সংবেদনশীল প্রতিরক্ষা-সংক্রান্ত তথ্য পাচারের অভিযোগে ভারতীয় বিমানবাহিনীর (আইএএফ) এক উইং কমান্ডারকে গ্রেপ্তার করেছে দিল্লি পুলিশ। তার বিরুদ্ধে অফিশিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্টের আওতায় মামলা করা হয়েছে। খবর এনডিটিভির।
দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে, ওই কর্মকর্তাকে দুই মাস আগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তদন্তকারীদের সন্দেহ, ঘটনাটি শুধু একজন কর্মকর্তার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। ভারতীয় সামরিক বাহিনী ও জাতীয় নিরাপত্তা-সংক্রান্ত কৌশলগত তথ্য সংগ্রহের লক্ষ্যে পরিচালিত একটি বড় গুপ্তচর নেটওয়ার্কের সঙ্গে তিনি জড়িত থাকতে পারেন।
পুলিশ সূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে, ব্যক্তিগত জীবনের কঠিন একটি সময়ের মধ্য দিয়ে যাওয়ার সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক নারীর সঙ্গে ওই উইং কমান্ডারের পরিচয় হয়। ধীরে ধীরে তাদের মধ্যে নিয়মিত ভিডিও কল শুরু হয়।
পুলিশের দাবি, ওই নারী প্রথমে কর্মকর্তার আস্থা অর্জন করেন। এরপর তিনি সামরিক কার্যক্রম-সংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্য জানতে চাইতে শুরু করেন। অভিযোগ রয়েছে, ওই কর্মকর্তা সামরিক ইউনিটগুলোর চলাচল ও মোতায়েনের তথ্যসহ অন্যান্য সংবেদনশীল তথ্য ওই নারীর কাছে পাঠিয়েছেন।
পুলিশের সন্দেহ, ওই নারী পাকিস্তানি একটি গোয়েন্দা সংস্থার হয়ে কাজ করছিলেন এবং ওই কর্মকর্তাকে ‘হানিট্র্যাপ’ করা হয়েছিল।
তদন্তের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, ওই নারী উইং কমান্ডারের কাছে সামরিক ইউনিটগুলোর চলাচল ও মোতায়েন-সংক্রান্ত ছবি, ভিডিও এবং অন্যান্য তথ্য চেয়েছিলেন।
অভিযোগ, অভিযুক্ত কর্মকর্তা ডিজিটাল মাধ্যমে ওই নারীর কাছে গুরুত্বপূর্ণ কিছু নথি ও তথ্যও পাঠিয়েছেন।
ভারতের তদন্তকারী সংস্থাগুলো এখন খতিয়ে দেখছে, কতটা সংবেদনশীল তথ্য ফাঁস হয়েছে এবং এসব তথ্য কী উদ্দেশ্যে ব্যবহার করার পরিকল্পনা ছিল। তদন্তে আরও একটি গুরুতর বিষয় সামনে এসেছে।
পুলিশের দাবি, ওই নারী উইং কমান্ডারকে তার এক সহকর্মীর মোবাইল ফোনে একটি নির্দিষ্ট অ্যাপ ইনস্টল করতে বলেছিলেন।
তদন্তকারী সংস্থাগুলোর সন্দেহ, অ্যাপটি স্পাইওয়্যার বা রিমোট-অ্যাক্সেস ম্যালওয়্যার হতে পারে। এ ধরনের সফটওয়্যার ব্যবহার করে মোবাইলের তথ্য চুরি, অবস্থান শনাক্ত করা কিংবা কথোপকথনে প্রবেশ করা সম্ভব।
তদন্তকারীদের মতে, বিষয়টি শুধু একজন কর্মকর্তার কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না। প্রতিরক্ষা বাহিনীর অন্য সদস্যদের মোবাইল ফোনে প্রবেশ এবং তাদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট তথ্য হাতিয়ে নেয়ারও চেষ্টা করা হয়েছিল।
দিল্লি পুলিশের সন্দেহ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আইএএফ কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করা ওই নারী পাকিস্তানে অবস্থানরত গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের নিয়ন্ত্রণে ছিলেন।
এখন তদন্তকারী সংস্থাগুলো ওই নেটওয়ার্কের সঙ্গে জড়িত অন্য ব্যক্তিদের শনাক্ত করার চেষ্টা করছে। পাশাপাশি বিদেশ থেকে কারা এই নেটওয়ার্ক পরিচালনা করছিল, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
সূত্র জানিয়েছে, আইএএফের গোয়েন্দা শাখা থেকে পাওয়া নির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে দিল্লি পুলিশ অভিযান চালিয়ে ২০২৬ সালের ৩১ মে রাতে ওই উইং কমান্ডারকে গ্রেপ্তার করে।
গ্রেপ্তারের পর তাকে প্রথমে পুলিশ হেফাজতে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পরে আদালতের নির্দেশে তাকে বিচারিক হেফাজতে পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে ওই কর্মকর্তা তিহার কারাগারে রয়েছেন।
রিপোর্টে বলা হয়েছে, তদন্ত এখন মূলত ডিজিটাল যোগাযোগের সূত্র অনুসন্ধানের দিকে কেন্দ্রীভূত হয়েছে। ওই কর্মকর্তা ও নারীর মধ্যে কোন কোন প্ল্যাটফর্মে যোগাযোগ হয়েছিল, কতটা তথ্য আদান-প্রদান হয়েছে এবং এসব তথ্য কার কাছে পাঠানো হয়েছে- এসব বিষয় খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
পাশাপাশি অভিযুক্ত বিদেশি হ্যান্ডলারদের শনাক্ত করতেও কাজ করছে তদন্তকারী সংস্থাগুলো।

not interested
১ ঘন্টা আগেvery old news