দেশভাগের শিকার হওয়া মানুষদের স্মরণে কলকাতার শিয়ালদহ রেলওয়ে স্টেশনে একটি স্মৃতি-ভাস্কর্য বসানো হবে। ভারতের কেন্দ্রীয় সংস্কৃতি মন্ত্রী গজেন্দ্র সিং শেখাওয়াত একথা ঘোষণা করেছেন। এই প্রকল্পটির কাজ নভেম্বরের মধ্যে শেষ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
শেখাওয়াত জানান, ভারতীয় রেলওয়ে ঐতিহাসিক শিয়ালদহ স্টেশনে এই স্মৃতি-ভাস্কর্য বসানোর জন্য জায়গা বরাদ্দ করেছে। তিনি বলেছেন, এই ভাস্কর্যটি সেইসব মানুষকে সম্মান জানাবে যারা উপমহাদেশের ইতিহাসের অন্যতম মর্মান্তিক অধ্যায়ে চরম দুর্দশার শিকার হয়েছিলেন।
প্রস্তাবিত স্মৃতিভাস্কর্যের নকশা সম্পর্কে জানানো হয়েছে, এটি হবে একটি 'বিমূর্ত ভাস্কর্য'। ভাস্কর্যটি সেইসব মানুষের যন্ত্রণাকে তুলে ধরবে যারা মর্মান্তিক দেশভাগের চরম আঘাত সহ্য করেছিলেন।
উল্লেখ্য, দেশভাগের সময় লাখো লাখো ভিটে হারা মানুষের ঢল এই শিয়ালদহ স্টেশনে আছড়ে পড়েছিল।
ইন্দিরা গান্ধী ন্যাশনাল সেন্টার ফর দ্য আর্টস-এর সদস্য-সচিব সচ্চিদানন্দ জোশি জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ১৪ আগস্ট দিনটিকে 'দেশভাগজনিত বিভীষিকা স্মরণ দিবস' হিসেবে পালন করা হচ্ছে। এ বছরের স্মারক আয়োজনে পাঞ্জাবের অমৃতসর ও পশ্চিমবঙ্গের কলকাতায় বড় ধরনের কর্মসূচি থাকছে।
তিনি উল্লেখ করেন যে, যেহেতু স্মৃতি ভাস্কর্যটি কলকাতায় নির্মিত হচ্ছে, তাই এটি বিশেষভাবে পশ্চিমবঙ্গ ও পূর্ব পাকিস্তানের (বর্তমান বাংলাদেশ) সেইসব মানুষকেও সম্মান জানাবে, যারা দেশভাগের কারণে নিজেদের ভিটেমাটি ছেড়ে অন্যত্র চলে যেতে বাধ্য হয়েছিলেন।
১৯৪৭ সালে ভারত ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসন থেকে স্বাধীনতা লাভ করে, তবে একই সময়ে এই উপমহাদেশ ভারত ও পাকিস্তান—এই দুই ডোমিনিয়নে বিভক্ত হয়ে পড়ে। দেশভাগের ফলে পশ্চিমে অবিভক্ত পাঞ্জাব এবং পূর্বে বাংলা প্রদেশ দ্বিখণ্ডিত হয়, যা ইতিহাসের অন্যতম বৃহত্তম ও রক্তক্ষয়ী গণ-স্থানান্তরের ঘটনাকে ত্বরান্বিত করেছিল।
