‘হাসিনা গণহত্যাকারী ও পলাতক আসামি হিসেবে কারাগারে যাবেন’

‘হাসিনা গণহত্যাকারী ও পলাতক আসামি হিসেবে কারাগারে যাবেন’

ফন্ট সাইজ:

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে গণহত্যাকারী ও পলাতক আসামি উল্লেখ করে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, ‘শেখ হাসিনা খুন, গুম ও গণহত্যার সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন না- এ কথা অস্বীকার করার কোনো সুযোগ নেই। তিনি যদি সত্যের মুখোমুখি হতে চান, তবে অবশ্যই তার দেশে ফিরে আইনি লড়াই চালানো উচিত। আইন তার নিজস্ব গতিতেই চলবে এবং এর হাত অনেক লম্বা।’ শেখ হাসিনা নিজেই ডিসেম্বরে দেশে ফেরার কথা বলেছেন। আইনও চায় তিনি দেশে ফিরে আসুক, গণহত্যার দায় স্বীকার করুক এবং আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কারাগারে যাক। শুক্রবার সকালে ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত ‘আগামী শৈলকুপা’ শীর্ষক মতবিনিময় সভা ও চিত্রশিল্পী মুস্তাফা মনোয়ারের স্মরণসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

শেখ হাসিনার বক্তব্য ও সম্প্রতি ছড়িয়ে পড়া অডিও বার্তা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তিনি ভিডিও কনফারেন্সে আসার সাহস পাননি, কেবল একটি অডিও ক্লিপ পাঠিয়েছেন, যা অনেকেই এআই-জেনারেটেড বলছেন। আমার দৃষ্টিতে তিনি একজন পরোয়ানাভুক্ত ও দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি। চার সাড়ে চার হাজার মানুষকে ক্রসফায়ারে হত্যা এবং জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে চৌদ্দশত মানুষকে নির্বিচারে গুলি করে হত্যার প্রধান অভিযুক্ত তিনি। এতদিনেও কি তার মধ্যে কোনো অনুশোচনা এসেছে? তিনি কি এতগুলো অপরাধের জন্য জনগণের কাছে মাফ চেয়েছেন? বিচার বিভাগের আধুনিকায়ন ও স্বচ্ছতা নিশ্চিতের অঙ্গীকার ব্যক্ত করে মন্ত্রী আসাদুজ্জামান বলেন, আমার স্বপ্নের বিচার বিভাগ হবে সাধারণ মানুষের শেষ আশ্রয়স্থল। সৃষ্টিকর্তার পরেই যেন মানুষ বিচার বিভাগের ওপর নিজের আস্থা ও বিশ্বাস রাখতে পারে, সেই পরিবেশ গড়ে তুলতে হবে।

অবকাঠামো বা পদ্ধতিগত সংকটের চেয়েও বিচার বিভাগের প্রধান সমস্যা হলো মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন বিচারকের অভাব। বিচারকদের মনে রাখতে হবে, এটি কেবল আর দশটা চাকরির মতো কোনো পেশা নয়; ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা এবং জনগণের আমানত রক্ষা করাই তাদের মূল দায়িত্ব। উপজেলা প্রশাসন আয়োজিত এই মতবিনিময় ও স্মরণসভায় অন্য অতিথিদের মধ্যে ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসক মো. নোমান হোসেন, পুলিশ সুপার মিয়া মোহাম্মদ আশীষ বিন হাছান, শৈলকুপা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাহফুজুর রহমান এবং উপজেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন বাবর ফিরোজ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে স্থানীয় সুশীল সমাজ, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও অংশ নেন।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন