যাদুকাটা নদীতে বেপরোয়া চাঁদাবাজি

ফন্ট সাইজ:

সুনামগঞ্জের বৃহৎ বালুমহাল যাদুকাটা নদীতে বিআইডব্লিউটিএ’র টোল আদায়ের নামে বেপরোয়া চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছে। নবাগত স্থানীয় সংসদ সদস্যের নির্দেশে উপজেলা প্রশাসন সরকারি মূল্য তালিকা মাইকিং করে প্রচার করা হলেও বাস্তবে নির্ধারিত হারের চেয়ে বেশি টাকা জোর করে আদায় করা হচ্ছে। গত মঙ্গলবার ও বুধবার বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) ও উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে যাদুকাটা ও আবুয়া নদীতে মাইকিং করে জানানো হয় নৌ-বন্দরের সীমানায় বালু ও পাথর ওঠা-নামার ক্ষেত্রে প্রতি ঘনফুট বালু ২৫ পয়সা এবং প্রতি টন পাথর ৩৪ টাকা ৫০ পয়সা শুল্ক নির্ধারিত রয়েছে। এর বেশি আদায় করলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে এবং নিকটস্থ নৌ-পুলিশ বা থানায় অভিযোগ জানানোর আহ্বান জানানো হয়। গত বৃহস্পতিবার সরজমিন গিয়ে দেখা যায়, বিআইডব্লিউটিএ’র নির্ধারিত ঘাটে টোল আদায় না করে অতিরিক্ত টাকা আদায় করা হচ্ছে ফাজির ঘাট এলাকায়। প্রতি ঘনফুটে ২৫ পয়সার পরিবর্তে আদায় করা হচ্ছে ১ টাকা ২০ পয়সা আবার ১.৫০ টাকাও। একপর্যায়ে সাংবাদিক পরিচয় পেয়েই টোল আদায়কারী নড়েচড়ে বসেন এবং বলেন এখানে কোনো টাকা আদায় করা হয় না, শুধু মালের পরিমাণ দেখে নৌকার মাঝিদের হাতে স্লিপ দেয়া হয় আর টাকা আদায় করা হয় রোহিঙ্গা চড় নামক বিআইডব্লিউটিএ’র ঘাটে। কিছুক্ষণ পরই এখানে পুলিশের একটি টিম আসে। দায়িত্বরত পুলিশ পরিদর্শকের সঙ্গে কথা হয়, তিনি জানান এ ঘাটে একজন শ্রমিককে ইজারাদারের লোকজন সকালে মারপিট করেছে। সংবাদ পেয়ে এখানে এসেছি, তবে কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। বিন্নাকুলি গ্রামের নৌ-শ্রমিক মাহাদী হাসান অভিযোগ করে বলেন, সকালে ঘাগরা এলাকা থেকে ১২০০ ফুটের একটি নৌকা নিয়ে বের হওয়ার সময় চলতি নদীর ঘাটে ঘাটে নির্ধারিত হারের চেয়ে বেশি টাকা নিয়েছে। তিনি বলেন, ফাজিলপুর ঘাটে উপজেলা প্রশাসন কর্তৃক ইজারা ও বিআইডব্লিউটিএ’র নামে অতিরিক্ত টাকা নিয়েছে। তাদের কথামতো টাকা না দিলে নৌকা আটকে রেখে মারপিট করে। তিনি বলেন, এ ঘাটেই বৃহস্পতিবার সকালে এক নৌ-শ্রমিককে মারপিট করা হয়েছে। জানা যায়, বিআইডব্লিউটিএ’র ফাজিলপুর ঘাটের ইজারাদার তাহিরপুর উপজেলার দক্ষিণ বড়দল ইউনিয়নের বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক মো. নাছির মিয়া। তিনি প্রায় ১২ কোটি টাকায় বিআইডব্লিউটিএ’র ঘাট ইজারা এনেছেন। অপরদিকে, ফাজিলপুর ঘাট তাহিরপুর উপজেলা প্রশাসন থেকে দক্ষিণকূল গ্রামের জবা মিয়া প্রায় ৬ কোটি টাকায় ইজারা এনেছেন। একই নদীর ঘাগরা ঘাটেও খাস কালেকশন নামে টোল আদায় করা হচ্ছে। ফাজিলপুর বিআইডব্লিউটিএ’র ঘাটের ইজারাদার বিএনপি নেতা নাছির মিয়া বলেন, আমাদের এখানে সরকার নির্ধারিত হারেই টোল আদায় করা হচ্ছে। ফাজিলপুর ঘাটের ইজারাদার জবা মিয়া বলেন, সরকার নির্ধারিত প্রতি ঘনফুটে ৩০ পয়সা আদায় করা হচ্ছে, এখানে এর চেয়ে বেশি আদায় করা হচ্ছে না। সুনামগঞ্জ জেলা নৌ-শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি ও বাংলাদেশ ফেডারেল শ্রমিক ইউনিয়নের যুগ্ম সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম জানান, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছিল, ঘাগরা ও ফাজিলপুর নৌঘাটে ২০০ টনের বেশি নৌযান থেকে ৯৫০ টাকা নেয়া যাবে। কিন্তু বাস্তবে সাড়ে সাত হাজার থেকে দশ হাজার টাকা পর্যন্ত আদায় করা হচ্ছে। তিনি অভিযোগ করেন, বুধবার বিকালেও ঘাটের লোকজন বলেছে প্রতি ফুটে দেড় টাকাই দিতে হবে। সাবেক চেয়ারম্যান আবুল কাসেম বলেন, সরকার নির্ধারিত শুল্কহার প্রকাশ্যে প্রচার করা হলেও বাস্তবে অতিরিক্ত আদায় বন্ধ হচ্ছে না। ফলে নৌ-শ্রমিক ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে। নদীতে চাঁদাবাজি বন্ধ করতে হলে প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে। তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দায়িত্বে থাকা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শাহরুখ আলম শান্তনু বলেন, নদী বা ঘাটে অন্যায়ভাবে টাকা আদায় বন্ধে কঠোর উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন