যুক্তরাষ্ট্রে জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব সীমিত করতে ট্রাম্পের কঠোর পদক্ষেপ

দুই নির্বাহী আদেশ জারি

যুক্তরাষ্ট্রে জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব সীমিত করতে ট্রাম্পের কঠোর পদক্ষেপ

ফন্ট সাইজ:

জন্মসূত্রে মার্কিন নাগরিকত্ব সীমিত করার প্রচেষ্টায় ফের দুটি নতুন নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। সুপ্রিম কোর্টে আগের নির্বাহী আদেশ বাতিল হওয়ার পর স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে তিনি এ আদেশে সই করেন।
হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে নতুন দুটি আদেশের একটি ‘বার্থ ট্যুরিজম’ বা সন্তান জন্ম দিয়ে মার্কিন নাগরিকত্ব পাওয়ার উদ্দেশ্যে বিদেশিদের যুক্তরাষ্ট্রে আসা নিরুৎসাহিত করার লক্ষ্যে জারি করা হয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসন বলছে পর্যটক পরিচয়ে যুক্তরাষ্ট্রে এলেও প্রকৃত উদ্দেশ্য থাকে এখানে সন্তান জন্ম দেওয়া, যাতে সেই সন্তান স্বয়ংক্রিয়ভাবে মার্কিন নাগরিকত্ব লাভ করে।
অন্য নির্বাহী আদেশে জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের ক্ষেত্রে অযোগ্য ব্যক্তিদের পরিধি আরও বিস্তৃত করা হয়েছে। এর আওতায় বিদেশি সরকারের হয়ে লবিং করা ব্যক্তি এবং নির্দিষ্ট কিছু বিদেশি সরকারি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সন্তানদেরও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি নাগরিকত্ব অর্জনের উদ্দেশ্যে প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ থাকার ক্ষেত্রেও নতুন বিধিনিষেধের কথা বলা হয়েছে।
আদেশে সই করার সময় ট্রাম্প জানান, জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের আগের রায় ছিল “খুবই দুর্ভাগ্যজনক”। তাই প্রশাসন নতুনভাবে বিষয়টি পুনর্বিন্যাস করছে।
এর আগে ২০২৫ সালে দ্বিতীয় মেয়াদের দায়িত্ব নেওয়ার প্রথম দিনেই ট্রাম্প জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব সীমিত করার লক্ষ্যে একটি নির্বাহী আদেশ জারি করেছিলেন। তবে মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট ৬-৩ ভোটে সেটিকে অসাংবিধানিক ঘোষণা করে। আদালত পুনর্ব্যক্ত করে, মার্কিন সংবিধানের ১৪তম সংশোধনী অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্রে জন্মগ্রহণকারী এবং দেশটির এখতিয়ারের আওতাধীন প্রায় সব ব্যক্তি জন্মসূত্রেই মার্কিন নাগরিক। তবে দ্বিতীয়বারের মতো ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকেই ট্রাম্প জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব এবং অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের বিরোধিতা করে আসছেন।

এদিকে ট্রাম্পের নতুন পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করেছে মানবাধিকার ও অভিবাসনপন্থী সংগঠনগুলো। তাদের দাবি, সংবিধানে নিশ্চিত করা জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে সীমিত করা সম্ভব নয়। ফলে নতুন এই আদেশও আদালতে আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে এবং শেষ পর্যন্ত সুপ্রিম কোর্টেই এর ভাগ্য নির্ধারিত হতে পারে।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন