এক সাইনেজের টাকা কি সিটি কর্তৃপক্ষের নেই!

সিলেটে যে বিতর্ক

এক সাইনেজের টাকা কি সিটি কর্তৃপক্ষের নেই!

ফন্ট সাইজ:

দুনিয়া জুড়ে সাইনেজ আছে। এতে আকর্ষণ বাড়ে। স্মৃতি ধরে রাখে। সিলেটে নেই। এতদিন সাইনেজ নির্মাণ করা হয়নি। এবার করছে সিটি করপোরেশন। তবে নিজেরা নয়। গ্রামীণফোনকে সাইনেজ তৈরির দায়িত্ব দিয়েছে। আর ওই ফোন কোম্পানি এমন সাইনেজ করলো যেটি নিয়ে রীতিমতো তোলপাড় চলছে সিলেটে। হচ্ছে বিতর্কও। আর এই বিতর্কের মুখে সিটি প্রশাসক আব্দুল কাইয়ূম চৌধুরী সাইনেজটি অন্যত্র সরিয়ে নেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। তবু বিতর্ক কমছে না। নেট দুনিয়া সরব। প্রশ্ন উঠেছে- একটি সাইনেজ নির্মাণের টাকা কি নেই সিটি কর্তৃপক্ষের কাছে? আর এই সাইনেজের নকশার অনুমোদনই-বা কারা দিয়েছে। সিলেট নগরের নিজস্ব স্মারক রয়েছে। দুনিয়ার যেকোনো জায়গা থেকে একবার দেখলেই যে কেউ বুঝতে পারেন এটি সিলেট নগর।

সুরমার উপর স্থাপিত শতবর্ষী কিনব্রিজ। আলী আমজদের ঘড়ি ও সারদা হল। সুরমার সঙ্গে ওই স্মারকগুলো সিলেটকে বিশ্বের কাছে এক পলকেই পরিচিত করে তুলেছে। সাবেক অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী এম সাইফুর রহমানের জমানায় সিলেটের ওই এলাকার বাড়তি আকর্ষণ বাড়ানো হয়েছিল। ওই স্থান ছিল কামারপট্টি। সেটি সরিয়ে নির্মাণ করা হয়েছিল সুরমার তীরের ওয়াকওয়ে। যেটি এখনো বিদ্যমান। সাবেক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী এই ওয়াকওয়েকে আরও বর্ধিত করেছেন। এখন সিলেট নগরের প্রায় ১৫ কিলোমিটার সুরমা নদীতে একইভাবে ওয়াকওয়ে নির্মাণ করা হবে। যে প্রকল্পের উদ্বোধন দু’মাস আগে করে গেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। কাজ শুরু হবে শিগগিরই। সিলেট সার্কিট হাউজের উল্টো দিকে সুরমা নদী। গোটা এলাকা জুড়ে ওয়াকওয়ে।

বিকাল হলেই এখানে পর্যটকের ঢল নামে। বিকালের সময়টা ওখানে যান স্থানীয়রা। সুরমা নদী, কিনব্রিজ, আলী আমজদের ঘড়ি, সারদা হল আর সার্কিট হাউজ মিলে গোটা এলাকাকে মনোমুগ্ধকর করে রেখেছে। ক’দিন ধরে সার্কিট হাউজের উল্টো দিকে গ্রামীণফোনের পক্ষ থেকে একটি সাইনেজ নির্মাণ করা হচ্ছে। ধীরে ধীরে সাইনেজের বিষয়টি দৃশ্যমান হয়। এখানে লেখা ‘আই লাভ (চিহ্ন) সিলেট’। সাইনেজ দৃশ্যমান হওয়ার পর সেটি নিয়ে নেটদুনিয়ায় তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়। আর বিতর্কের কারণ হচ্ছে- যে সাইনেজটি নির্মাণ করা হচ্ছে সেটি দৃষ্টিনন্দন নয়। পেছনে যে ব্যাকগ্রাউন্ড দেয়া হয়েছে সেটার কারণে কিনব্রিজ ঢেকে দেয়া হয়েছে। ফলে সাইনেজে ছবি তুললে কিনব্রিজ দেখা যায় না। সাইনেজের বাম পাশে সিলেট সিটি করপোরেশন ও ডানপাশে গ্রামীণফোনের লোগো ব্যবহার করা হয়েছে। এতে করে আরও ক্ষুব্ধ হন সিলেটের মানুষ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই প্রশ্ন তুলে বলেন, এক সাইনেজ নির্মাণের টাকা কি সিটি কর্তৃপক্ষের নেই। এদিকে, তীব্র বিতর্কের মুখে সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ূম চৌধুরী নির্মাণ করা সাইনেজটি দ্রুতই সরিয়ে নেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।

গতকাল শুক্রবার তিনি মানবজমিনকে জানিয়েছেন, আমরা অনুমতি দিয়েছিলাম ভালোর জন্য। কিন্তু এমনভাবে নির্মাণ করা হয়েছে পেছনের কিনব্রিজ ঢেকে দেয়া হয়েছে। এ নিয়ে অনেকেই আপত্তি তুলেছেন। তিনি বলেন, বিষয়টি নিয়ে এরইমধ্যে আমি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেছি। আমরা এই সাইনেজ এখান থেকে সরিয়ে নেবো। যেখানে নিলে কোনো স্থাপনা ঢেকে না যায় সেখানেই সেটি স্থানান্তরিত করা হবে বলে জানান তিনি।

সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রেজাই রাফিন সরকার জানিয়েছেন, এই সাইনেজ নির্মাণে সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে কোনো অর্থ বরাদ্দ দেয়া হয়নি। যে সংস্থা সেটি নির্মাণ করছেন তারাই অর্থের জোগান দিচ্ছেন। তিনি বলেন, ওই কোম্পানির পক্ষ থেকে সিটি করপোরেশনের কাছে এ ধরনের একটি প্রস্তাব দেয়া হয়েছিল। তাদের প্রস্তাবটি যাচাই বাছাইয়ের পর পরবর্তীতে সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে সেটি করার অনুমতি দেয়া হয়। এখন সিটি প্রশাসক যে সিদ্ধান্ত দেবেন, সেটি চূড়ান্ত হবে বলে জানান তিনি।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন