রাজশাহীর চারঘাট উপজেলায় মাহফিলে অতিথি করা নিয়ে দ্বন্দ্বে দলীয় কর্মীদের হাতে বিএনপি নেতা এরশাদ আলীর (৬৫) খুনের ঘটনায় হত্যা মামলা দায়ের হয়েছে। শনিবার সকালে নিহত এরশাদ আলীর ছেলে রিমন আলী (২২) বাদী হয়ে নয়জনের বিরুদ্ধে চারঘাট থানায় মামলাটি দায়ের করেছেন। মামলায় প্রধান আসামি করা হয়েছে রাজশাহী-৬ (বাঘা-চারঘাট) আসনে বিএনপি’র মনোনয়নবঞ্চিত নেতা আনোয়ার হোসেন উজ্জ্বলকে (৫৫)। তিনি জেলা বিএনপি’র সাবেক সহ-সভাপতি। এছাড়া চারঘাট উপজেলা বিএনপি’র সাংগঠনিক সম্পাদক জহুরুল ইসলাম জীবনকেও (৪৮) আসামি করা হয়েছে। অন্য আসামিরা হলেন-ইউসুফপুর নিখাইপাড়া গ্রামের মো. আমরাউল (৫৫), মো. জোয়াভ (৪৫), আতিকুল ইমলাম ওরফে সাইমুল (৪৫), মো. আসাদুল (৩০), মো. সুমন (৩২), মো. দাব্বির (২০) এবং মো. হালিম (৫০)। আতিকুল ইসলাম সাইদুল প্রধান আসামি আনোয়ারের চাচাতো ভাই। মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, আনোয়ারের সমর্থক এবং এলাকার সংসদ সদস্য আবু সাইদ চাঁদ গ্রুপের সমর্থকদের মধ্যে এলাকায় আধিপত্য বিস্তারের বিষয়কে কেন্দ্র করে বিরোধ চলে আসছিল। বাদীর বাবা এরশাদ আলী সংসদ সদস্য আবু সাইদ চাঁদ গ্রুপের একজন সমর্থক। আগামী ৯ই এপ্রিল ইউসুফপুরে জালসার প্রধান অতিথি হওয়ার বিষয় নিয়ে শুক্রবার দুপুরে ইউসুফপুর সিপাইপাড়া জামে মসজিদে স্থানীয় লোকজনদের মতবিনিময় হয়। সেখানে বাদী ও তার বাবাও উপস্থিত ছিলেন। এজাহারে বলা হয়, জালসার প্রধান অতিথি হওয়ার বিষয়কে কেন্দ্র করে উজ্জ্বল গ্রুপের সমর্থকদের সঙ্গে আবু সাইদ চাঁদ গ্রুপের সমর্থকদের মধ্যে বাক-বিতণ্ডা হয়। তখন উজ্জ্বল গ্রুপের সমর্থকরা প্রকাশ্যে হুমকি প্রদান করেন যে, চাঁদকে সমর্থন করলে খুন জখম করে ফেলবেন। এরশাদ আলী এর প্রতিবাদ করলে আসামিরা উত্তেজিত হয়ে ওঠেন। পরে তিনি মসজিদ থেকে চলে আসেন। পরে রাতে এরশাদ আলী তারাবির নামাজ পড়ার জন্য ইউসুফপুর সিপাইপাড়া মসজিদে যান। নামাজ শেষে রাত সাড়ে ৯টার দিকে বাড়িতে ফেরার পথে ইউসুফপুর সিপাইপাড়া গ্রামে আসামিরা পূর্ব পরিকল্পিতভাবে বাঁশের লাঠি, লোহার রড, আমের ডাল ও পেয়ারা গাছের ডাল নিয়ে এরশাদ আলীর পথরোধ করেন। এরপর তাকে সেখানে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। ঘটনার বিষয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপি’র আহ্বায়ক আবু সাঈদ চাঁদ বলেন, আনোয়ার জনবিছিন্ন। জনগণের সমর্থন নেই। তারা এখন মানুষ খুন করে রাজনীতি করতে চাচ্ছে। আমি এই ঘটনার কঠোর বিচার চাই। ইতিমধ্যে পুলিশ-প্রশাসনকে বলেছি। জানতে চাইলে অভিযুক্ত বিএনপি নেতা আনোয়ার বলেন, যে গ্রামে ঘটনা, সে গ্রামেই আমার বাড়ি। আমি বিগত ছয়দিন ধরে ঢাকায় আছি। যিনি মারা গেছেন তিনিও সম্পর্কে আমার দাদা। আসামিরাও সবাই আত্মীয়। মসজিদের কমিটি নিয়ে সমস্যায় এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাটি ঘটেছে। এখন আমার ভাবমূর্তি নষ্ট করতে আবু সাঈদ আমাকে জড়িয়ে মামলা করিয়েছেন। তিনি বলেন, আমি মনোনয়ন চেয়েছিলাম। মনোনয়ন না পেলেও ধানের শীষের পক্ষে কাজ করেছি। তারপরও প্রতিহিংসা থামেনি। এটা খুবই নিন্দনীয়। রাজনীতি এত নোংরা হওয়া উচিত না। চারঘাট থানার ওসি জানান, এ ঘটনায় মামলা রেকর্ড করা হয়েছে আসামি গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। উল্লেখ্য, নিহত এরশাদ আলী ইউসুফপুর ইউনিয়ন বিএনপি’র সদস্য ছিলেন। দলীয় মনোনয়নকে ঘিরে ওই এলাকায় আবু সাঈদ চাঁদ ও আনোয়ারের অনুসারীদের মধ্যে উত্তেজনা ছিল। এর জের ধরেই শুক্রবার রাতে হত্যাকাণ্ডের শিকার হন এরশাদ।
রাজশাহীতে দলীয় কর্মীদের হাতে বিএনপি নেতা খুন, ৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা
স্টাফ রিপোর্টার, রাজশাহী থেকে
১ মার্চ (রবিবার), ২০২৬
লিংক কপি হয়েছে!
ফন্ট সাইজ:
100%
