মাত্র দুই শতক জমি কিনে রাতারাতি পাঁচ শতকে পরিণত করার জাদুকরী বিদ্যা হয়তো একেই বলে। কুমিল্লার বাঙ্গরা উপজেলার রামচন্দ্রপুর বাজারে সরকারি খাস জমি জবরদখল করে গড়ে তোলা হয়েছে বহুতল ভবন, যার ভেতরে পরিচালিত হয়ে আসছে ‘তিতাস ডায়াগনস্টিক সেন্টার’। অভিযোগ উঠেছে, প্রকাশ্য দিবালোকে সরকারি সম্পত্তি গ্রাস করে অবৈধ এ স্থাপনা তোলা হলেও অদৃশ্য ক্ষমতার জোরে বারবার পার পেয়ে যাচ্ছেন মূল দখলদার। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রামচন্দ্রপুর এলাকার মৃত নেপাল সাহার ছেলে গৌতম সাহা নামে এক প্রভাবশালী ব্যক্তি তিতাস নদী ও সরকারি রাস্তা দখল করে খাস জমিতে বহুতল ভবন নির্মাণ করেন। ২ শতক ব্যক্তি মালিকানাধীন জমির সঙ্গে চারপাশের আরও ৩ শতক সরকারি খাস জমি দখল করে গড়ে তোলা হয় এই ৪ তলা ভবনের বিশালাকার স্থাপনা।
অবৈধ ভবনটি উচ্ছেদে প্রশাসনের প্রাথমিক নড়াচড়া দেখা গেলেও শেষ পর্যন্ত তা যেন থমকে গেছে অলৌকিক কোনো বাধায়। এলাকাবাসীর প্রশ্ন আইনের হাত কি তবে প্রভাবশালী দখলদারের ‘অদৃশ্য খুঁটির’ চেয়েও দুর্বল? উচ্ছেদ অভিযান থমকে যাওয়ায় একদিকে যেমন কোটি টাকার সরকারি সম্পত্তি হাতছাড়া হওয়ার উপক্রম হয়েছে। অন্যদিকে সুশীল সমাজের মনে দানা বাঁধছে তীব্র অসন্তোষ। রহস্যের এখানেই শেষ নয়! প্রশাসন ও এলাকাবাসীর চোখ ফাঁকি দিয়ে এবার সেই বিতর্কিত ভবনে ব্যবসা-বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছেন দখলদার গৌতম সাহা। তড়িঘড়ি করে খাস জমিতে নির্মিত এই অবৈধ সম্পত্তি বার বার চেষ্টা করেও উচ্ছেদ করতে না পারায় ফুঁসে উঠছেন স্থানীয়রা। বিষয়টির ব্যাপারে অভিযুক্ত গৌতম সাহার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করলে তিনি ভারতে বসবাস করছেন বলে জানা গেছে। তবে তার ম্যানেজার দ্বীনবন্ধু সরকার জানান, এ বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। মালিক দেশের বাইরে আছেন, তিনি বিস্তারিত বলতে পারবেন। এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে সহকারী কমিশনার (ভূমি)
সাকিব হাসান খান বিষয়টি নিয়ে তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন। তবে সাধারণ মানুষের দাবি- কেবল আইনি খাতা-কলমে সীমাবদ্ধ না থেকে, অবিলম্বে এই অবৈধ স্থাপনা ভেঙে গুঁড়িয়ে দেয়া হোক এবং সরকারি খাস জমি উদ্ধার করে জবরদখলকারীর বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।
