অপরাধী যেই হোক রাজনৈতিক সেল্টারের কোনো সুযোগ নেই- আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান

অপরাধী যেই হোক রাজনৈতিক সেল্টারের কোনো সুযোগ নেই- আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান

ফন্ট সাইজ:

আইন বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আসাদুজ্জামান বলেছেন, ধর্ষণের মতো অপরাধের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি, অপরাধীদের আশ্রয়দাতা ও সহযোগী কাউকেই ছাড় দেয়া হবে না বলে হুঁশিয়ার করেন। আইনের সর্বোচ্চ প্রয়োগের মাধ্যমে এ ধরনের অপরাধীদের বিচারের মুখোমুখি করা হবে। অপরাধীদের রাজনৈতিক পরিচয়ে আশ্রয়ের কোনা সুযোগ থাকবে না। শনিবার সকালে ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জেলার সংসদ সদস্য ও জেলায় কর্মরত সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে আইনমন্ত্রী এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থান শহীদদের তাজা রক্তের বিনিময়ে দেশে একটি উৎসবমুখর পরিবেশের মধ্যদিয়ে গণতান্ত্রিকপন্থায় নির্বাচন হয়েছে, আমরা একটি সরকার পেয়েছি। জুলাই শহীদদের অমর্যাদা হয় বা তাদের আত্মা কষ্ট পায় এমন কোন কর্মকাণ্ড এই সরকার মেনে নেবে না। মতবিনিময় সভায় ঝিনাইদহ-২ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য আলী আজম মো. আবুবকর, ঝিনাইদহ-৩ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক মতিয়ার রহমান, ঝিনাইদহ-৪ আসনের সংসদ সদস্য মাওলানা আবু তালেব, জেলা প্রশাসক মো. আব্দুল্লাহ আল মাসউদ ও পুলিশ সুপার মাহফুজ আফজাল, জেলা বিএনপি’র সভাপতি এড. এম এ মজিদসহ জেলার ৬ উপজেলায় কর্মরত বিভিন্ন দপ্তরের সরকারি কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে সাংবিধানিকভাবে ১৩৩ অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছিল। আগামী সংসদের প্রথম অধিবেশনেই অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রত্যেকটা অধ্যাদেশই আমরা বিল আকারে পেশ করবো। তিনি আরও বলেন, চাঞ্চল্যকর নরসিংদীর ধর্ষণ মামলায় যারা জড়িত তাদের যদি কেউ আশ্রয় দেয় তাদের শেকড় ধরে উপড়ে ফেলা হবে। মাগুরার চাঞ্চল্যকর আছিয়া হত্যাকাণ্ডের সময় আমি অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছি। দ্রুত আছিয়া হত্যার বিচার সম্পন্ন করা হয়েছে। নরসিংদী ও ঝিনাইদহের শিশু তাবাসসুম হত্যা মামলাও সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বিবেচনা করা হবে। দুর্নীতি বন্ধে প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের কঠোর অবস্থানের নির্দেশনা দিয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, এই সরকার দুর্নীতির এবং মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ঘোষণা করেছে। জনগণের জন্য উন্নয়ন ও অবকাঠামো খাতে বরাদ্দকৃত প্রতিটি টাকার হিসাব কড়ায়গণ্ডায় বুঝে নেয়া হবে। কেও যদি এক পয়সা কমিশন নেয় বা দুর্নীতি করে, তবে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। সড়ক ও অবকাঠামো খাতের উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, উন্নয়নমূলক কাজের কোয়ালিটির ব্যাপারে এখন থেকে আর কোনো কমপ্রমাইজ করা হবে না। কোনো ঠিকাদার যদি সড়ক ও সরকারি বরাদ্দের অবকাঠামো নির্মাণ কাজে অনিয়ম করে তবে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। কমিশন বাণিজ্য ও চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িতদের নির্মূলে সরকার ও বিরোধী দল ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করবে উল্লেখ করে আইনমন্ত্রী বলেন, যদি আজকের পর থেকে ঝিনাইদহে যারা চাঁদাবাজি, কমিশন বাণিজ্য, হুমকি-ধমকি, রাজনৈতিক দলাদলি করার চেষ্টা করবে, তাদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নেয়া হবে। আইনমন্ত্রী বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহীদ ও আহতদের অমর্যাদা এই সরকার মেনে নেবে না। জুলাই গণ-অভ্যুত্থান চলাকালে যে বা যারা যতটুকু অপরাধ করেছে, তাদেরকে সেই অপরাধের জন্য অবশ্যই শাস্তি পেতে হবে।


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন