প্রথম আলো
‘গ্যাস সরবরাহ বেড়েছে, সংকট কাটেনি’-এটি দৈনিক প্রথম আলোর প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, দুই সপ্তাহ পর তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহ বাড়তে শুরু করেছে। এতে সারা দেশে গ্যাস সরবরাহ কিছুটা বেড়েছে। তবে গ্যাসের চলমান সংকট এখনো কাটেনি। বন্ধ এলএনজি টার্মিনাল থেকে পুরো সক্ষমতায় গ্যাস সরবরাহ পেতে আরও কয়েক দিন সময় লাগতে পারে। তবে টানা বৃষ্টির কারণে বিদ্যুৎ খাত কিছুটা স্বস্তিতে আছে, কমেছে লোডশেডিং।
বাংলাদেশ তেল, গ্যাস, খনিজ সম্পদ করপোরেশন (পেট্রোবাংলা) ও গ্যাস ট্রান্সমিশন কোম্পানি লিমিটেড (জিটিসিএল) সূত্র বলছে, গতকাল বৃহস্পতিবার ভোর ৩টা ১০ মিনিটে এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনাল থেকে গ্যাস সরবরাহ শুরু হয়। শুরুতে ১১ কোটি ৫০ লাখ ঘনফুট সরবরাহ করা হলেও ধীরে ধীরে এটি বেড়ে গতকাল সন্ধ্যার আগেই ৩০ কোটি ঘনফুটে পৌঁছায়।
আমদানি করা এলএনজি সরবরাহের জন্য কক্সবাজারের মহেশখালীতে দুটি ভাসমান টার্মিনাল আছে। এর মধ্যে মার্কিন কোম্পানি এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনালের সক্ষমতা ৬০ কোটি ঘনফুট ও সামিটের টার্মিনালের সক্ষমতা ৫০ কোটি ঘনফুট। গত ২১ জুলাই অগ্নিদুর্ঘটনায় এক্সিলারেটের টার্মিনাল বন্ধ হয়ে যায়। এতে গ্যাসের সরবরাহ কমে যায়, ফলে বেড়ে যায় সংকট। রান্নার চুলা থেকে শুরু করে শিল্পকারখানা, বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হয়। যানবাহনেও সিএনজি পেতে দীর্ঘ সারি পড়ে যায় ফিলিং স্টেশনে।
পেট্রোবাংলা সূত্র বলছে, এক্সিলারেটের টার্মিনালে দুটো বয়লার আছে। প্রতিটি বয়লারের সক্ষমতা ৩০ কোটি ঘনফুট করে। এর মধ্যে একটি আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অক্ষত বয়লারটি থেকে গতকাল গ্যাস সরবরাহ শুরু হয়েছে। আর ক্ষতিগ্রস্ত বয়লারটি চালু করতে কাজ চলছে। গতকালও বিদেশ থেকে বেশ কিছু যন্ত্রাংশ আমদানি হয়ে বিমানবন্দরে এসেছে। কাস্টমস ছাড়পত্র নিয়ে আজ শুক্রবার এগুলো মহেশখালীর টার্মিনালে পৌঁছাতে পারে। সব কাজ শেষ করে ১০ আগস্টের আগে এটি চালু করা সম্ভব না–ও হতে পারে।
টার্মিনাল পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত বয়লারটি চালু করার জন্য প্রস্তুত হলে, তা পরীক্ষা করতে বর্তমানে চালু বয়লারটি বন্ধ করতে হবে। ওই সময় এক্সিলারেটের টার্মিনাল থেকে গ্যাস সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাবে। অন্তত ১২ ঘণ্টা বন্ধ রাখার পর আবার গ্যাস সরবরাহ শুরু হবে। এরপর ধীরে ধীরে সরবরাহ স্বাভাবিক হবে।
দেশে দিনে গ্যাসের চাহিদা ৩৮০ কোটি ঘনফুট। স্বাভাবিক সময়ে ২৭০ কোটি ঘনফুট পর্যন্ত সরবরাহ করে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া হয়। এর মধ্যে এলএনজি থেকে সরবরাহ করা হয় ১০৫ কোটি ঘনফুট। এক্সিলারেটের টার্মিনাল বন্ধের পর টানা চার দিন সক্ষমতার বেশি এলএনজি সরবরাহ করেছে সামিটের টার্মিনাল। দিনে প্রায় ৫৭ কোটি ঘনফুট পর্যন্ত সরবরাহ করেছে তারা। এর পর থেকে প্রতিদিন ৫০ কোটি ঘনফুট সরবরাহ করা হচ্ছে। এতে দিনে গ্যাসের সরবরাহ ২১৫ কোটি ঘনফুটে নেমে আসে। গতকাল এক্সিলারেটের টার্মিনাল আংশিক চালুর পর এটি বেড়ে ২৪৫ কোটি ঘনফুট পার করেছে। পুরো টার্মিনাল চালু হলে আবার ২৭০ কোটি ঘনফুট করে সরবরাহ করা যাবে।
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত গতকাল দুপুরে তাঁর ফেসবুকে বলেন, কারিগরি ত্রুটির কারণে এলএনজি টার্মিনাল থেকে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকায় দেশে গ্যাস–সংকট দেখা দেয়। এর প্রভাবে শিল্প, বিদ্যুৎ ও আবাসিক খাতের গ্রাহকদের গ্যাসের স্বল্পচাপ ও সরবরাহ বিঘ্ন হয়। কারিগরি ত্রুটি মেরামত শেষে জাতীয় গ্রিডে ২০ থেকে ২৫ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে।
বৃষ্টিতে কমেছে লোডশেডিং
চাহিদার বিপরীতে সরবরাহে ঘাটতি রেখেই দেড় দশক ধরে চলছে গ্যাস খাত। এর মধ্যে কয়েক বছর ধরে দেশি গ্যাসের উৎপাদনও টানা কমছে। তাই এলএনজির ওপর নির্ভরতা নিয়মিত বাড়ছে। প্রতিদিন সরবরাহ করা মোট গ্যাসের ৩৫ থেকে ৪০ শতাংশই আসে এলএনজি থেকে। কোনো কারণে এলএনজি সরবরাহ কমলেই গ্যাসের সংকট বেড়ে যায়। এর আগে ২০২৪ সালে ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে প্রায় সাড়ে তিন মাস বন্ধ ছিল সামিটের টার্মিনাল। এ ছাড়া ২০২২ সালে বিশ্ববাজারে দাম বেড়ে যাওয়ায় টানা সাত মাস খোলাবাজার থেকে এলএনজি কেনা বন্ধ রেখেছিল সরকার।
দেশে সবচেয়ে বেশি গ্যাস ব্যবহৃত হয় বিদ্যুৎ খাতে। সরবরাহ কমায় গ্যাস থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন কমে গেলে বিদ্যুতের ঘাটতি বেড়ে যায়। কয়েক দিন ধরে দিনে সর্বোচ্চ তিন থেকে সাড়ে তিন হাজার মেগাওয়াট লোডশেডিং করা হয়। বুধবার ছুটির দিনেও সর্বোচ্চ লোডশেডিং হয়েছে প্রায় তিন হাজার মেগাওয়াট। তবে গতকাল দিনভর বৃষ্টি হওয়ায় বিদ্যুৎ চাহিদা কম ছিল। বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত সর্বোচ্চ লোডশেডিং হয়েছে ৩২৫ মেগাওয়াট। গরম বাড়লে আবার লোডশেডিং বাড়তে পারে।
বিদ্যুতের পর সবচেয়ে বেশি গ্যাস ব্যবহার করে শিল্পকারখানা। দেশের বিভিন্ন এলাকার কারখানা দীর্ঘদিন ধরেই গ্যাসের সমস্যায় ভুগছে। নতুন কারখানায় সংযোগ বন্ধ আছে। পুরোনো কারখানা উৎপাদন ধরে রাখতে হিমশিম খাচ্ছে। এর মধ্যে গত কয়েক দিনের গ্যাস–সংকট নিয়ে বিপাকে পড়েছে দেশের উৎপাদনমুখী কারখানাগুলো। কোনো কোনো কারখানা শ্রমিকদের ছুটি দিয়েছে। রপ্তানি কমার পাশাপাশি স্থানীয় বাজারে নিত্যপণ্যের সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার শঙ্কা করছেন ব্যবসায়ীরা।
জ্বালানিবিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনুসন্ধানের তুলনায় গ্যাসক্ষেত্রের সন্ধান পাওয়ার ক্ষেত্রে সফলতার হার বৈশ্বিক গড়ের চেয়ে বাংলাদেশে বেশি। তবু দেশে যথাযথ অনুসন্ধান করা হয়নি। সমুদ্রসীমা বিজয়ের ১৪ বছর পরও বঙ্গোপসাগরে তেল–গ্যাসের সন্ধান পাওয়া যায়নি। দেশীয় গ্যাসের অনুসন্ধান ও উৎপাদনে জোর দিলেই দীর্ঘ মেয়াদে সমাধান মিলতে পারে। আমদানিনির্ভরতায় ঝুঁকি থাকবেই। অবশ্য অনুসন্ধান ও উৎপাদন বাড়াতে জোর তৎপরতা চালানোর কথা বলছে বর্তমান সরকার।
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) সাবেক অধ্যাপক ইজাজ হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, দেশের অর্থনীতি ও ডলারের সংকট আছে। তাই আমদানির ওপর ভরসা করা কঠিন। দেশের জ্বালানি–সংকট গভীর। এখন তাৎক্ষণিক কোনো সমাধান নেই। পুরো খাত ঢেলে সাজাতে হবে। সামর্থ্য বুঝে ব্যবস্থা নিতে হবে। জ্বালানি–সাশ্রয়ী শিল্প তৈরির দিকে যেতে হবে। দক্ষতা বাড়াতে হবে। গ্যাস চুরি বন্ধ করতে হবে। কারণ, জ্বালানি পরিস্থিতি ঠিক না হলে দেশ চলবে না।
যুগান্তর
দৈনিক যুগান্তরের প্রথম পাতার শিরোনাম ‘ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কে নতুন অস্থিরতা’। প্রতিবেদনে বলা হয়, ভারতের মাটিতে বসে ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত ও ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার রাজনৈতিক বক্তব্য জুলাই শহীদদের প্রতি অবমাননা বলে আখ্যা দিয়েছে ঢাকা। এতে দুই দেশের সম্পর্কে নতুন করে অস্থিরতা সৃষ্টি হয়েছে। ভারত সরকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উন্নয়নের কথা বললেও তাদের পরোক্ষ সমর্থন ছাড়া দিল্লিতে এমন আয়োজন কোনোভাবেই সম্ভব নয় বলে মনে করছেন কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা। তারা বলছেন, এ ঘটনায় ভারতের ‘দ্বিমুখী নীতি’ স্পষ্ট হয়েছে। এদিকে প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে চাপ বাড়িয়েছে বাংলাদেশ সরকার।
বুধবার সন্ধ্যায় ভারতের নয়াদিল্লির ফরেন করেসপনডেন্টস ক্লাব (এফসিসি) অব সাউথ এশিয়ার নির্ধারিত এক প্রেস কনফারেন্সে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে বক্তব্য দেন শেখ হাসিনা। এতে আলোচকদের মধ্যে শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়, সাবেক শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী ও ক্রিকেটার সাকিব আল হাসান ছিলেন। এই আয়োজনের কয়েকদিন আগেই শেখ হাসিনা যেন ভারত থেকে কোনো রাজনৈতিক বক্তব্য না দেন, সে বিষয়ে দেশটির সহযোগিতা চাওয়া হয়েছিল। সোমবার পররাষ্ট্র উপদেষ্টা হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর বৈঠকেও বিষয়টি তোলা হয়। একই দিন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ শেখ হাসিনার রাজনৈতিক বক্তব্য দেওয়ার বিষয়ে ভারতকে তার অবস্থান স্পষ্ট করতে হবে বলে গণমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন। একদিন পর মঙ্গলবার ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল নিয়মিত এক ব্রিফিংয়ে জানান, শেখ হাসিনার বক্তব্য দেওয়ার আয়োজনে ভারত সরকারের কোনো ধরনের সম্পৃক্ততা নেই। তাই এর দায়ও তারা নেবে না।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে জাতীয় অধ্যাপক ড. মাহবুব উল্লাহ্ যুগান্তরকে বলেন, প্রথমত একজন ফেরারি ও দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি হিসাবে তার এই বক্তব্য দেওয়া সাজে না। জানি না, আইনগতভাবেও এই বক্তব্যের কোনো গ্রহণযোগ্যতা আছে কি না। দ্বিতীয়ত, বাংলাদেশের মানুষ তার শাসনকাল দেখেছে। তার অত্যাচার, অবিচার, দুঃশাসন দেখেছে। তিনি কীভাবে জনগণের ভোটের অধিকার কেড়ে নিয়েছিলেন, সেটি প্রত্যক্ষ করেছে। তারপর আবার তাকে দেশের মানুষ হাত বাড়িয়ে কোলে তুলে নেবে, এটি একেবারেই অলীক কল্পনা ছাড়া আর কিছুই নয়। তিনি কল্পনার রাজ্যে বসবাস করছেন এবং বাস্তবতাকে অস্বীকার করছেন।
এদিকে শেখ হাসিনাকে ভার্চুয়ালি বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়ায় বুধবার রাতেই ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে বাংলাদেশ। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, জুলাই বিপ্লবের দ্বিতীয় বার্ষিকী উদযাপনের দিন ভারতের মাটিতে শেখ হাসিনার এই মতবিনিময় বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের প্রতি অবমাননা এবং জুলাই বিপ্লবের শহীদদের প্রতি গুরুতর অপমান। এটি বাংলাদেশ-ভারতের সৌহার্দপূর্ণ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক বিকাশে ক্ষতিকর।
এতে আরও বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে শিশুসহ নিরীহ বেসামরিক নাগরিকদের হত্যাকাণ্ড নিয়ে জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠিত তথ্য অস্বীকার করা ইতিহাসের গতিপথ উলটে দেওয়ার একটি ব্যর্থ চেষ্টা। শেখ হাসিনা ও তার সহযোগীরা এ ধরনের অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ২০১৩ সালের বাংলাদেশ-ভারত প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য ভারত সরকারের কাছে বারবার অনুরোধ জানানো হলেও এখনো কোনো জবাব পাওয়া যায়নি।
সাবেক রাষ্ট্রদূত ও কূটনীতিক এম হুমায়ুন কবির যুগান্তরকে বলেন, শেখ হাসিনা তার নিজ দেশে ফিরে আসতে চাইতেই পারেন। কিন্তু বিভিন্ন আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেই তাকে দেশে আসতে হবে। তবে তিনি যা বলছেন আর তার সরকারের সময়ে বাস্তব অবস্থা যা ছিল-দুটো এক নয়।
কালের কণ্ঠ
‘বিএনপির কাঠামোয় বড় পরিবর্তন আসছে’-এটি দৈনিক কালের কণ্ঠের প্রধান শিরোনাম। প্রতিবেদনে বলা হয়, এক দশক পর জাতীয় কাউন্সিলের প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে বিএনপি। চলতি বছরের নভেম্বরকে সম্ভাব্য সময় ধরে দলের উচ্চ পর্যায়ে চলছে জোর প্রস্তুতি।
ডিসেম্বরের আগেই কাউন্সিল সম্পন্ন করতে চায় তারা। বিএনপির একাধিক শীর্ষ নেতা কালের কণ্ঠকে এ তথ্য দিয়েছেন। দলের সাংগঠনিক কাঠামোতে বড় রদবদল আসতে পারে। আসন্ন কাউন্সিলে প্রথমবারের মতো বিএনপির ১০ সাংগঠনিক বিভাগে ‘যুগ্ম মহাসচিব’ করা হতে পারে বলে দলের দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে।
২০১৬ সালের ১৯ মার্চ বিএনপির ষষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়। নানা সীমাবদ্ধতার কারণে দলটি গত ১০ বছর কাউন্সিল করতে পারেনি।
এ ব্যাপারে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘জাতীয় কাউন্সিল নিয়ে আমাদের মধ্যে ভালো আলোচনা আছে। স্থায়ী কমিটির শূন্য পদ পূরণ করাসহ পূর্ণাঙ্গ নির্বাহী কমিটি করার জন্য আলোচনা হচ্ছে। খুব অল্প সময়ের মধ্যেই কাউন্সিল হবে।’
ডিসেম্বর নাকি জানুয়ারিতে কাউন্সিল হবে? এমন এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমরা আরো আগেই কাউন্সিল করার চেষ্টা করছি।’ এ ছাড়া বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমরা একটা জাতীয় কাউন্সিল করার চিন্তা করছি। কাউন্সিলে পূর্ণাঙ্গ কমিটি হবে।’
কবে নাগাদ কাউন্সিল হতে পারে—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘দিন-তারিখ ঠিক হয়নি। কাউন্সিল নরমালি শীতের সময় হয়। তবে শিগগিরই করার জন্য আলোচনা চলছে।’
এদিকে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়েছে। দলের নীতিনির্ধারণী ফোরামের সদস্য থেকে রাষ্ট্রপতি মনোনয়ন দেওয়া হবে বলে জানা গেছে। এর মধ্যে বিএনপির মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ড. আব্দুল মঈন খান ও নজরুল ইসলাম খানের নাম আলোচনায় আছে। তাঁদের মধ্য থেকে যে কেউ রাষ্ট্রপতি হলে স্থায়ী কমিটিতে আরেকটি পদ শূন্য হবে। আবার মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলে মহাসচিব ও স্থায়ী কমিটির পদ শূন্য হবে।
স্থায়ী কমিটিতে সাতটি শূন্য পদ রয়েছে। মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলে জাতীয় কাউন্সিলের আগ পর্যন্ত এ পদে দায়িত্ব একজনকে দেওয়া হতে পারে। সে ক্ষেত্রে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিবকে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে। সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব পদে আসতে পারেন যুগ্ম মহাসচিব থেকে যে কেউ। আলোচনায় আছেন খায়রুল কবির খোকন, হাবীব উন নবী খান সোহেল, শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী প্রমুখ।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, স্থায়ী কমিটিতে পাঁচজন নতুন যুক্ত হতে পারেন। এ ছাড়া এবার দল পুনর্গঠনে সবচেয়ে বড় চমক হতে পারে বিএনপির ১০ সাংগঠনিক বিভাগে ‘যুগ্ম মহাসচিব’ যুক্ত হওয়ার বিষয়টি। বর্তমানের বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদকরা দায়িত্ব পালন করছেন। নতুন পদ তৈরি হলে যুগ্ম মহাসচিবরা বিভাগীয় দায়িত্ব পালন করবেন। পাশাপাশি থাকবেন সাংগঠনিক সম্পাদকরাও।
সমকাল
দৈনিক সমকালের প্রধান শিরোনাম ‘একযোগে ৭৫ হাজার শিক্ষক-কর্মচারীকে পাওনা দেবে সরকার’। প্রতিবেদনে বলা হয়, এমপিওভুক্ত ৭৫ হাজার শিক্ষক-কর্মচারীর অবসর ভাতা ও কল্যাণ ট্রাস্টের অর্থ পরিশোধ করতে যাচ্ছে সরকার। আগামী ১৫ আগস্ট দেশের ৬৪ জেলায় একযোগে এই অর্থ পরিশোধ করা হবে। এ জন্য এই খাতে দুই হাজার কোটি টাকা বিশেষ থোক বরাদ্দ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। তবে শিক্ষক-কর্মচারীদের শঙ্কা, একসঙ্গে পুরো টাকা তাদের এখনই নাও দেওয়া হতে পারে।
বর্তমানে অবসর বোর্ড ও কল্যাণ ট্রাস্টে এক লাখ ১০ হাজার আবেদন অনিষ্পন্ন রয়েছে। এসব আবেদন নিষ্পত্তিতে প্রয়োজন ১০ হাজার ৩২৬ কোটি টাকা।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, রাজধানীর ওসমানী সস্মৃতি মিলনায়তনে আগামী ১৫ আগস্ট আয়োজিত কেন্দ্রীয় অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রধান অতিথি হিসেবে এই কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন। এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে ২ হাজার কোটি টাকার বিশেষ থোক বরাদ্দ দিতে অর্থ মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। অবসর সুবিধা বোর্ড ও শিক্ষক কর্মচারী কল্যাণ ট্রাষ্ট দুই প্রতিষ্ঠানের ইতিহাসে এটিই সবচেয়ে বড় এককালীন অর্থ বিতরণ কর্মসূচি।
২০২২ সাল থেকে কেউ টাকা পাননি
শিক্ষা মন্ত্রনালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব মো. আবদুল খালেক গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সমকালকে বলেন, ২০২২ সাল থেকে অবসর নেওয়া শিক্ষক-কর্মচারীদের কেউই অবসর সুবিধার টাকা পাননি। দীর্ঘদিন ধরে তারা মানবেতর জীবন কাটাচ্ছিলেন। তাদের দুর্ভোগ লাঘবে প্রধানমন্ত্রী বিশেষ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন আগামী ১৫ আগস্ট একযোগে ৭৫ হাজার শিক্ষক-কর্মচারীর পাওনা পরিশোধ করা হবে।
সচিব জানান, অর্থ মন্ত্রণালয়কে ২ হাজার কোটি টাকার বিশেষ বরাদ্দ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে অবসর সুবিধা বোর্ডের ৭৫ হাজার আবেদনের নিষ্পত্তি হবে। তাদের মধ্যে প্রায় ৪৪ হাজার ব্যক্তি কল্যাণ ট্রাস্টের অর্থও পারেন।
সচিবের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রাথমিক হিসাবে একজন শিক্ষক-কর্মচারী গড়ে পাঁচ লাখ থেকে ছয় লাখ টাকা পাবেন। তবে চূড়ান্ত হিসাব এখনও চলছে। বিপুল সংখ্যক কর্মকর্তা দিন-রাত কাজ করছেন।
সচিব আরও বলেন, এবার প্রথমবারের মতো আইবাস প্লাস প্লাসের মাধ্যমে সরাসরি ব্যাংক হিসাবে অর্থ পাঠানো হবে। এ জন্য সবার জাতীয় পরিচয়পত্র সংগ্রহ করা হয়েছে। এতে দালালচক্র বা কোনো মধ্যস্বত্বভোগীর সুযোগ থাকবে না।
ইত্তেফাক
‘আবার সিন্ডিকেট, ছাপাখানায় রাষ্ট্রের গচ্চা শতকোটি টাকা’-এটি দৈনিক ইত্তেফাকের প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, শিক্ষার্থীদের বিনা মূল্যের পাঠ্যবই ছাপার কাজে দীর্ঘদিনের সিন্ডিকেট ভাঙতে পারছে না জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)। ২০২৭ শিক্ষাবর্ষে সারা দেশের প্রাক-প্রাথমিক থেকে মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের জন্য ৫৯৬টি লটে ৩০ কোটি ৬১ লাখেরও বেশি ছাপা, বাঁধাই ও সরবরাহের দরপত্র আহ্বান ও উন্মুক্ত হয়েছে। জানা গেছে, দেশে সহস্রাধিক ছাপাখানা থাকলেও এসব দরপত্রের মধ্যে প্রায় ৬০টিতে মাত্র একটি ছাপাখানা অংশ নিয়েছে। বাকিগুলোতে ৩ থেকে ৫টি ছাপাখানা অংশ নিয়েছে। প্রাক্কলিত দরের চেয়ে প্রতি ফর্মায় তারা ১০ পয়সা থেকে ১৭ পয়সা বেশি রেট দিয়েছে। বিনা মূল্যের পাঠ্যবইয়ে প্রায় ১ হাজার কোটি ফর্মা থাকে। সেই হিসাবে প্রতি ফর্মায় গড়ে ১০ পয়সা দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় সরকারের অপচয় হবে প্রায় ১০০ কোটি টাকা!
গত ২০২৪-২৫ অর্থবছরেও বই ছাপায় এমন ঘটনা ঘটেছিল। তারা প্রাক্কলিত দর অপেক্ষা উচ্চ দরে দরপত্র দাখিল করে। কিন্তু তাদের রেসপনসিভ ঘোষণা করে কার্যাদেশ দেওয়া হয়, যা সম্প্রতি শিক্ষা অডিট অধিদপ্তরের নিরীক্ষায় ধরা পড়ে। জানা গেছে, বই ছাপার অধিকাংশ টেন্ডার বিলম্বে আহ্বান করা হয়। যাতে ত্রুটি ধরা পড়লেও বিলম্বের ভয়ে রিটেন্ডার দেওয়ার কোনো সুযোগই না থাকে। শুধু তাই নয়, এবার এনসিটিবির এক শ্রেণির কর্মকর্তা ও ছাপাখানার মালিকরা মিলে সরকারের আরো ৩০০ কোটি টাকা অপচয় ঘটাতে যাচ্ছেন। ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের পাঠ্যবইয়ের ই-টেন্ডারে প্রথমে প্রাক্কলিত দর নির্ধারণ করা হয় প্রতি ফর্মা ৩ টাকা ১০ পয়সা। কিন্তু টেন্ডার লাইভে থাকাবস্থায় হঠাত্ বেআইনিভাবে ৩০ পয়সা বাড়িয়ে প্রতি ফর্মার মূল্য নির্ধারণ করা হয় ৩ টাকা ৪০ পয়সা। সে হিসাবে প্রতি ফর্মায় ৩০ পয়সা দাম বাড়ানোয় সরকারের অপচয় হবে প্রায় ৩০০ কোটি টাকা। অনুসন্ধানে জানা গেছে, প্রতি বারের মতো এবারও ৯০ ভাগ কাজ পাচ্ছে ৮-১০টি ছাপাখানা। এর মধ্যে একটি পরিবারের চার ছাপাখানা পাচ্ছে ২৫ ভাগ কাজ। মুদ্রণ শিল্প সমিতিও তাদের নিয়ন্ত্রণে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, পাঠ্যবই ছাপানো ঘিরে দুর্নীতিবাজ চক্রের সমন্বয়ে গড়ে উঠেছে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট। প্রতি বছরই নিম্নমানের কাগজে ছাপা হচ্ছে পাঠ্যবই। চক্রটি জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) কয়েকজন কর্মকর্তার সঙ্গে আঁতাঁত করে কৌশলে ভাগবাঁটোয়ারা করে নিয়ে নিচ্ছে দেড় থেকে দুই হাজার কোটি টাকার মুদ্রণকাজের সিংহভাগ। এতে নিঃস্ব হয়ে পড়ছেন ক্ষুদ্র-মাঝারি মুদ্রণশিল্পের সঙ্গে জড়িত ব্যবসায়ীরা। হতাশায় অনেকে এ পেশা ছেড়ে দিচ্ছেন।
জানা গেছে, সিন্ডিকেট সদস্যরা ২০২৫ ও ২০২৬ সালের পাঠ্যপুস্তক মুদ্রণে কিছুটা চাপের মুখে ছিল। এনসিটিবির তদন্তেও তাদের অনিয়ম ধরা পড়ে। এনসিটিবির মানদণ্ড অনুযায়ী, ২০২৬ শিক্ষাবর্ষের প্রাথমিক ও ইবতেদায়ির বইয়ে ৮০ জিএসএম ও ৮৫ ব্রাইটনেস নির্ধারণ করা হয়। অন্যদিকে মাধ্যমিকের বইয়ে ৭০ জিএসএম ও ৮৫ ব্রাইটনেস থাকার বাধ্যবাধকতা ছিল। ইন্সপেকশন কোম্পানির তদন্তে বের হয়ে আসে, সিন্ডিকেটের মূলহোতার প্রেসের কাগজে ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ ভার্জিন পাল্প এবং ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ রিসাইকলড কাগজ ছিল। প্রেস দুটি ইবতেদায়ির জন্য যেসব বই সরবরাহ করে, সেগুলো ৮০ জিএসএমের বদলে পাওয়া যায় ৬৫ থেকে ৭০ জিএসএম। ব্রাইটনেসও ৮০-এর বেশি ওঠেনি। অন্যদিকে মাধ্যমিকের জন্য যেসব বই প্রস্তুত করা হয়, সেগুলোতে ৭০ জিএসএমের পরিবর্তে পাওয়া যায় ৬০ থেকে ৬৩ জিএসএম। পরে এনসিটিবির তদন্ত টিম এসব বই কেটে নষ্ট করে দেয়। একই সঙ্গে নতুন করে বই ছাপিয়ে দিতে নির্দেশ দেয় এনসিটিবি।
ই-টেন্ডারে প্রথমে প্রাক্কলিত দর নির্ধারণ করা হয় প্রতি ফর্মা ৩ টাকা ১০ পয়সা। কিন্তু টেন্ডার লাইভে থাকাবস্থায় হঠাত্ বেআইনিভাবে ৩০ পয়সা বাড়িয়ে প্রতি ফর্মার মূল্য নির্ধারণ করা হয় ৩ টাকা ৪০ পয়সা। সে হিসাবে প্রতি ফর্মায় ৩০ পয়সা দাম বাড়ানোয় সরকারের অপচয় হবে প্রায় ৩০০ কোটি টাকা। অনুসন্ধানে জানা গেছে, প্রতি বারের মতো এবারও ৯০ ভাগ কাজ পাচ্ছে ৮-১০টি ছাপাখানা। এর মধ্যে একটি পরিবারের চার ছাপাখানা পাচ্ছে ২৫ ভাগ কাজ। মুদ্রণ শিল্প সমিতিও তাদের নিয়ন্ত্রণে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, পাঠ্যবই ছাপানো ঘিরে দুর্নীতিবাজ চক্রের সমন্বয়ে গড়ে উঠেছে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট। প্রতি বছরই নিম্নমানের কাগজে ছাপা হচ্ছে পাঠ্যবই। চক্রটি জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) কয়েকজন কর্মকর্তার সঙ্গে আঁতাঁত করে কৌশলে ভাগবাঁটোয়ারা করে নিয়ে নিচ্ছে দেড় থেকে দুই হাজার কোটি টাকার মুদ্রণকাজের সিংহভাগ। এতে নিঃস্ব হয়ে পড়ছেন ক্ষুদ্র-মাঝারি মুদ্রণশিল্পের সঙ্গে জড়িত ব্যবসায়ীরা। হতাশায় অনেকে এ পেশা ছেড়ে দিচ্ছেন।
জানা গেছে, সিন্ডিকেট সদস্যরা ২০২৫ ও ২০২৬ সালের পাঠ্যপুস্তক মুদ্রণে কিছুটা চাপের মুখে ছিল। এনসিটিবির তদন্তেও তাদের অনিয়ম ধরা পড়ে। এনসিটিবির মানদণ্ড অনুযায়ী, ২০২৬ শিক্ষাবর্ষের প্রাথমিক ও ইবতেদায়ির বইয়ে ৮০ জিএসএম ও ৮৫ ব্রাইটনেস নির্ধারণ করা হয়। অন্যদিকে মাধ্যমিকের বইয়ে ৭০ জিএসএম ও ৮৫ ব্রাইটনেস থাকার বাধ্যবাধকতা ছিল। ইন্সপেকশন কোম্পানির তদন্তে বের হয়ে আসে, সিন্ডিকেটের মূলহোতার প্রেসের কাগজে ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ ভার্জিন পাল্প এবং ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ রিসাইকলড কাগজ ছিল। প্রেস দুটি ইবতেদায়ির জন্য যেসব বই সরবরাহ করে, সেগুলো ৮০ জিএসএমের বদলে পাওয়া যায় ৬৫ থেকে ৭০ জিএসএম। ব্রাইটনেসও ৮০-এর বেশি ওঠেনি। অন্যদিকে মাধ্যমিকের জন্য যেসব বই প্রস্তুত করা হয়, সেগুলোতে ৭০ জিএসএমের পরিবর্তে পাওয়া যায় ৬০ থেকে ৬৩ জিএসএম। পরে এনসিটিবির তদন্ত টিম এসব বই কেটে নষ্ট করে দেয়। একই সঙ্গে নতুন করে বই ছাপিয়ে দিতে নির্দেশ দেয় এনসিটিবি।
নয়া দিগন্ত
দৈনিক নয়া দিগন্তের প্রধান শিরোনাম ত্রিদেশীয় সীমান্তে তিন সশস্ত্র গোষ্ঠীর ‘ডেঞ্জার জোন’। খবরে বলা হয়, বাংলাদেশ, মিয়ানমার ও ভারতের সীমান্ত সংযোগস্থলে গড়ে উঠেছে সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান আর্মি, ইউপিডিএফ ও কুকি চিনের অভিন্ন নেটওয়ার্ক। মিয়ানমারের চিন ও রাখাইন রাজ্য থেকে পার্বত্য চট্টগ্রামের দুর্গম সীমান্ত রুট ব্যবহার করে দেশে ঢুকছে আধুনিক অস্ত্র ও গোলাবারুদ, যা সমগ্র অঞ্চলের নিরাপত্তা ও শান্তিচুক্তির স্থিতিশীলতাকে বড় ঝুঁকিতে ফেলেছে।
এক দিকে মিয়ানমার, অন্য দিকে ভারত সীমান্ত। তিন দেশের সীমান্ত সংযোগস্থলে সম্প্রতি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর এক নজিরবিহীন ও উদ্বেগজনক সামরিক মেরুকরণ সৃষ্টি হয়েছে। পার্বত্য চট্টগ্রামের রাঙ্গামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ির সীমান্তে মিয়ানমারের সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান আর্মি, বান্দরবানের কুকি চিন, রাঙ্গামাটি ও খাগড়াছড়িতে ইউপিডিএফ-এই তিন আলোচিত সশস্ত্র সংগঠন পাহাড়ের পরিস্থিতিকে ভয়ঙ্কর করতে এক মঞ্চে জোট বেঁধেছে। ভারী অস্ত্র ও গোলাবারুদ আনানেয়ার ক্ষেত্রে ত্রিদেশীয় সীমান্ত এখন ‘ডেঞ্জার জোনে’ পরিণত হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রগুলো বলছে, সাম্প্রতিক সময়ে পাহাড়ে নিরাপত্তা বাহিনীর লাগাতার অভিযানের মুখে ইউপিডিএফ তাদের কৌশল পাল্টে অন্যান্য দেশবিরোধী ও বিদেশী সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সাথে হাত মেলাতে শুরু করেছে। সম্প্রতি মিয়ানমারভিত্তিক সশস্ত্র সংগঠন আরাকান আর্মি এবং বান্দরবানের পার্বত্য অঞ্চলের নব্য সন্ত্রাসী সংগঠন কুকি চিন ন্যাশনাল ফ্রন্টের (কেএনএফ) সাথে ইউপিডিএফের গভীর গোপন আঁতাতের খবর পাওয়া গেছে। গত ২৮ জুন রুমা-বিলাইছড়ি সীমান্তবর্তী রেতলাং পাহাড়ে কেএনএফের ঘাঁটিতে ইউপিডিএফের উপস্থিতি এবং পরবর্তীতে সেনা অভিযানে তাদের এই নতুন সমঝোতা প্রকাশিত হয়।
