পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হতে যাচ্ছে শতভাগ রপ্তানিমুখী জুতা প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান রয়্যাল ফুটওয়্যার পিএলসি। কোয়ালিফায়েড ইনভেস্টর অফারের (কিউআইও) মাধ্যমে যোগ্য বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে ১২ কোটি টাকা সংগ্রহ করবে কোম্পানিটি। এতে কোম্পানিটির আন্তর্জাতিক ব্যবসায় রপ্তানি সম্প্রসারণসহ কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। বিশ্ব খ্যাত ব্র্যান্ডগুলোর আস্থা আরও বৃদ্ধি করবে। এ ছাড়া আন্তর্জাতিক সাপ্লাই চেইনে ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ ব্র্যান্ডের সুনাম বৃদ্ধি পাবে। সম্প্রতি গাজীপুরের টঙ্গীর তিলারগাতীতে কারখানা পরিদর্শনকালে সাংবাদিকদের এসব কথা জানান রয়্যাল ফুটওয়্যার পিএলসি’র চেয়ারম্যান মো. জাকির হোসেন পাটোয়ারী। এ সময় কোম্পানি সচিব মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেনসহ প্রতিষ্ঠানের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে কোম্পানির অবস্থান ও সক্ষমতা যাচাইয়ে সরজমিন রয়্যাল ফুটওয়্যারের উৎপাদন প্ল্যান্ট পরিদর্শন করা হয়। পরিদর্শনকালে সাংবাদিকদের বিভিন্ন বিষয়ে বিস্তারিত জানান কোম্পানির মহাব্যবস্থাপক মো. শামসুল ইসলাম চৌধুরী। কারখানায় প্রবেশের পর দেখা গেছে, সুসংগঠিত ও নিয়মানুগ উৎপাদন লাইন। কাঁচামাল প্রক্রিয়াজাতকরণ থেকে শুরু করে কাটিং, স্টিচিং, সোল সংযোজন এবং চূড়ান্ত কোয়ালিটি চেকিংয়ের জন্য রয়েছে আধুনিক অটোমেটেড ও সেমি-অটোমেটেড যন্ত্রপাতি। কারখানায় শত শত দক্ষ শ্রমিক সার্বক্ষণিক কাজ করছেন। কারখানার সার্বিক নিরাপত্তা, বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা এবং পরিবেশগত পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করা হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সমকক্ষ। নিজস্ব ল্যাবরেটরিতে নিয়মিত চামড়া ও অন্যান্য কাঁচামালের টেকসই পরীক্ষা করা হয়। স্থানীয় বাজারের জন্য ক্যাজুয়াল ও ফরমাল জুতার পাশাপাশি রপ্তানিযোগ্য মানসম্পন্ন ফুটওয়্যার তৈরির প্রস্তুতি সেখানে দৃশ্যমান। পরে চেয়ারম্যান মো. জাকির হোসেন পাটোয়ারী জানান, আমরা দীর্ঘদিন ধরে সুনামের সঙ্গে ফুটওয়্যার খাতে কাজ করছি। বর্তমানে পণ্যের চাহিদা বহুগুণ বেড়েছে।
উৎপাদন ক্ষমতা দ্বিগুণ করতে এবং নতুন বাজার ধরতে আমাদের অতিরিক্ত মূলধন প্রয়োজন। পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্তির মাধ্যমে প্রাপ্ত অর্থ আমাদের দ্রুত সম্প্রসারণে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখবে। তিনি বলেন, বর্তমানে রয়্যাল ফুটওয়্যার জার্মানি, ইতালি, পোল্যান্ড, সুইজারল্যান্ড, যুক্তরাষ্ট্র, সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ বিভিন্ন দেশে ফুটওয়্যার রপ্তানি করছে। কোম্পানিটি বিশ্বমানের নানা আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডের জন্য জুতা তৈরি করে। ব্র্যান্ডগুলো হলো- ডাইকম্যান, ইন্টারস্পোর্ট, সিসালফা, অ্যারেনা, রেডটেপ, ক্যাপা, অ্যাডমিরাল, ফুরো, বাটা, ক্যাট, বারটেক, জেডএক্সওয়াই, আমব্রো, লিডল, ফিলা, এলপিপি ও সিসিসি। ২০১৯-২০২০ অর্থবছরে জুতা রপ্তানিতে বাংলাদেশে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ অবস্থান অর্জন করেছিল প্রতিষ্ঠানটি। তিনি জানান, পুঁজিবাজার উত্তোলিত অর্থের একটি বড় অংশ বিদ্যমান ব্যাংকঋণ পরিশোধে ও বাকি অর্থ কাঁচামাল ও খুচরা যন্ত্রাংশ সংগ্রহে ব্যয় করা হবে। এছাড়া ব্যবসা সমপ্রসারণের অংশ হিসেবে আশুলিয়ায় ২০৬ শতাংশ জমির ওপর দ্বিতীয় উৎপাদন ইউনিট স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে, যা চালু হলে কোম্পানির উৎপাদন সক্ষমতা ও রপ্তানি আয় বহুলাংশে বৃদ্ধি পাবে।
এর আগে গত ১৪ই জুলাই বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) ১০২০তম কমিশন সভায় রয়্যাল ফুটওয়্যারকে ১২ কোটি টাকা উত্তোলনের অনুমোদন দেয়া হয়। তথ্য অনুযায়ী, কোম্পানিটি প্রতিটি ১০ টাকা মূল্যের ১ কোটি ২০ লাখ সাধারণ শেয়ার কেবল যোগ্য বিনিয়োগকারীদের কাছে ইস্যু করবে। তথ্য বলছে, কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) ৮২ পয়সা ও শেয়ার প্রতি সম্পদ মূল্য (এনএভি) ২৭.৫৪ টাকা। কোম্পানি জানায়, পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্তির মাধ্যমে আর্থিক স্বচ্ছতা, স্বাধীন নিরীক্ষা ও জবাবদিহিতা বৃদ্ধি পাবে। আন্তর্জাতিক বাজারের ক্রেতাদের কাছে কমপ্লায়েন্স ও করপোরেট গভর্ন্যান্সের গুরুত্ব থাকায় তাদের কাছে কোম্পানির গ্রহণযোগ্যতা আরও বাড়বে। পাশাপাশি কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে, বৈদেশি মুদ্রা অর্জন বাড়বে ও দেশের রপ্তানি খাত আরও শক্তিশালী হয়ে ওঠবে। বিশ্লেষকদের মতে, রয়্যাল ফুটওয়্যার পুঁজিবাজারে এলে সাধারণ ও প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের জন্য নতুন একটি বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি করবে।
