেন। দলীয় হাইকমান্ডের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে এবং নিজেদের অবস্থান শক্ত করতে প্রার্থীরা নানামুখী দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন। জেলার বিভিন্ন পর্যায়ের অন্তত ১০ জন নেত্রী মনোনয়নের প্রস্তুতি নিলেও বর্তমানে ছয়জনের নাম রাজনৈতিক মহলে বেশ জোরেশোরে উচ্চারিত হচ্ছে। তৃণমূল থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছেন এই মনোনয়নপ্রত্যাশীরা। বগুড়ার নারী রাজনীতির মাঠে বর্তমান আলোচনায় যারা এগিয়ে আছেন, তাদের মধ্যে অন্যতম জেলা মহিলা দলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এডভোকেট শাহাজাদী লায়লা আরজুমান বানু।
পারিবারিক সূত্রেই তার রাজনীতিতে হাতেখড়ি। ১৯৭৮ সালে জাগদলের প্রতিষ্ঠাতা সহ-সভাপতি মরহুম এডভোকেট শাহ মো. মোজাম্মেল হকের এই কন্যা ছাত্রজীবন থেকেই দলের সঙ্গে যুক্ত। বর্তমানে জেলা মহিলা দলের শীর্ষ পদের পাশাপাশি তিনি আইন পেশাতেও সক্রিয়। দলের প্রতি দীর্ঘদিনের আনুগত্য ও সাংগঠনিক দক্ষতার কারণে তিনি মনোনয়ন পাওয়ার বিষয়ে যথেষ্ট আশাবাদী। নাম শোনা যাচ্ছে সাবেক সংরক্ষিত মহিলা আসনের সাংসদ নূর আফরোজ বেগম জ্যোতির নামও। তিনিও বগুড়ার নারী রাজনীতিতে অত্যন্ত সুপরিচিত ও অভিজ্ঞ মুখ। তিনি ইতিপূর্বে সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। সেই অভিজ্ঞতার আলোকে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও তিনি সংরক্ষিত আসনে দলের শক্তিশালী প্রার্থী হিসেবে মাঠে সক্রিয় রয়েছেন। ছাত্রজীবন থেকেই রাজনীতির সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত জ্যোতি জেলা বিএনপি’র সাবেক মহিলা বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। অন্যদিকে, দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতাসম্পন্ন নাজমা আকতারও রয়েছেন শক্ত অবস্থানে। জেলা মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক এবং জেলা বিএনপি’র মহিলা বিষয়ক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করা এই নেত্রী নব্বইয়ের দশকে ছাত্রদলের মাধ্যমে রাজনীতি শুরু করেন। সদর উপজেলা মহিলা দলের সভাপতি ও বিএনপি’র বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে কাজ করার অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে তিনি এবার সংসদ সদস্য হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন। মনোনয়ন পাওয়ার ক্ষেত্রে তিনি দলের শীর্ষ নেতৃত্বের সিদ্ধান্তের ওপর পূর্ণ আস্থা রাখছেন।
বিগত ফ্যাসিবাদী আন্দোলনে তার সাহসী ভূমিকা দেখেছে বগুড়াবাসী। প্রবীণ ও অভিজ্ঞ নেত্রীদের তালিকায় আরও রয়েছেন জেলা মহিলা দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক নিহার সুলতানা তিথি। ছাত্র সংসদের জিএস ও ভিপি হিসেবে দায়িত্ব পালন করা এই নেত্রী বগুড়ার নারী রাজনীতিতে পরিচিত মুখ। বহুবার হামলা-মামলার শিকার হওয়া তিথি মনে করেন, তার দীর্ঘ লড়াই-সংগ্রামের ইতিহাস পর্যালোচনার মাধ্যমে দল তাকে এবার সংসদে যাওয়ার সুযোগ করে দেবে- এমন আশাব্যক্ত করেন তিনি। আলোচনায় বিশেষভাবে এগিয়ে রয়েছেন জেলা মহিলা দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সুরাইয়া জেরিন রনি। গাবতলী উপজেলা পরিষদের সাবেক এই মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ছাত্রদলের রাজনীতি থেকে উঠে এসেছেন। ওয়ান ইলেভেনের পরবর্তী সময়ে এবং সাম্প্রতিক ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার আন্দোলনে তার সক্রিয় ভূমিকা ছিল চোখে পড়ার মতো। আন্দোলনে হামলাকারীদের বিরুদ্ধে মামলা করে সাহসিকতার পরিচয় দেয়া এই নেত্রী মনে করেন, রাজপথের ত্যাগ ও আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয়তার কারণে দল তাকে এবার মূল্যায়ন করবে- এমন প্রত্যাশা রাখেন তিনি। মনোনয়ন যুদ্ধের দৌড়ে পিছিয়ে নেই এডভোকেট রহিমা খাতুন মেরীও। জেলা মহিলা দলের সাংগঠনিক সম্পাদক ও জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের এই নেত্রী ১৯৯১ সাল থেকে ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত।
৫ই আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর সাহসী ভূমিকা রাখা মেরী বিশ্বাস করেন, তার পেশাগত দক্ষতা এবং দলের দুঃসময়ে পাশে থাকার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে হাইকমান্ড তাকে প্রার্থী হিসেবে বেছে নেবে বলে বিশ্বাস করেন। বগুড়ার এই সম্ভাব্য প্রার্থীদের তৎপরতা সম্পর্কে জেলা বিএনপি’র সভাপতি ও বগুড়া সদর আসনের উপ-নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী রেজাউল করিম বাদশা মানবজমিনকে বলেন, সংরক্ষিত আসনের নির্বাচনের সময় এখনো চূড়ান্ত হয়নি। সংসদ শুরু হলে তারপর দল সিদ্ধান্ত নেবে কাকে কোথায় আসন দেয়া হবে। আপাতত সবাই নিজ নিজ জায়গা থেকে প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। দলের নীতিনির্ধারক ও হাইকমান্ড সামগ্রিক যোগ্যতা ও ত্যাগ বিবেচনা করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।
