মিয়ানমারের সামরিক জান্তা মিন অং হ্লাইং থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে প্রধানমন্ত্রী আনুতিন চার্নভিরাকুলের সঙ্গে বৈঠক করতে দুই দিনের ‘রাষ্ট্রীয়’ সফর শুরু করেছেন। ১০ই এপ্রিল সামরিকপন্থী পার্লামেন্টের মাধ্যমে মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার পর আসিয়ানভুক্ত কোনো দেশে এটি তার দ্বিতীয় সফর। ৪ঠা আগস্ট ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তায় সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় থাই প্রধানমন্ত্রী আনুতিন বলেন, মিয়ানমারের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে থাইল্যান্ড এমন একটি ‘পরিমিত পুনঃসম্পৃক্ততার’ নীতি অনুসরণ করছে, যাতে সংলাপের পথ খোলা রাখা এবং বাস্তব পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখার পাশাপাশি দৃশ্যমান অগ্রগতিকে উৎসাহিত করা যায়।
এ খবর দিয়েছে অনলাইন ডেমোক্রেটিক ভয়েস অব বার্মা। আনুতিনের সঙ্গে ৬ই আগস্ট মিন অং হ্লাইং ২০২৬ সালের থাইল্যান্ড-মিয়ানমার বিজনেস ফোরামে অংশ নেন। সেখানে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয়। আনুতিন জানান, মিয়ানমারের জন্য আসিয়ানের নির্ধারিত শান্তি পরিকল্পনা ‘ফাইভ-পয়েন্ট কনসেনসাস’ মেনে চলতে মিন অং হ্লাইংয়ের ওপর চাপ দেয়া হচ্ছে। এই পরিকল্পনায় সহিংসতা বন্ধ, রাজনৈতিক বন্দিদের মুক্তি এবং সব পক্ষকে নিয়ে অন্তর্ভুক্তিমূলক সংলাপের আহ্বান জানানো হয়েছে। এদিকে, মিন অং হ্লাইংয়ের ব্যাংকক সফরের বিরোধিতা করে ৫ই আগস্ট থাইল্যান্ডের ১৬টি নাগরিক সংগঠন যৌথ বিবৃতি দিয়েছে। মালয়েশিয়া সরকার বুধবার জানিয়েছে, প্রাথমিকভাবে ৫ হাজার শরণার্থীÑ যাদের বেশির ভাগই জাতিগত রোহিঙ্গাÑ মিয়ানমারে ফেরত পাঠানোর পরিকল্পনা থাকলেও ফেরত গেলে তাদের জীবন ঝুঁকিতে পড়বে বা নির্যাতনের শিকার হওয়ার আশঙ্কা থাকলে সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে না।
সাপ্তাহিক মন্ত্রিসভা-পরবর্তী সংবাদ ব্রিফিংয়ে যোগাযোগমন্ত্রী ও সরকারের মুখপাত্র ফাহমি ফাদজিল এ কথা জানান। তিনি বলেন, কোনো শরণার্থীকে ফেরত পাঠানোর আগে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় (উইসমা পুত্রা) ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যাচাই-বাছাইয়ের প্রক্রিয়া পর্যালোচনা করছে। একই সঙ্গে নেপিডোর জান্তা সরকারের সঙ্গে সমন্বয় করে ফেরত পাঠানোর মানদণ্ড নির্ধারণ করা হচ্ছে।
