বিশ্বকাপের আলোয় বিশ্বজুড়ে খ্যাতি অর্জনের পর অবশেষে চিলির শীর্ষ ক্লাব কোলো কোলোতে যোগ দিলেন কেপ ভার্দের তারকা গোলকিপার ভোজিনিয়া। চিলির ফুটবল ফেডারেশনের (এএনএফপি) নিয়ম ভেঙে তাকে জার্সিতে জনপ্রিয় ডাকনাম ব্যবহারের বিশেষ ছাড় দেয়া হয়েছে।
চিলি লীগের নিয়ম অনুযায়ী খেলোয়াড়দের জার্সিতে কোনো ধরনের ডাকনাম বা মনগড়া নাম ব্যবহারের অনুমতি নেই। সেই নিয়ম মেনে তার আইনি নাম ‘জোসিমার জোসে এভোরা দিয়াজ’ ব্যবহার করার কথা ছিল। তবে কোলো কোলো ক্লাবের বিশেষ আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে চিলির ফেডারেশন তাকে জার্সিতে ‘ভোজিনিয়া’ নাম ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছে। পর্তুগিজ ভাষায় এর অর্থ ‘দাদি’।
সংবাদ সম্মেলনে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করে ভোজিনিয়া বলেন, ‘এটি এমন একটি নাম, যা আমি সারা জীবন ব্যবহার করেছি। কেপ ভার্দে এবং এখন বিশ্বজুড়ে এর একটি বিশেষ তাৎপর্য ও সমৃদ্ধ ইতিহাস রয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমার দাদি যদি আজ বেঁচে থাকতেন, তবে তিনি নিশ্চয়ই গর্বিত হতেন। আমার ক্যারিয়ারের বাকি সময়টা আমি এই নামের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এটি ব্যবহার চালিয়ে যেতে চাই।’
চলতি বছরের বিশ্বকাপে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের সুবাদে রীতিমতো হিরোতে বনে গেছেন এই অভিজ্ঞ গোলকিপার। স্পেনের বিপক্ষে গ্রুপ পর্বে কেপ ভার্দের ঐতিহাসিক ড্রয়ে বড় ভূমিকা রাখার পাশাপাশি নকআউট পর্বে শক্তিশালী আর্জেন্টিনাকে অতিরিক্ত সময়ে টেনে নিয়ে যায় তার দল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভোজিনিয়ার অনুসারী সংখ্যা ৫০ হাজার থেকে বেড়ে প্রায় ৩ কোটিতে পৌঁছেছে। দারুণ পারফরম্যান্সের স্বীকৃতিস্বরূপ ফিফার টুর্নামেন্টসেরা দলেও জায়গা পান তিনি। এমনকি সম্প্রতি তার নামে নতুন প্রজাতির একটি সামুদ্রিক স্লাগেরও নামকরণ করা হয়েছে।
স্লোভাকিয়া, অ্যাঙ্গোলা, মলদোভা এবং সাইপ্রাসের মতো লীগে ঘুরে অবশেষে চিলির সফলতম ক্লাব কোলো কোলোর সঙ্গে ছয় মাসের চুক্তি করলেন ভোজিনিয়া। ক্লাবটির রেকর্ড ৩৪ বার প্রিমেরা ডিভিশন এবং ১৪ বার চিলি কাপ জয়ের ইতিহাস রয়েছে।
দলবদলের বিষয়ে ভোজিনিয়া বলেন, ‘ছোট লীগে খেললেও গভীর থেকে আমি বিশ্বাস করতাম, আমি একটি বড় ক্লাবের খেলোয়াড়। তাই যখন কোলো কোলোর প্রস্তাব এলো, তখন বিন্দুমাত্র দ্বিধা করিনি। বিশ্বকাপ আমার ফুটবল জীবনের সেরা ঘটনা হলেও তা এখন অতীত। এই বিশাল ইতিহাসের অংশ হওয়াটাই আমার ক্লাব ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা প্রাপ্তি।’
