সপ্তাহে একদিন অফিস করেন প্রশাসক, দুর্ভোগে হাজারো মানুষ

ফন্ট সাইজ:

সিলেটের বিয়ানীবাজারের মাথিউরা ইউনিয়ন পরিষদে গত ১০ মাস থেকে সরকারি কর্মকর্তা প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করায় দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন প্রায় ১০ হাজার মানুষ। সপ্তাহে একদিন কয়েক ঘণ্টা তিনি ইউনিয়নের দাপ্তরিক কার্যক্রমে উপস্থিত থাকেন। ফলে জন্মনিবন্ধন, নাগরিকত্ব সনদ, ট্রেড লাইসেন্স, ওয়ারিশ সনদ, মৃত্যু সনদ, ডিজিটাল সেবা কার্যক্রম, সামাজিক সালিশ, গ্রাম আদালতসহ অন্যান্য নানা উপকারভোগী কার্যক্রম প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। এ ছাড়া, সরকারি বিভিন্ন সহায়তা কার্যক্রম কর্মসূচি ও ইউপি’র উন্নয়ন প্রকল্পের কার্যক্রমও স্থবির হয়ে পড়ছে। নাগরিক সেবাবঞ্চিত ইউনিয়নবাসী তাদের দুর্ভোগের বিষয় উল্লেখ করে সিলেটের জেলা প্রশাসক, উপ-পরিচালক (স্থানীয় সরকার) ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে লিখিত আবেদন করেছেন। জানা যায়, গত বছরের ৩০শে অক্টোবর মাথিউরা ইউপি চেয়ারম্যান মো. আমান উদ্দিনকে স্থায়ীভাবে অপসারণ করে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়। এরপর নিয়মানুযায়ী প্যানেল চেয়ারম্যান-১ দায়িত্ব পালনের কথা থাকলেও সিলেটের তৎকালীন জেলা প্রশাসক শের এ মাহবুব মুরাদ অজ্ঞাত কারণে এখানে প্রশাসক নিয়োগ করেন।

এতে সংক্ষুব্ধ প্যানেল চেয়ারম্যান-১ মো. আলতাফ হোসেন হাইকোর্টে রিট মামলা দায়ের করেন। হাইকোর্টের আদেশে প্রশাসক নিয়োগের সিদ্ধান্ত বাতিল করা হয়। তবে হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে সরকারপক্ষ আপিল করলে ফের প্রশাসককে দায়িত্ব দেন জেলা প্রশাসক। প্রায় মাস দুয়েক পূর্বে মাথিউরা ইউপি’র প্রশাসক ও প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. আব্দুল হাই মবিন অন্যত্র বদলি হয়ে যান। পরবর্তীতে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাজেদুল ইসলামকে প্রশাসকের দায়িত্ব দেয়া হয়। এলাকাবাসীর অভিযোগ, নতুন প্রশাসক সপ্তাহে একদিন মাত্র ২-৩ ঘণ্টা দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালনা করেন। এতে তারা নাগরিক সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ও মাথিউরা ইউনিয়নের প্রশাসক সাজেদুল ইসলাম বলেন, সরকারি দায়িত্ব পালনের মধ্যেও সময় বের করে প্রশাসকের দায়িত্ব পালন করছি। প্যানেল চেয়ারম্যান-১ মো. আলতাফ হোসেন বলেন, নিয়মানুযায়ী চেয়ারম্যান পদ আমি পাই অথচ আমাকে বঞ্চিত করা হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উম্মে হাবিবা মজুমদার বলেন, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত মোতাবেক প্রশাসক দায়িত্ব পালন করছেন। নাগরিক দুর্ভোগের বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করা হবে।


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন