৩১ শয্যার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অর্ধেকেরও কম জনবল। কিন্তু নামেই চলছে ৫০ শয্যার হাসপাতাল। চিকিৎসক ও জনবল সংকটে স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলার প্রায় চার লক্ষাধিক মানুষ। প্রয়োজনীয় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও রোগ নির্ণয়ের ব্যবস্থা না থাকায় জীবন বাঁচাতে বাধ্য হয়ে রোগীদের যেতে হচ্ছে জেলা শহরসহ ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে। কিন্তু এ নিয়ে সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কোনো মাথাব্যথা নেই। এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মাহবুবুর রহমান জানান, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যোগদানের পর থেকেই জনবল সংকটের বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করলেও কোনো পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। জানা যায়, ১৯৭৩ সালে ৩১ শয্যার এ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি চালু হয়। পরে ২০১৫ সালে এটাকে ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হয়।
কিন্তু লোক দেখানো ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হলেও বাড়েনি সেবার মান। ৫০ শয্যার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রতিদিন বহির্বিভাগে ৫০০ থেকে ৭০০ রোগী চিকিৎসা নিতে আসেন। ৫০ শয্যার বিপরীতে ৮০ থেকে ১০০ জন পর্যন্ত রোগী ভর্তি থাকেন নিয়মিত। বিপুলসংখ্যক এই রোগীর জন্য ৩১ শয্যার বিপরীতে ৩১ জন চিকিৎসক থাকার কথা থাকলেও ১৪টি পদই শূন্য। এদিকে ৩১ শয্যার বিপরীতে ২৫ জন নার্সের মধ্যে আছে ১৯। এ ছাড়াও মেডিকেল টেকনোলজিস ৬ জনের মধ্যে ৩, ফিল্ড স্টাফ ৫৩ জনের মধ্যে আছেন ২০ জন। প্রধান সহকারী, হিসাবরক্ষক, অফিস সহকারী, কম্পিউটার অপারেটরসহ অন্যান্য পদে ২৫ জন থাকার কথা থাকলেও ১৮টি পদই শূন্য রয়েছে। হাসপাতালের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পদ হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ (কার্ডিওলজিস্ট)। কিন্তু দীর্ঘদিন থেকে এ পদটিও শূন্য রয়েছে। সরজমিন কমপ্লেক্স ঘুরে দেখা যায়, সিট এবং মেঝেতে প্রায় শতাধিক রোগী ভর্তি রয়েছে।
হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন রোগী জানান, কোনো রোগী আজকে ভর্তি হলে পরদিন একজন চিকিৎসকের খোঁজ পান তারা। এছাড়াও খাবারের মান নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন অনেকে। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মাহবুবুর রহমান বলেন, হাসপাতালে অনেকদিন ধরেই চিকিৎসসহ জনবলের সংকট রয়েছে। এরপরও মানুষকে চিকিৎসা দেয়ার সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হচ্ছে। জনবল সংকটের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। আশা করি দ্রুত সমস্যার সমাধান হবে।
