নবীনগরে অনাবাদি জমিতে আউশ আবাদ বদলে যাচ্ছে কৃষির চিত্র

নবীনগরে অনাবাদি জমিতে আউশ আবাদ বদলে যাচ্ছে কৃষির চিত্র

ফন্ট সাইজ:

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে দীর্ঘদিন অনাবাদি পড়ে থাকা জমিতে এবার আউশ ধান চাষের নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছে। আধুনিক সোলার সেচ ব্যবস্থা, কৃষি বিভাগের পরিকল্পিত উদ্যোগ এবং কৃষকদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে চলতি মৌসুমে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় প্রথমবারের মতো প্রায় দেড়শ’ বিঘা জমিতে আউশ ধানের আবাদ হয়েছে। বিশেষ করে তিতাস নদীর তীরবর্তী এলাকায় ঋজঊঅচ প্রকল্পের অর্থায়নে স্থাপিত সোলার সেচ ব্যবস্থার মাধ্যমে নবায়নযোগ্য সৌরশক্তি ব্যবহার করে কৃষিজমিতে সেচের পানি সরবরাহ করা হচ্ছে। উন্নতমানের ভূগর্ভস্থ বারিড পাইপলাইনের মাধ্যমে জমিতে তুলনামূলকভাবে নিরবচ্ছিন্নভাবে সেচের পানি পৌঁছে দেয়ায় অনাবাদি জমিগুলোও এখন চাষাবাদের আওতায় এসেছে। কৃষি বিভাগের বিভিন্ন প্রকল্প ও প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় কৃষকদের বিনামূল্যে উন্নতমানের বীজ, সারসহ বিভিন্ন কৃষি উপকরণ দেয়া হয়েছে। সরজমিন উপজেলার দোলাবাড়ী গ্রাম ঘুরে দেখা যায়, বিস্তীর্ণ মাঠ জুড়ে দুলছে পাকা আউশ ধানের সোনালি শীষ। কৃষকদের মুখেও ফুটে উঠেছে সন্তুষ্টির ছাপ।

এ এলাকায় এবারই প্রথম প্রায় ৭৫ বিঘা জমিতে ব্রিধান-৯৮ ও ব্রিধান-৪৮ জাতের আউশ ধানের আবাদ করা হয়েছে। স্থানীয় কৃষকরা জানান, আগে সেচের অভাবসহ নানা কারণে এসব জমি বছরের পর বছর অনাবাদি পড়ে থাকতো। সোলার সেচ ব্যবস্থা চালু হওয়ায় এখন কম খরচে জমিতে পানি দেয়া সম্ভব হচ্ছে। ফলে অনাবাদি জমিতে ধান চাষ করে তারা বাড়তি আয়ের আশাও করছেন। কৃষি সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সৌরশক্তিনির্ভর সেচ ব্যবস্থা কৃষিতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে। এতে একদিকে যেমন অনাবাদি জমি চাষের আওতায় আসছে, অন্যদিকে জ্বালানি ব্যয় কমানোর পাশাপাশি নবায়নযোগ্য শক্তির ব্যবহার বাড়ছে। নবীনগরের দীর্ঘদিনের অনাবাদি জমি সোলার সেচের মাধ্যমে আবাদযোগ্য হয়ে ওঠায় কৃষির চিত্রে ইতিমধ্যে ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা দিয়েছে। সবুজে ভরে ওঠা মাঠ যেন সেই পরিবর্তনেরই জীবন্ত প্রতিচ্ছবি। সাতমোড়া ইউনিয়নের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা সফুরুল্লাহ জানান, গত মৌসুমে কৃষক মন্নান মিয়ার ক্ষেতে বিনাধান-১৯-এর প্রদর্শনী সফল হওয়ায় তিনি বীজ সংরক্ষণ করেন। চলতি মৌসুমে বাংলাদেশ কৃষি পরমাণু গবেষণা ইনস্টিটিউটের প্রদর্শনী ও প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় কৃষকদের বিনামূল্যে বীজ, সার ও অন্যান্য উপকরণ সরবরাহ করা হয়েছে।

নবীনগর উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মো. জাহাঙ্গীর আলম লিটন বলেন, নবায়নযোগ্য শক্তির ব্যবহার করে সোলার সেচ স্কিমের আওতায় প্রথমবারের মতো দোলাবাড়ীতে ৭৫ বিঘা জমি একসঙ্গে আউশ আবাদের আওতায় আনা হয়েছে। উন্নতমানের বারিড পাইপলাইনের মাধ্যমে সেচের পানি সরবরাহ করায় পানির অপচয় কমেছে এবং কৃষকদের সেচ ব্যয়ও উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে। তিনি আরও বলেন, চলতি মৌসুমে নবীনগর উপজেলায় প্রায় দেড়শ’ বিঘা অনাবাদি জমিতে নতুন করে আউশ আবাদ হয়েছে। আমাদের লক্ষ্য হলো বোরো মৌসুম শেষে বন্যামুক্ত অনাবাদি জমিগুলোকে স্বল্পমেয়াদি আউশ ধানের আওতায় এনে খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি, কৃষকের আয় বৃদ্ধি এবং টেকসই কৃষি ব্যবস্থা গড়ে তোলা।


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন