ময়মনসিংহের ধোবাউড়ায় মিছিলে যাওয়ার পথে অটোরিকশা আটকে তিন ছাত্রদল কর্মীকে ছুরিকাঘাতে আহত করার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় দু’জনকে আটক করেছে পুলিশ। আহত তিনজনের দু’জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। অপরজন স্থানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছে। আহতরা হলেন- ঘোষগাঁও ইউনিয়নের পশ্চিম বালিগাঁও গ্রামের মোশারফ হোসেনের ছেলে ইমন মিয়া (১৬), নুরনবীর ছেলে সাদমিন মিয়া (১৫)। আকবর আলীর ছেলে কবিরুল ইসলাম (১৬)। বৃহস্পতিবার বিকাল ৫টার দিকে উপজেলার পশ্চিম বালিগাঁও বাজারের পশ্চিম বালিগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশে এ ঘটনা ঘটে। ধোবাউড়া থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) শাকিব হাসান তিন ছাত্রদল নেতাকে ছুরিকাঘাতের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, অটোরিকশাযোগে ছাত্রদল নেতাকর্মীরা মিছিলের উদ্দেশ্যে ধোবাউড়ার দিকে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে উপজেলার পশ্চিম বালিগাঁও বাজারের পশ্চিম বালিগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পূর্ব পাশে পাকা রাস্তার উপর পৌঁছা মাত্রই অটোরিকশা দাঁড় করিয়ে রাতুল মিয়া (১৮), জাহেদুল ইসলাম (২০), টিটু মিয়া (৩০), এহসানুল হক উষা (২৫) ও সোহাগ মিয়া (৩৫)কে অটোরিকশা থেকে টেনে-হিঁচড়ে নামিয়ে ছাত্রদল কর্মী ইমনকে এলোপাতাড়ি কিলঘুষি লাথি মেরে আহত করে। মারধরের একপর্যায়ে ইমন মিয়াকে হত্যার উদ্দেশ্যে সোহাগ মিয়ার হাতে থাকা ধারালো চাকু দিয়ে তার পেটে ছুরিকাঘাত করে। এ সময় ইমনকে বাঁচাতে এগিয়ে আসে সাদমিন ও কবিরুল। পরে তাদেরকেও এলোপাতাড়ি কিলঘুষি লাথি মেরে আহত করে ও ছুরিকাঘাত করে। পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। আহতদের মধ্যে দু’জনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করেন। অপর আহত কর্মী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছে বলে জানা গেছে।
এদিকে, এমন ঘটনার খবর পেয়ে আহতদের দেখতে ধোবাউড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যান বিএনপি’র যুগ্ম-মহাসচিব ও ময়মনসিংহ জেলা পরিষদের প্রশাসক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স। এ সময় তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন- উপজেলা বিএনপি’র সদস্য সচিব আনিছুর রহমান মানিক, যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুল কুদ্দুসসহ বিএনপি ও এর অঙ্গসহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। তারা আহতদের খোঁজখবর নেন এবং দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন। এসআই শাকিব হাসান বলেন, এ ঘটনায় দু’জনকে আটক করা হয়েছে। আহতদের পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