আঞ্চলিক গোয়েন্দা সংস্থা ও সীমান্ত সূত্রে পাওয়া তথ্যে জানা গেছে, কৌশলগত অবস্থান মজবুত করা, অস্ত্র ও রসদ সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং যৌথ সামরিক মহড়া পরিচালনার জন্য এই তিন গোষ্ঠী একটি ‘ত্রিপক্ষীয় অঘোষিত অক্ষ’ গড়ে তুলেছে। এরই মধ্যে এই তিন গোষ্ঠীর মিয়ানমার-বাংলাদেশ ও ভারতের মিজোরামে অবাধ যাতায়াতের তথ্য গোয়েন্দাদের কাছে এসেছে। আগামী মাসে অর্থাৎ সেপ্টেম্বরে তারা নতুনভাবে পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর মধ্যে এক ভয়ঙ্কর অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করে সীমান্তে ব্যাপক উত্তেজনা সৃষ্টির পরিকল্পনা করেছে। ভয়ঙ্কর এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে মিয়ানমার থেকে বান্দরবান সীমান্তবর্তী এলাকা এবং ভারত থেকে রাঙ্গামাটি ও খাগড়াছড়ি এলাকায় ভারী অস্ত্রের মজুদ গড়ছে এই তিন সশস্ত্র সংগঠন। সম্প্রতি পার্বত্যঞ্চলে সরেজমিন গিয়ে এমন তথ্য পাওয়া গেছে।
স্থানীয় সশস্ত্র গোষ্ঠীর সূত্র ও গোয়েন্দা তথ্য বলছে, মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের প্রভাবশালী বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মি (এএ), পার্বত্য চট্টগ্রামের আঞ্চলিক দল ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্র্যাটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ) এবং গোপন সশস্ত্র সংগঠন কেএনএফ বা কুকি চিন সদস্যরা একজোট হয়ে কাজ করছে।
এই সমন্বিত জোটের ফলে বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় পার্বত্য সীমান্ত এবং মিয়ানমারের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের ভূরাজনৈতিক নিরাপত্তা চরম ঝুঁকির মুখে পড়েছে। এই ত্রিদলীয় আঁতাত কেবল একটি সাধারণ জোট নয়, বরং এটি দীর্ঘমেয়াদে এই অঞ্চলের মানচিত্র ও নিরাপত্তা সমীকরণ বদলে দেয়ার এক গভীর নীল-নকশা।
যেভাবে গড়ে উঠল ত্রিপক্ষীয় অক্ষ: দীর্ঘদিন ধরে বিচ্ছিন্নভাবে সক্রিয় থাকা এই তিন গোষ্ঠীর আদর্শগত ভিন্নতা থাকলেও ভৌগোলিক ও কৌশলগত কারণে তারা এক বিন্দুতে মিলিত হয়েছে। রাখাইনে জান্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ জয়ের পর আরাকান আর্মি এখন বাংলাদেশ ও ভারত সীমান্তের দিকে তাদের নিয়ন্ত্রণ বাড়াতে চাইছে।
অন্য দিকে পার্বত্য চট্টগ্রামে কোণঠাসা হয়ে পড়া কুকি চিন বা কেএনএফ এবং রাঙ্গামাটি-খাগড়াছড়ির পাহাড়ে সক্রিয় ইউপিডিএফ নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষা ও সামরিক সক্ষমতা বাড়াতে একটি শক্তিশালী বৈশ্বিক বা আঞ্চলিক মিত্রের সন্ধান করছিল।
সূত্র জানায়, গত বছরের শেষভাগ থেকে মিয়ানমারের চিন স্টেট এবং রাখাইনের সীমান্তবর্তী দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় এই তিন গোষ্ঠীর শীর্ষ নেতাদের মধ্যে একাধিক গোপন বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেই বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আরাকান আর্মি এই জোটের ‘বড় ভাই’ বা প্রধান সমন্বয়ক হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছে। তারা ইউপিডিএফ এবং কুকি-চিনকে উন্নত প্রযুক্তির অস্ত্র, বিস্ফোরক এবং আধুনিক গেরিলা যুদ্ধের প্রশিক্ষণ দিচ্ছে। বিনিময়ে বাংলাদেশ সীমান্তের দুর্গম পাহাড়ি রুটগুলো ব্যবহার করে আরাকান আর্মির জন্য ভারী অস্ত্র গোলাবারুদ ও চোরাচালানের নিরাপদ করিডোর নিশ্চিত করছে স্থানীয় এই দুই গ্রুপ।
বণিক বার্তা
‘টিকা কার্যক্রমের ৪ মাসেও নিয়ন্ত্রণে আসছে না হামের সংক্রমণ ও শিশুমৃত্যু’-এটি দৈনিক বণিক বার্তার প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে হাম ওয়ার্ডে আক্রান্ত শিশু আর উদ্বিগ্ন অভিভাবকের মুখ এখন সাধারণ চিত্র হয়ে উঠেছে। চলতি বছরের মার্চে দেশে হামের প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়।
এপ্রিল থেকেই শুরু হয় বিস্তৃত টিকা কার্যক্রম। এরপর চার মাস অতিবাহিত হলেও হামের সংক্রমণ ও শিশুমৃত্যু নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি। গ্যাভি সমর্থিত আন্তর্জাতিক পর্যালোচনা ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, বর্তমানে বিশ্বে হামে আক্রান্ত ও মৃত্যুর দিক থেকে শীর্ষস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ। সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে টিকা সংগ্রহ পদ্ধতিতে নীতিগত পরিবর্তনের ফলে সৃষ্ট সংকট এবং টিকাদানের সার্বিক কাভারেজ কমে যাওয়াকে এ পরিস্থিতির জন্য দায়ী করছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। পাশাপাশি গ্রামাঞ্চলে টিকা সংরক্ষণ পদ্ধতি ও অবকাঠামোর কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন তারা।
সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সংক্রামক রোগ প্রতিরোধে হার্ড ইমিউনিটি অত্যাবশ্যকীয় একটি ব্যবস্থা। একটি নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠীর মধ্যে যদি নির্দিষ্ট অনুপাতে ভ্যাকসিন বা টিকা দেয়া যায়, তাহলে ওই কমিউনিটিতে সেই নির্দিষ্ট রোগের আর সংক্রমণ হয় না। এ ব্যবস্থাই হার্ড ইমিউনিটি নামে পরিচিত।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এক সময় দেশে হামের বিরুদ্ধে হার্ড ইমিউনিটি ছিল প্রায় ৯৫ শতাংশ। কিন্তু গত দুই থেকে তিন বছরে সেটি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। ফলে এ বছর সংক্রমণ দ্রুত ছড়িয়েছে এবং অনেক শিশু সুরক্ষার বাইরে থেকে গেছে।”বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) মতে, হামের সংক্রমণ প্রতিরোধে অন্তত ৯৫ শতাংশ শিশুকে টিকার আওতায় আনতে হয়।
দীর্ঘদিন ধরেই বাংলাদেশ জাতিসংঘ শিশু তহবিল (ইউনিসেফ) পরিচালিত এবং গ্যাভি সমর্থিত সরাসরি টিকা সংগ্রহ ব্যবস্থার মাধ্যমে নিয়মিত ও নিরবচ্ছিন্নভাবে টিকা সংগ্রহ করত। কিন্তু ২০২৫ সালে তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকার নিয়মিত টিকা সংগ্রহের পদ্ধতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনে। এর ফলে টিকা সংগ্রহে বিলম্ব সৃষ্টি হয় এবং নিয়মিত টিকাদানের হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। অন্তর্বর্তী সরকার ৫০ শতাংশ টিকা উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতিতে কেনার সিদ্ধান্ত নেয়। ইউনিসেফ ও তাদের অংশীদাররা তখন উদ্বেগ জানিয়েছিল যে এভাবে টিকা ক্রয়প্রক্রিয়া ১২ মাস পর্যন্ত বিলম্বিত হতে পারে। বাংলাদেশে প্রতি বছর সাধারণত প্রায় সাত কোটি ডোজ টিকা সংগ্রহ করা হয়। কিন্তু ২০২৫ সালে ইউনিসেফের প্রি-ফাইন্যান্সিং ব্যবস্থার মাধ্যমে মাত্র ১ কোটি ৭৮ লাখ ডোজ সংগ্রহ করা সম্ভব হয়। টিকার এ ঘাটতির পাশাপাশি ২০২৪ সালের শেষদিকে পরিচালিত হওয়ার কথা থাকা জাতীয় হাম টিকাদান অভিযানও বারবার পিছিয়ে যায় এবং শেষ পর্যন্ত বাতিল হয়। এর ফলে লাখ লাখ শিশু নির্ধারিত সময়ে টিকা থেকে বঞ্চিত হয় এবং সংক্রমণের ঝুঁকি বহু গুণ বেড়ে যায়।
পরবর্তী সময়ে নির্বাচিত বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেয়ার পর ইউনিসেফ ও অংশীদারদের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে চলতি বছরের মার্চে উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতি বাতিলের নির্দেশ দেয়। এরপর এপ্রিলে আবার ইউনিসেফের মাধ্যমে আগের পদ্ধতিতে টিকা সংগ্রহে ফেরার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের (ডিজিএইচএস) ৬ আগস্ট পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর দেশে নিশ্চিত ও সন্দেহজনক হামে আক্রান্ত হয়ে অন্তত ৮৬০ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ সময় সন্দেহজনক রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৩৩ হাজার ৬৩৮ জনে এবং পরীক্ষাগারে নিশ্চিত হওয়া হামের রোগী ১৬ হাজার ৭৪০ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরো ছয় শিশুর প্রাণহানি ঘটেছে এবং নতুন করে আক্রান্ত হয়েছে ৮১৮ জন।
অন্যদিকে, ডব্লিউএইচওর প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, দেশে নথিভুক্ত হামের ঘটনা অন্তত ৪২ হাজার ৭৮০টি (১৪ জুলাই পর্যন্ত)। তবে প্রত্যন্ত অঞ্চলে রোগ শনাক্তকরণ ও তথ্য সংগ্রহ ব্যবস্থা দুর্বল হওয়ায় প্রকৃত আক্রান্তের সংখ্যা আরো বেশি বলে ধারণা করা হচ্ছে। অন্যদিকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রতিবেদন অনুসারে, ২০২৬ সালে ১৪ জুলাই পর্যন্ত হাম রোগীর সংখ্যা ছিল ১৩ হাজার ৭৩৫। সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা ছিল ১ লাখ ১৩ হাজার ২৪৪ জন।
আজকের পত্রিকা
দৈনিক আজকের পত্রিকার প্রধান শিরোনাম ‘বাংলাদেশ-ভারত: সম্পর্কের পারদে আবার তাপ’। প্রতিবেদনে বলা হয়, ভারতে আশ্রয় নেওয়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ফেরত চায় বাংলাদেশ। কিন্তু সে পথে এগোচ্ছে না নয়াদিল্লি। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর গত দুই বছর ধরে এ নিয়ে প্রতিবেশী দুই দেশের সম্পর্ক বেশ টানাপোড়েনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। টানাপোড়েনের সেই পারদে উত্তাপ আরও চড়াল সেই শেখ হাসিনা ইস্যু।
ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনা যেন ভারতে বসে কোনো রাজনৈতিক বক্তব্য না দিতে পারেন, সে বিষয়ে আগেই দেশটির প্রতি আহ্বান জানিয়েছিল বাংলাদেশ। কিন্তু তাতে কাজ হয়নি। নয়াদিল্লিতে সংবাদ সম্মেলনে ভার্চুয়ালি যোগ দিয়ে গত বুধবার বক্তব্য দিয়েছেন শেখ হাসিনা। সেটাও করা হয়েছে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তির দিনটিতেই। বিষয়টি তাই সহজভাবে নেয়নি ঢাকা। প্রতিবাদ জানিয়েছে কড়া ভাষায়।
শেখ হাসিনাকে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়ায় টানাপোড়েন অবশ্যই বাড়বে জানিয়ে সাবেক রাষ্ট্রদূত মাহফুজুর রহমান আজকের পত্রিকাকে বলেন, বাংলাদেশ যে মনোভাব ধারণ করে, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে তার প্রতিফলন আছে। এভাবে চলতে থাকলে সম্পর্কের যে টানাপোড়েন আছে, সেটি ঠিক হতে সময় লাগবে।
এ ইস্যুতে সরকারের অবস্থান আরও পরিষ্কার হয়েছে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভীর মন্তব্যে। গতকাল রাজধানীতে এক অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্য তিনি অভিযোগ করেন, দিনক্ষণ ঘোষণা দিয়ে শেখ হাসিনাকে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ করে দিয়ে ভারত বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করেছে। শেখ হাসিনাকে ব্যবহার করে দেশটি বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করতে চায়।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ভারতে আশ্রয় নেন শেখ হাসিনা। এর পর থেকে প্রতিবেশী দেশটির সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কে অবনমন হয়েছে। বিভিন্ন ক্ষেত্রে তাঁর প্রতিফলনও দেখা যায়। তবে গত ফেব্রুয়ারি দেশে নির্বাচিত সরকার আসার পর থেকে সম্পর্কের বরফ ধীরে ধীরে গলতে থাকে। দুই দেশের মধ্যে ভিসা আদান-প্রদান ছাড়াও ছোট ছোট নানা ইতিবাচক পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছিল।
এর মধ্যে কয়েক দিন আগে বিভিন্ন মাধ্যমে খবর ছড়িয়ে পড়ে, গণ-অভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তির দিন ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা নয়াদিল্লিতে সাংবাদিকদের এক আয়োজনে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে বক্তব্য দেবেন। এটা ঠেকাতে সক্রিয় হয় বাংলাদেশ। শেখ হাসিনা ভারতে বসে যাতে রাজনৈতিক বক্তব্য না দিতে পারেন, সে বিষয়ে ৩ আগস্ট দেশটির সহযোগিতা চান প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির। ভারতে বসে শেখ হাসিনা রাজনৈতিক কার্যক্রম চালালে দেশটির সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ইতিবাচক অগ্রগতি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলে বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিদেবীকে জানিয়েছিলেন উপদেষ্টা।
পরদিন ৪ আগস্ট পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ভারত সরকারকে এ বিষয়ে অবস্থান স্পষ্ট করার আহ্বান জানিয়ে বলেছিলেন, বাংলাদেশে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সভাপতিকে ঘিরে এমন আয়োজন দুই দেশের সম্পর্ককে স্বাভাবিক করার চেষ্টাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।
তবে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত ব্রিফিংয়ে মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল ৪ আগস্ট জানান, শেখ হাসিনার নির্ধারিত ভার্চুয়াল বক্তব্যের সঙ্গে ভারত সরকারের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। ওই অনুষ্ঠানে যে মতামত প্রকাশ করা হতে পারে, ভারত সরকার তাতে কোনো সমর্থন দিচ্ছে না। তবে শেখ হাসিনার বক্তব্য দেওয়া ঠেকাতে কোনো পদক্ষেপ নেয়নি ভারতের সরকার।
দেশ রূপান্তর
‘পুলিশে ত্রিমুখী উদ্বেগ’-এটি দৈনিক দেশ রূপান্তরের প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অভিভাবকহীন হয়ে পড়ে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলো। অন্তর্বর্তী সরকার এসব প্রতিষ্ঠানে প্রশাসক নিয়োগ দিলেও জনপ্রতিনিধির অভাবে ব্যাহত হয় নাগরিক সেবা। এমতাবস্থায় আগামী অক্টোবর নাগাদ স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছে বিএনপি সরকার। আবার গণঅভ্যুত্থানের পর পুলিশও আক্রান্ত হয়। সেই ট্রমা পুরোপুরি কাটিয়ে উঠতে পারেনি বাহিনীর সদস্যরা। এদিকে আওয়ামী লীগ আমলের নির্বাচনগুলো ছিল একপেশে। সেক্ষেত্রে পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে স্থানীয় নির্বাচনগুলো সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করা নিয়ে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে পুলিশ প্রশাসন।
মাঠপর্যায়ের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং যেকোনো ধরনের আকস্মিক রাজনৈতিক সহিংসতা এড়াতে এখন থেকেই বিশেষ পরিকল্পনা সাজাচ্ছে পুলিশ সদর দপ্তর। এ নিয়ে গত মঙ্গলবার নির্বাচন কমিশনের বিশেষ বৈঠকেও আলোচনা হয়েছে। সপ্তাহ খানেক আগে পুলিশ সদর দপ্তরেও এ সংক্রান্ত বিশেষ বৈঠক হয়। বৈঠকে দাগি অপরাধীদের বিষয়টি প্রাধান্য পেয়েছে। পাশাপাশি ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় পুলিশের স্থাপনাগুলো থেকে লুট হওয়া আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে বেশি উদ্বিগ্ন প্রশাসন।
বৈঠকে বেশকিছু সিদ্ধান্ত হয়েছে দ্রুত অপরাধীদের তালিকা তৈরির পাশাপাশি যাদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলায় অভিযোগপত্র দেওয়া আছে, তারা যেন নির্বাচন করতে না পারেন, এমনকি আওয়ামী লীগের ব্যানারে যাতে কেউ নির্বাচন করতে না পারেন, তার বিশেষ নজরদারি করতে হবে। দাগি অপরাধীরা কোনো প্রার্থীদের পক্ষে কাজ করার প্রমাণ মিললেই গ্রেপ্তার করতে হবে। ইতিমধ্যে আরও বেশকিছু নির্দেশনা দিয়ে বিশেষ বার্তা দেওয়া হয়েছে পুলিশের সবকটি ইউনিট প্রধান, রেঞ্জ ডিআইজি ও পুলিশ সুপারদের কাছে।
পুলিশ সূত্র জানায়, নির্বাচন কমিশন (ইসি) ও সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, দেশের বিভিন্ন স্তরের স্থানীয় সরকার নির্বাচন অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি জোরদার হচ্ছে। পরিবর্তিত রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপটে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মধ্যে এক ধরনের প্রচ্ছন্ন উদ্বেগ ও তৎপরতা দেখা দিয়েছে। স্থানীয় নির্বাচন সবসময়ই তৃণমূল রাজনীতির সবচেয়ে বড় উৎসব ও প্রতিদ্বন্দ্বিতার ক্ষেত্র। ইতিমধ্যে নির্বাচন কমিশন থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পুলিশ সদর দপ্তরকে এলাকার নিরাপত্তা ঝুঁকি নিরূপণের জন্য তাগাদা দেওয়া হয়েছে।
