মহম্মদপুরে ৭৪ বিদ্যালয়ে নেই প্রধান শিক্ষক

মহম্মদপুরে ৭৪ বিদ্যালয়ে নেই প্রধান শিক্ষক

ফন্ট সাইজ:

মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলায় দীর্ঘদিন ধরে ৭৪টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক না থাকায় ভারপ্রাপ্ত ও চলতি দায়িত্বে থাকা শিক্ষকদের দিয়েই চলছে প্রতিষ্ঠানগুলো। এতে একদিকে যেমন প্রশাসনিক কার্যক্রমে জটিলতা তৈরি হচ্ছে, অন্যদিকে শ্রেণিকক্ষের পাঠদানেও দেখা দিয়েছে নানা ধরনের জটিলতা। মহম্মদপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয়ের তথ্য মতে জানা যায়, উপজেলায় মোট ১৩৪টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে মাত্র ৬০টি বিদ্যালয়ে নিয়মিত প্রধান শিক্ষক কর্মরত রয়েছেন। বাকি ৭৪টি বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নেই। এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৪৩টি বিদ্যালয় ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক এবং ৩১টি বিদ্যালয় চলতি দায়িত্বে থাকা প্রধান শিক্ষক দিয়ে পরিচালিত হচ্ছে। প্রতিষ্ঠানগুলোতে প্রধান শিক্ষক না থাকায় বিদ্যালয়ের জৈষ্ঠ সহকারী শিক্ষকদেরই প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। ফলে শিক্ষার্থীদের নিয়মিত ও মানসম্মত পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের।

উপজেলার একাধিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকরা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে প্রায় প্রতিদিনই উপজেলা শিক্ষা অফিস, বিভিন্ন সভা, সরকারি কাগজপত্র ও অনলাইন কার্যক্রমে ব্যস্ত থাকতে হয়। এতে শিক্ষার্থীদের পাঠদান আগের মতো নিয়মিত করা সম্ভব হয় না। বাজার রাধানগর গ্রামের বাসিন্দা ও একজন শিক্ষার্থীর অভিভাবক কুটেমিয়া বলেন, বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক না থাকায় অনেক সিদ্ধান্ত গ্রহণে বিলম্ব হচ্ছে। এখন দায়িত্বে কে আছেন, কখন পাওয়া যাবে এসব নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকে। এতে ভোগান্তি বাড়ছে। সরজমিন মহম্মদপুর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, হরেকৃষ্ণপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ বেশ কয়েকটি বিদ্যালয়ের কয়েকজন ক্ষুদে শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা বললে তারা জানায়, অনেক সময় দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষক অফিসের কাজে ব্যস্ত থাকায় নির্ধারিত ক্লাস অন্য শিক্ষক দিয়ে নেয়া হয়, আবার কোনো কোনো সময় ক্লাসও ফাঁকা থাকে।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সুধাংশু শেখর বিশ্বাস মানবজমিনকে বলেন, যারা চলতি দায়িত্বে রয়েছেন, তারা মূলত পদোন্নতি পেয়ে পূর্ণাঙ্গ প্রধান শিক্ষক হওয়ার প্রক্রিয়ায় রয়েছেন। একইভাবে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালনকারীরাও পদোন্নতির তালিকায় উঠে আসবেন। সাময়িকভাবে প্রশাসনিক কাজে কিছুটা জটিলতা তৈরি হলেও শিক্ষক পদোন্নতির পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে এই সংকট ও সমস্যা কেটে যাবে।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন