বর্ষা এলেই যেন বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলার মাটিভাঙ্গা ইউনিয়নের বানিয়ারী গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ। হাঁটু সমান কাদা, রাস্তার মাঝখানে পানির স্রোত, আর সেই স্রোত পার হতে বাঁশের তৈরি অস্থায়ী সাঁকো এটাই এখন এলাকাবাসীর নিত্যদিনের বাস্তবতা। শিশু থেকে বৃদ্ধ, শিক্ষার্থী থেকে কৃষক, রোগী থেকে গর্ভবতী নারী সবাইকে প্রতিদিন চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে মাত্র তিন কিলোমিটার একটি রাস্তার কারণে। ভোর হতেই বই-খাতা হাতে বিদ্যালয়ের উদ্দেশ্যে বের হয় ছোট ছোট শিক্ষার্থীরা। কিন্তু বিদ্যালয়ে পৌঁছাতে তাদের পিচঢালা সড়ক নয়, হাঁটতে হয় হাঁটু সমান কাদা মাড়িয়ে। অনেকেই কাদায় পিছলে পড়ে যায়, কারও বই-খাতা ও পোশাক নষ্ট হয়। বাঁশের সাঁকো পার হওয়ার সময় ছোট শিশুদের ভয় আর আতঙ্ক যেন চোখে-মুখে ফুটে ওঠে। অনেক অভিভাবক বাধ্য হয়ে সন্তানদের স্কুলে পৌঁছে দেন। আবার অনেকে ঝুঁকির কারণে সন্তানকে বিদ্যালয়ে পাঠাতেই সাহস পান না।
সরজমিন দেখা যায়, রাস্তার বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। কোথাও জমে থাকা পানির কারণে রাস্তা আর খালের মধ্যে পার্থক্য বোঝার উপায় নেই। মাঝখানে পানির প্রবাহ থাকায় স্থানীয়রা নিজেদের উদ্যোগে বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করে চলাচল করছেন। সামান্য অসাবধানতায় যেকোনো সময় বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী। জানা গেছে, মাটিভাঙ্গা ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ বানিয়ারী খানবাড়ি মসজিদ থেকে ভিটাবাড়ী জাহিদুল ইসলামের বাড়ি পর্যন্ত প্রায় এক কিলোমিটার এবং ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ময়দানের পূর্ব পাশ থেকে রেজ্জাক খানের বাড়ি পর্যন্ত প্রায় দুই কিলোমিটার কাঁচা সড়ক দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারবিহীন অবস্থায় পড়ে রয়েছে। বর্ষা মৌসুমে এই প্রায় তিন কিলোমিটার সড়ক পুরোপুরি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে যায়।
এই সড়ক দিয়েই প্রতিদিন দুটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, দুটি মাদ্রাসা, একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও একটি কলেজের শিক্ষার্থীসহ কয়েক হাজার মানুষ চলাচল করেন। ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য জুয়েল আহম্মেদ উজ্জ্বল বলেন, অনেকবার সংশ্লিষ্ট দপ্তরে জানিয়েও কোনো স্থায়ী সমাধান হয়নি। তবে স্থানীয় বিএনপি নেতা সরদার সাফায়েত হোসেন শাহীন নিজ উদ্যোগে প্রায় ৪০০ ফুট এলাকায় বালু ফেলে মানুষের চলাচলের কিছুটা ব্যবস্থা করেছেন। মাটিভাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাহিদুল ইসলাম বিলু জানান, সড়কটির উন্নয়নের জন্য একাধিকবার বরাদ্দ চাওয়া হলেও এখনো কোনো বরাদ্দ পাওয়া যায়নি। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. সালাহউদ্দিন আহম্মেদ বলেন, রাস্তাটির উন্নয়ন প্রকল্পের প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।
বরাদ্দ পেলেই কাজ শুরু হবে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, বছরের পর বছর শুধু আশ্বাস মিললেও বাস্তবে কোনো উন্নয়ন হয়নি। তাদের বলেন, এই তিন কিলোমিটার রাস্তা শুধু একটি গ্রামের যোগাযোগের পথ নয়, এটি হাজারো মানুষের শিক্ষা, চিকিৎসা, কৃষি ও জীবিকার সঙ্গে জড়িয়ে আছে। তাই আর আশ্বাস নয়, দ্রুত সড়কটি সংস্কার করে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ দূর করার জোর দাবি জানিয়েছেন তারা।
