ভারতের ঝাড়খণ্ডের চাত্রা জেলায় এক কিশোরীকে আটকে রেখে ধর্ষণের অভিযোগে মঙ্গলবার সকালে এক ব্যক্তিকে পিটিয়ে হত্যা করেছে উত্তেজিত জনতা। তবে জেলা প্রশাসনের এক শীর্ষ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, কিশোরীকে আটকে রাখা ও যৌন নির্যাতনের অভিযোগ এখনো তদন্তে নিশ্চিত হয়নি। নিহত ব্যক্তির পিতা থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন। তার অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ একাধিক ধারায় মামলা (এফআইআর) করেছে। এর মধ্যে গণপিটুনির ধারাও রয়েছে। এ খবর দিয়েছে অনলাইন ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস।
এফআইআরে নিহতের পিতা অভিযোগ করেছেন, মঙ্গলবার ১০০ থেকে ১৫০ জনের একটি দল তাদের বাড়িতে এসে দাবি করে, তারা গ্রামের এক কিশোরীকে জোর করে বাড়িতে আটকে রেখেছেন। পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ অস্বীকার করলে জনতা নিহত ব্যক্তির বাবা-মাকে বেঁধে মারধর করে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এফআইআর অনুযায়ী, ওই ব্যক্তি বাবা-মাকে রক্ষা করতে এগিয়ে এলে জনতা লাঠি ও পাথর দিয়ে তার ওপর হামলা চালায়। নিহতের পিতার দাবি, ঘটনার সময় কয়েকজন পুলিশ সদস্য ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন। অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, আহত অবস্থায় ওই ব্যক্তিকে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। পরে পরিবারকে জানানো হয়, তিনি মারা গেছেন। কিছু সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ২০২৩ সালে একটি ধর্ষণ মামলায় ওই ব্যক্তি কারাগারেও ছিলেন। নিহতের পিতা তার অভিযোগে ৫৬ জনের নাম উল্লেখ করেছেন। এছাড়া হামলার ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়ারও অভিযোগ তুলেছেন তিনি।
ব্লক ডেভেলপমেন্ট অফিসার (বিডিও) দেওলাল ওরাঁও জানিয়েছেন, গণপিটুনির ঘটনায় এ পর্যন্ত ১০ জনকে আটক করা হয়েছে। তিনি বলেন, কীভাবে ঘটনাটি ঘটল, সেই পুরো ঘটনার ধারাবাহিকতা এখনো তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। বিডিওর ভাষ্য অনুযায়ী, সোমবার রাতে গ্রামের এক কিশোরী নিখোঁজ হয়। মঙ্গলবার তাকে উদ্ধার করার পর তিনি অভিযোগ করেন যে তাকে নিহত ব্যক্তির বাড়িতে আটকে রাখা হয়েছিল। এই অভিযোগের পরই গ্রামবাসী জড়ো হয়ে ওই ব্যক্তির বাড়িতে হামলা চালায়। দেওলাল ওরাঁও বলেন, কিশোরীকে মেডিকেল পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। অভিযোগের সত্যতা সম্পর্কে কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর আগে প্রশাসন সেই প্রতিবেদনের অপেক্ষায় রয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
