মোবাইল হ্যাক, ব্যবসায়ীর ৪ লাখ ৬৫ হাজার টাকা হাতিয়ে নিলো দুর্বৃত্তরা

ফন্ট সাইজ:

মোবাইল ফোন হ্যাক করে এক ব্যবসায়ীর ব্যাংক হিসাব থেকে ৪ লাখ ৬৫ হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়েছে দুর্বৃত্তরা। এ বিষয়ে কিশোরগঞ্জের ভৈরব থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে। এ ঘটনায় ব্যাংকের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

জানা যায়, সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার কলাগাঁও গ্রামের বাসিন্দা এবং বর্তমানে কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলার ঘোড়াকান্দা এলাকার পলাশের মোড়ে বসবাসকারী কয়লা-পাথর ব্যবসায়ী এমরুল হাসান গত ৪ঠা আগস্ট দুপুর আনুমানিক ১২টা ২০ মিনিটে তার ব্যবহৃত ঠরাড় ঠ৩০ চৎড় মডেলের মোবাইল ফোনটি হঠাৎ স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ হয়ে পুনরায় চালু হতে দেখেন। এরপর মোবাইলটি তার নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় এবং নিজে থেকেই বিভিন্ন আপডেট ও কার্যক্রম পরিচালনা করতে থাকে। এতে তিনি সন্দেহ করেন, অজ্ঞাতনামা কোনো ব্যক্তি বা সংঘবদ্ধ চক্র তার মোবাইল ফোনে অনধিকার প্রবেশ (হ্যাক) করেছে।
অভিযোগে বলা হয়েছে, ওই ঘটনার পর তাহিরপুর পূবালী ব্যাংক শাখায় জঅঝঊখ ঊঘঞঊজচজওঝঊ নামে পরিচালিত ব্যাংক হিসাব থেকে আনোয়ারা বেগম নামে একটি ব্যাংক হিসাবে ৪ লাখ ২০ হাজার টাকা এবং একটি বিকাশ নম্বর (০১৩৪০৮৩৭৬০৪)-এ আরও ৪৫ হাজার টাকা স্থানান্তর করা হয়। এতে মোট ৪ লাখ ৬৫ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয়া হয়।

ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী এমরুল হাসান বলেন, মোবাইলটি হঠাৎ বন্ধ হয়ে পুনরায় চালু হওয়ার পর আর কোনো নির্দেশনা কাজ করছিল না। বিষয়টি বুঝতে পেরে আমি সঙ্গে সঙ্গে অন্য একটি নম্বর থেকে তাহিরপুর পূবালী ব্যাংক শাখার ব্যবস্থাপকের সঙ্গে যোগাযোগ করি। তখন তিনি জানান, আমার হিসাব থেকে ওয়ালেটের মাধ্যমে দু’টি গন্তব্যে টাকা পাঠানো হয়েছে। আমি কাউকে কোনো ওটিপি বা পাসওয়ার্ড দেইনি। যদি কোনো ওটিপি ছাড়াই এভাবে টাকা স্থানান্তর সম্ভব হয়, তাহলে গ্রাহকের অর্থ কতোটা নিরাপদ- সেটিই এখন বড় প্রশ্ন। তিনি আরও বলেন, ঘটনার পর আমি ব্যাংক, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা চেয়েছি। দ্রুত তদন্ত করে জড়িতদের শনাক্ত এবং আত্মসাৎ হওয়া অর্থ উদ্ধার করার দাবি জানাচ্ছি।

তাহিরপুর উপজেলা পূবালী ব্যাংক শাখার ব্যবস্থাপক অভিষেক ধর বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। গ্রাহক মোবাইল ব্যাংকিং ওয়ালেট ব্যবহার করে লেনদেন করেন। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, সংরক্ষিত পাসওয়ার্ড বা মোবাইলের নিরাপত্তা দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে প্রতারকরা এ ঘটনা ঘটিয়েছে। গ্রাহক আমাদের অবহিত করার সঙ্গে সঙ্গেই হিসাবটি সুরক্ষিত করার চেষ্টা করা হয়। তবে এর আগেই অর্থ অন্য ব্যাংক হিসাব ও বিকাশের মাধ্যমে স্থানান্তর হয়ে যায়। গ্রাহক আইনগত ব্যবস্থা নিলে ব্যাংক তদন্তে সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে। তিনি বলেন, যখনই কোনো গ্রাহকের সঙ্গে এরকম ঘটনা ঘটবে তখনেই সঙ্গে সঙ্গে আমাদের জরুরি সেবা ১৬২৫৩ নম্বরের ফোন করে বিষয়টি জানানোর জন্য তিনি অনুরোধ জানান। কিশোরগঞ্জের ভৈরব থানার অফিসার ইনচার্জ মো. মাহবুবুর রহমান বলেন, এ ঘটনায় একটি সাধারণ ডায়েরি গ্রহণ করা হয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন