ভবিষ্যৎ শঙ্কায় মরক্কোতে জরুরি বৈঠকে ফিফা সভাপতি

ফিটনেস হারাচ্ছেন ইনফান্তিনো?

ভবিষ্যৎ শঙ্কায় মরক্কোতে জরুরি বৈঠকে ফিফা সভাপতি

ফন্ট সাইজ:

ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো বর্তমানে তার ফুটবল জীবনের সবচেয়ে বড় সংকটের মুখোমুখি। মরক্কোর রাবাতে আজ ফিফার শীর্ষ কর্মকর্তাদের নিয়ে এক ‘ক্রাইসিস’ বা জরুরি বৈঠকে বসেছেন তিনি। বিশ্বকাপের বাণিজ্যিক অংশীদারিত্বে বেসরকারি বিনিয়োগ আনার বিতর্কিত পরিকল্পনা এবং একের পর এক দুর্নীতির অভিযোগে চারদিক থেকে কোণঠাসা এই সুইস বস।

ফিফার বর্তমান সংকট মূলত শুরু হয় ‘ফিফা ফরওয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ’ (এফএফই) নামক একটি নতুন কোম্পানি গঠনের পরিকল্পনাকে কেন্দ্র করে। এই প্রস্তাবের মাধ্যমে ফিফা টুর্নামেন্টের বাণিজ্যিক ও অপারেশনাল খাতের ২০ শতাংশ শেয়ার বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রি করার পরিকল্পনা করা হয়। তবে তীব্র সমালোচনার মুখে ইনফান্তিনো এই পরিকল্পনা বাতিল করতে বাধ্য হন।
ফিফার অভ্যন্তরেও এখন ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে। ফিফার প্রধান বৈশ্বিক ফুটবল উন্নয়ন কর্মকর্তা আর্সেন ওয়েঙ্গার এই পরিকল্পনা বাতিলের দাবিকে সমর্থন করে বলেন, ‘আমি দৃঢ়ভাবে এমন একটি স্বাধীন ফিফার ওপর বিশ্বাস রাখি যা প্রতিশ্রুতি, স্বচ্ছতা এবং সততার সাথে আমাদের খেলার সেবা করে।’

এদিকে, ফিফার সেক্রেটারি জেনারেল মাতিয়েস গ্রাফস্ট্রোম স্টাফদের পাঠানো এক ইমেইলে গত সপ্তাহের ঘটনাগুলোকে ‘দুঃখজনক এবং নিন্দনীয়’ বলে উল্লেখ করেছেন।

জর্ডানের চাঞ্চল্যকর অভিযোগ ও ব্ল্যাকমেলের দাবি

ইনফান্তিনোর সংকট আরও ঘনীভূত হয় যখন জর্ডান ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (জেএফএ) সভাপতি প্রিন্স আলী বিন আল হুসেইন ফিফার বিরুদ্ধে মারাত্মক অভিযোগ তোলেন। তার দাবি, ইনফান্তিনোর পক্ষে সমর্থন আদায়ের জন্য ফিফা তাদের পাওনা অর্থ আটকে রেখে একপ্রকার ‘ব্ল্যাকমেল’ করেছেন।

প্রিন্স আলী সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেলে লেখেন, ‘মাস ধরে ফিফা আমাদের কোনো বিষয়েই সাহায্য করতে অস্বীকার করে আসছিল, যতক্ষণ না বিশ্বকাপের সময় মুখে মুখে জানানো হয় যে আমি ইনফান্তিনোকে সমর্থন করলে আমাদের এফএ-কে সাহায্য করা হবে। পুরো বিষয়টি ব্ল্যাকমেলের শামিল এবং আমরা এর কাছে মাথা নত করব না।’

ইউরোপিয়ান ক্ষোভ ও সম্ভাব্য উত্তরসূরি নিয়ে গুঞ্জন

ইউরোপিয়ান ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা উয়েফা (উয়েফা), এশিয়ান ফুটবল সংস্থা (এএফসি) এবং উত্তর, মধ্য আমেরিকা ও ক্যারিবিয়ান ফুটবল সংস্থা (কনকাক্যাফ) এই পরিকল্পনার তীব্র বিরোধিতা করে। এমনকি উয়েফা ফিফা প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচ বয়কটের হুমকি দেয়ায় ইনফান্তিনো পিছু হটতে বাধ্য হন। উয়েফা ছাড়াও ইংল্যান্ড, ওয়েলস এবং স্কটল্যান্ডের ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনগুলো ইতোমধ্যে ইনফান্তিনোর ওপর থেকে তাদের সমর্থন প্রত্যাহার করে নিয়েছে।

অন্যদিকে, ফিফার সাবেক সভাপতি সেপ ব্লাটার নরওয়ে ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি লিসে ক্লাভেনোসকে ইনফান্তিনোর সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে সমর্থন জানিয়েছেন। ব্লাটার তার এক্স অ্যাকাউন্টে লিখেছেন, ‘ফিফায় এখন একজন নারীর নেতৃত্ব নেয়ার সময় এসেছে। লিসে ক্লাভেনোস সর্বোচ্চ সম্মান পাওয়ার যোগ্য।’
স্কাই স্পোর্টস নিউজের প্রধান প্রতিবেদক কাভে সোলেহোল মন্তব্য করেছেন, ‘ফিফা ও ফুটবল রাজনীতির সঙ্গে যারা পরিচিত, তাদের কেউ বিশ্বাস করে না যে ইনফান্তিনো এই সংকট থেকে বেঁচে ফিরতে পারবেন।’ মরক্কোর এই রুদ্ধদ্বার বৈঠকই হয়তো নির্ধারণ করে দেবে ফিফার বিতর্কিত এই সভাপতির রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ শেষ পর্যন্ত কোন দিকে মোড় নেয়।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন