মাউশি ডিজি’র বিরুদ্ধে এন্তার অভিযোগ

মাউশি ডিজি’র বিরুদ্ধে এন্তার অভিযোগ

ফন্ট সাইজ:

প্রথমে ছিলেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের পিএস। সেখান থেকে পদায়ন পান মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) মহাপরিচালক হিসেবে। পদায়ন পাওয়ার পর থেকেই নানা অভিযোগ উঠতে থাকে অধ্যাপক ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেলের বিরুদ্ধে। অভিযোগ মতে- বদলি বাণিজ্য, পদায়ন, প্রভাব বিস্তার, জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘনসহ নানা খাতে দুর্নীতি করেছেন। বাগিয়েছেন কোটি কোটি টাকা। যেসব দেয়া হয়েছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়েও। এরই প্রেক্ষিতে জোর গুঞ্জন- সরিয়ে দেয়া হচ্ছে মাউশি’র এই ডিজিকে। ইতিমধ্যে সার্চ কমিটির মাধ্যমে নতুন মহাপরিচালক খোঁজার কাজ শেষ পর্যায়ে।
মাউশিতে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, অধ্যাপক সোহেল শিক্ষামন্ত্রীর কাছের লোক হওয়ায় তটস্থ থাকেন মাউশি’র কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। বিশেষ করে বদলি নিয়ন্ত্রণ হাতে রেখে বাগিয়ে নিয়েছেন বিপুল অঙ্কের অর্থ। সম্প্রতি একটি ঘটনা বেশ আলোচনায় আসে।

বদলি ঠেকানোর কথা বলে ২০ লাখ টাকা ঘুষ নেয়ার অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে। ঘুষ দিলেও সেই শিক্ষা কর্মকর্তার বদলি আদেশ ঠেকানো যায়নি। এরপর টাকা ফেরতের উদ্দেশ্যে বিভিন্ন মহলে যোগাযোগ করেন তিনি। উপায়ান্ত না পেয়ে একজন যুবদল নেতার সহযোগিতায় সেই অর্থ ফেরত পান। অনুসন্ধানে জানা গেছে, ডিআইএ থেকে বদলি ঠেকাতে ঘুষ দেয়া ওই কর্মকর্তা ২০২৪ সালের ৫ই আগস্ট পট পরিবর্তনের পর পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরে পদায়ন পান। তবে বিভিন্ন অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে গত বছরের শেষ দিকে তাকে সেখান থেকে বদলি করা হয়।

গত ৮ই জুলাই ডাকযোগে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ করেন বগুড়ার ৩৮তম বিসিএস (শিক্ষা ক্যাডার)-এর এক কর্মকর্তা। এতে তিনি মাউশি ডিজি’র বিরুদ্ধে বদলি-বাণিজ্য, ঘুষ গ্রহণ এবং প্রশাসনিক অনিয়মের অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের আবেদন জানান। উল্লেখ করেন, প্রায় ১,৭০০ জন শিক্ষক ও কর্মকর্তার বদলি এবং পদায়নকে কেন্দ্র করে আনুমানিক ৫১ কোটি টাকার অবৈধ আর্থিক লেনদেন সংঘটিত হয়েছে। এসব বদলিতে রেট নির্ধারণ করা রয়েছে। উপ-পরিচালক (ডিডি) পদায়ন ও বদলি- ১৫ থেকে ২০ লাখ টাকা, জেলা শিক্ষা অফিসার (ডিইও) পদায়ন- ৫ থেকে ১০ লাখ টাকা, ঢাকা মহানগরের সরকারি বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক পদায়ন- প্রায় ৫ লাখ টাকা, ঢাকা মহানগরের সরকারি বিদ্যালয়ে সাধারণ শিক্ষক বদলি- ২ লাখ টাকা, ঢাকার বাইরে প্রধান শিক্ষক ও সাধারণ শিক্ষক বদলি- ১ থেকে ৫ লাখ টাকা।

এই অবৈধ আর্থিক লেনদেন একটি সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেটের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। শিক্ষা প্রশাসনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মহলে দীর্ঘদিন ধরে এমন অভিযোগও প্রচলিত রয়েছে যে, শিক্ষা ক্যাডারের বদলি ও পদায়নের গুরুত্বপূর্ণ ফাইল মহাপরিচালকের অনুমোদন ছাড়া অগ্রসর হয় না। বদলি সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণে একটি প্রভাবশালী নেটওয়ার্ক সক্রিয়।

এ ছাড়াও তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) অভিযোগ দায়ের হয়েছে। গত ১৯শে জুলাই দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) দায়ের হওয়া অভিযোগে বলা হয়, ঝিনাইদহ জেলার শৈলকুপা পাইলট উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. ফজলুর রহমানের এমপিও নিয়ে ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ করা হয়েছে।

এসব বিষয়ে জানতে চাইলে মাউশি মহাপরিচালক অধ্যাপক সোহেল বলেন, আমার বিরুদ্ধে এসব ষড়যন্ত্রমূলকভাবে করা হচ্ছে। একটি পক্ষ আমাকে এই পদ থেকে সরাতে চাচ্ছে তারাই বিভিন্ন স্থানে আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ দিচ্ছে। আমার সিন্ডিকেট করার কোনো সুযোগই নাই। আমরা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে কাজ করি। আমরা চাইলেও মনগড়া কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারি না।

মাউশি’র মহাপরিচালক নিয়োগ দিতে মন্ত্রণালয়, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় মিলিয়ে একটি ৫ সদস্যের সার্চ কমিটি গঠন করা হয়। যার মাধ্যমে তিনজন শিক্ষকের নাম প্রস্তাব করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছেন বগুড়ার সরকারি আজিজুল হক কলেজের অধ্যক্ষ মাহফুজুল ইসলাম, মাউশি’র (পরিচালক-কলেজ ও প্রশাসন) অধ্যাপক নাজমুল হক ও কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের সচিব অধ্যাপক জাহাঙ্গীর আলম। চলতি সপ্তাহেই নতুন মহাপরিচালকের নাম ঘোষণা করা হতে পারে।




কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন