আটলান্টিক সিটিতে পাঁচ শতাধিক প্রবাসী চিকিৎসকদের সম্মেলন অনুষ্ঠিত

আটলান্টিক সিটিতে পাঁচ শতাধিক প্রবাসী চিকিৎসকদের সম্মেলন অনুষ্ঠিত

ফন্ট সাইজ:

চিকিৎসা শিক্ষা, গবেষণা, পেশাগত উৎকর্ষ, মানবিক সেবা ও পারস্পরিক সহযোগিতার বার্তা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সির আটলান্টিক সিটিতে অনুষ্ঠিত হয়েছে সেন্ট্রাল বাংলাদেশ মেডিকেল এসোসিয়েশন অব নর্থ আমেরিকা (সেন্ট্রাল বিএমএএনএ)-এর বার্ষিক সম্মেলন ২০২৬। গত ৩০ জুলাই থেকে ২রা আগস্ট পর্যন্ত ট্রপিকানা রিসোর্টে অনুষ্ঠিত চার দিনব্যাপী এ সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার বিভিন্ন অঞ্চল থেকে পাঁচ শতাধিক চিকিৎসক, তাদের পরিবার, শিক্ষাবিদ, কমিউনিটি নেতা ও অতিথি অংশ নেন।
সম্মেলনের মূল আলোচনায় উঠে আসে, উত্তর আমেরিকায় কর্মরত বাংলাদেশি চিকিৎসকদের অর্জিত জ্ঞান, অভিজ্ঞতা ও দক্ষতাকে কীভাবে বাংলাদেশসহ বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবায় কাজে লাগানো যায়। একই সঙ্গে বাংলাদেশ ও উত্তর আমেরিকার চিকিৎসকদের মধ্যে শিক্ষা, গবেষণা, প্রযুক্তি ও পেশাগত সহযোগিতা আরও জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন সেন্ট্রাল বিএমএএনএ-এর সভাপতি ডা. ফজলুল ইউসুফ। কনভেনর ছিলেন ডা. মুজিবুর রহমান মজুমদার এবং চিফ কো-অর্ডিনেটর ছিলেন ডা. জামালউদ্দিন। সেক্রেটারি ডা. খন্দকার মাসুদুর রহমানের পরিচালনায় বিভিন্ন কমিটির সমন্বিত প্রচেষ্টায় সম্মেলনের আয়োজন সম্পন্ন হয়।
প্রধান অতিথি ছিলেন নিউ জার্সির লেফটেন্যান্ট গভর্নর ড. ডেল জি. ক্যাল্ডওয়েল। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আটলান্টিক সিটির মেয়র মার্টি স্মল সিনিয়র, চিকিৎসা শিক্ষাবিদ প্রফেসর ড. কর্নাড ফিশার, বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ সদস্য ডা. মাহবুবুর রহমান লিটন এবং সুজনের প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার।
ভিডিও বার্তার মাধ্যমে শুভেচ্ছা জানান নোবেল বিজয়ী অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের স্ত্রী ও হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. জোবায়দা রহমান এবং বিশিষ্ট হৃদরোগ সার্জন ডা. জাহাঙ্গীর কবির।

চিকিৎসা, জনস্বাস্থ্য, মানবিক নেতৃত্ব, শিক্ষা ও সংস্কৃতিতে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের বিশেষ সম্মাননা প্রদান করা হয়। অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস পান ‘সিবিএমএএনএ লাইফটাইম গ্লোবাল হিউম্যানিটেরিয়ান অ্যাওয়ার্ড’। চিকিৎসাক্ষেত্রে অবদানের জন্য ডা. জাহাঙ্গীর কবিরকে ‘সিবিএমএএনএ মেডেল অব মেডিক্যাল এক্সিলেন্স’ প্রদান করা হয়। এ ছাড়া চিকিৎসা শিক্ষা ও মানবিক কর্মকাণ্ডে অবদানের জন্য প্রফেসর ড. কর্নাড ফিশার, চিকিৎসা ও জনস্বাস্থ্যে আজীবন অবদানের জন্য প্রফেসর ডা. এমএ ফয়েজ এবং চিকিৎসা ও সংস্কৃতিতে অবদানের জন্য ডা. হিউবার্ট ডি’ক্রুজ সম্মাননা লাভ করেন।

বাংলাদেশ থেকে অংশ নেন বাংলাদেশ মেডিকেল রিসার্চ কাউন্সিলের পরিচালক ডা. কাজী সাইফুদ্দিন বেন্নুর, আনোয়ার খান মডার্ন মেডিকেল কলেজের উপাধ্যক্ষ প্রফেসর আব্দুস শাকুর খান, বাংলাদেশ লাং ফাউন্ডেশনের সভাপতি প্রফেসর আলী হোসেন, প্রফেসর রহমানউল্লাহ বারী, ড. আরমান সিদ্দিকী এবং মঈনুদ্দিন চৌধুরীসহ আরও অনেকে।
সম্মেলনের অন্যতম আকর্ষণ ছিল বৈজ্ঞানিক ও শিক্ষামূলক কার্যক্রম। চিকিৎসকদের জন্য আয়োজিত সিএমই কার্যক্রমে ১০ ঘণ্টার ক্রেডিট অর্জনের সুযোগ ছিল। পালমোনারি ও ক্রিটিক্যাল কেয়ার, স্লিপ মেডিসিন, সংক্রামক রোগ, জরুরি চিকিৎসা, জনস্বাস্থ্য, কার্ডিওলজি এবং সমসাময়িক চিকিৎসাবিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয়ে বিশেষজ্ঞরা প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। সিএমই কার্যক্রম পরিচালনা করেন ডা. কানিজ বানু হিমি ও ডা. রিয়াজ ফেরদৌস শিবলী।

তরুণ চিকিৎসকদের জন্য বিশেষ ক্যারিয়ার ও নেতৃত্ববিষয়ক কর্মশালার আয়োজন করেন ডা. মোহাম্মদ হোসাইন মিন্টু। সেখানে রেসিডেন্সি, ফেলোশিপ, গবেষণা, পেশাগত নেটওয়ার্কিং ও নেতৃত্ব বিকাশ নিয়ে আলোচনা হয়।
পরিবারকেন্দ্রিক কর্মসূচিতেও ছিল বিশেষ গুরুত্ব। ডা. জারিন আল-তারিক ও ডা. রুমানা সাবুরের নেতৃত্বে নারীস্বাস্থ্য, পরিবার, নেতৃত্ব ও সামাজিক অংশগ্রহণ নিয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। শিশু-কিশোরদের জন্য ছিল শিক্ষামূলক কার্যক্রম, প্রতিযোগিতা ও সাংস্কৃতিক আয়োজন।
সম্মেলনের সমাপনী অধিবেশনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ডা. কাজী আল-তারিক সেন্ট্রাল বিএমএএনএ-এর নতুন কার্যনির্বাহী কমিটি ঘোষণা করেন।

নবনির্বাচিত কমিটিতে সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন ডা. মুজিবুর রহমান মজুমদার, সহসভাপতি ডা. আতাউল ওসমানী, সাধারণ সম্পাদক ডা. খন্দকার মাসুদুর রহমান, কোষাধ্যক্ষ ডা. জাহিদ দেওয়ান শামীম, সাংগঠনিক সম্পাদক ডা. রুমানা সাবুর, বৈজ্ঞানিক সম্পাদক ডা. রিয়াজ ফেরদৌস শিবলী, সাংস্কৃতিক ও সামাজিক সম্পাদক ডা. কাজী রহমান সজল, তরুণ চিকিৎসকবিষয়ক সম্পাদক ডা. মোহাম্মদ হোসাইন মিন্টু এবং মেম্বার-অ্যাট-লার্জ হিসেবে ডা. বেলায়েত হোসাইন, ডা. আমিরুল ইসলাম ও ডা. কানিজ বানু হিমি।

নবনির্বাচিত কমিটি সংগঠনের সাংগঠনিক ভিত্তি আরও শক্তিশালী করা, চিকিৎসা শিক্ষা ও গবেষণায় নতুন উদ্যোগ গ্রহণ, তরুণ চিকিৎসকদের পেশাগত উন্নয়নে সহায়তা, জনস্বাস্থ্য ও মানবিক কার্যক্রম সম্প্রসারণ এবং বাংলাদেশ ও উত্তর আমেরিকার চিকিৎসকদের মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধির প্রত্যয় ব্যক্ত করে।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন