প্রয়াত আওয়ামী লীগ নেতা ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর বাসভবনে অগ্নিসংযোগের চেষ্টা করেছে দুর্বৃত্তরা। পেট্রোল বোমাসদৃশ একটি বস্তু নিক্ষেপ করলে সাময়িক আগুনের সৃষ্টি হয়। স্থানীয়দের উপস্থিতি টের পেয়ে হামলাকারীরা দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। গত বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে নগরের পাঁচলাইশ থানার মেয়র গলি এলাকায় অবস্থিত চশমা হিলে এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, ৬ থেকে ৭ জনের একটি দল বাসভবন লক্ষ্য করে দাহ্য পদার্থসমৃদ্ধ বোমাসদৃশ বস্তু নিক্ষেপ করে। এতে বাড়ির সামনের একটি পাইপলাইনে আগুন ধরে যায়।
আগুন দেখে আশপাশের বাসিন্দারা এগিয়ে এলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। পরে ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেয়া এক প্রতিক্রিয়ায় এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর ছোট ছেলে বোরহানুল হাসান চৌধুরী সালেহিন বলেন, এটি শুধু একটি বাড়ির ওপর হামলা নয়, বরং একটি পরিবারের নিরাপত্তা ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের ওপর আঘাত। তিনি নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান। পাঁচলাইশ থানার ওসি মোহাম্মদ জাহেদুল ইসলাম জানান, সিসিটিভি ফুটেজে কয়েকজন তরুণকে ঘটনাস্থলের আশপাশে দেখা গেছে।
তারা আগুন ধরানোর চেষ্টা করে পালিয়ে যায়। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। লিখিত অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। ঘটনার পর এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে বলেও জানান তিনি। গত ৫ই আগস্ট ভারতে অবস্থানরত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভার্চ্যুয়াল সংবাদ সম্মেলনে আওয়ামী লীগের সাবেক শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলের অংশগ্রহণের পর এই হামলার ঘটনা ঘটেছে। উল্লেখ্য, গত দুই বছরে চশমা হিলের এই বাসভবনে এটি চতুর্থ দফার হামলার ঘটনা। ২০২৪ সালের ৩রা আগস্ট প্রথম হামলার পর একই বছরের ৫ই আগস্ট দ্বিতীয় দফায় ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। এরপর ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে আবারো ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগ ওঠে।
