আগামী নির্বাচনের ভাগ্য নির্ধারণ করবে তরুণ ভোটাররা

ভারতের ৪০ কোটিরও বেশি জেন জি

আগামী নির্বাচনের ভাগ্য নির্ধারণ করবে তরুণ ভোটাররা

ফন্ট সাইজ:

বিশ্বের সবচেয়ে বড় জেন-জি জনগোষ্ঠীর দেশ ভারত। তবে সবচেয়ে বেশি তরুণ ভোটার থাকা দেশের তালিকায় ভারত শীর্ষে নয়। তবু পরিসংখ্যান বলছে, আগামী জাতীয় নির্বাচনে ভারতের তরুণ জনগোষ্ঠী বেশি প্রভাব ফেলতে পারে। নিট (এনইইটি) পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ, শিক্ষাব্যবস্থায় অধিক স্বচ্ছতার দাবি, কর্মসংস্থান, প্রযুক্তি এবং জলবায়ু পরিবর্তন- এসব ইস্যুতে জেন জি প্রজন্ম ক্রমেই জনপরিসরের আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে। ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের মধ্যে এই প্রজন্ম ভারতের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তবয়স্ক জনগোষ্ঠীগুলোর একটিতে পরিণত হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ফলে রাজনৈতিক দলগুলোর পক্ষে তাদের অগ্রাধিকারগুলো উপেক্ষা করা কঠিন হবে। এ খবর দিয়েছে অনলাইন জি নিউজ।

জাতিসংঘের ওয়ার্ল্ড পপুলেশন প্রসপেক্টস ২০২৪-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালে ভারতে ১৪ থেকে ২৯ বছর বয়সী মানুষের সংখ্যা প্রায় ৪০ কোটি ৭০ লাখ হবে। এর ফলে জেন জি জনগোষ্ঠীর দিক থেকে ভারত বিশ্বের শীর্ষ দেশ হবে। একই বয়সসীমায় চীনে জনসংখ্যা হবে প্রায় ২৬ কোটি ৪০ লাখ। পাকিস্তানে প্রায় ৭ কোটি ৯০ লাখ এবং নাইজেরিয়ায় প্রায় ৭ কোটি ৬০ লাখ। বিশ্বের সবচেয়ে বেশি জনসংখ্যার দেশ হওয়ায় ভারত জেন জি’র সংখ্যায় এগিয়ে রয়েছে। তবে ভোটারদের মধ্যে এই প্রজন্মের অনুপাত ভিন্ন চিত্র তুলে ধরে। ২০২৬ সালের জনসংখ্যা প্রক্ষেপণ অনুযায়ী, ভারতের ১৮ বছর বা তার বেশি বয়সী যোগ্য ভোটারদের মধ্যে ১৮ থেকে ২৯ বছর বয়সীরা প্রায় ২৯ দশমিক ২ শতাংশ। অর্থাৎ, প্রতি ১০ জন ভোটারের প্রায় ৩ জনই জেন জি প্রজন্মের।

ভারতের তুলনায় ছোট জনসংখ্যার কয়েকটি দেশে তরুণ ভোটারের অনুপাত আরও বেশি। যোগ্য ভোটারদের মধ্যে ইথিওপিয়ায় জেন জি’র হার ৪১ দশমিক ৮ শতাংশ, নাইজেরিয়ায় ৪১ দশমিক ৪ শতাংশ, পাকিস্তানে ৩৭ দশমিক ৩ শতাংশ এবং বাংলাদেশে ৩২ দশমিক ৩ শতাংশ। ভারতের সব রাজ্যে তরুণ ভোটারের প্রভাব সমান নয়। জনসংখ্যার গঠন অনুযায়ী রাজ্যভেদে বড় পার্থক্য রয়েছে। বড় রাজ্যগুলোর মধ্যে বিহারে সবচেয়ে বেশি জেন জি ভোটার রয়েছে। ২০২৬ সালে রাজ্যটির মোট ভোটারের ৩৬ দশমিক ৮ শতাংশ হবে ১৮ থেকে ২৯ বছর বয়সী।
এরপর রয়েছে উত্তর প্রদেশ (৩৩.৯ শতাংশ), ঝাড়খণ্ড (৩৩.৮ শতাংশ), রাজস্থান (৩২.৩ শতাংশ) এবং মধ্য প্রদেশ (৩১.৪ শতাংশ)। এই পরিসংখ্যান ইঙ্গিত দিচ্ছে, এসব রাজ্যে তরুণ ভোটাররা নির্বাচনের ফলাফলে আরও বড় ভূমিকা রাখতে পারেন।

অন্যদিকে দক্ষিণ ভারতের কয়েকটি রাজ্যে চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। যোগ্য ভোটারের মধ্যে সবচেয়ে কম জেন জি রয়েছে কেরালায়। সেখানে তাদের হার ২২ দশমিক ২ শতাংশ। এরপর রয়েছে তামিলনাড়ু (২২.৬ শতাংশ), অন্ধ্র প্রদেশ (২৪.৩ শতাংশ), হিমাচল প্রদেশ (২৪.৬ শতাংশ) এবং পাঞ্জাব (২৫.১ শতাংশ)।
এই পার্থক্য আঞ্চলিক জনসংখ্যার পরিবর্তিত প্রবণতাকেই তুলে ধরে। উত্তর ও পূর্ব ভারতের অনেক রাজ্যে তুলনামূলক বেশি জন্মহারের কারণে তরুণ জনগোষ্ঠীর অনুপাত বেশি। বিপরীতে, দক্ষিণ ভারতের বহু রাজ্যে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার কমে যাওয়ায় ভোটারদের মধ্যে প্রবীণদের সংখ্যা বেড়েছে।

ভারতে জেন জি’র গুরুত্ব শুধু তাদের সংখ্যার কারণে নয়। শিক্ষা, কর্মসংস্থান এবং জননীতির মতো বিভিন্ন বিষয়ে এই প্রজন্ম ইতিমধ্যেই দেখিয়েছে যে, নিজেদের জীবনের সঙ্গে সম্পর্কিত ইস্যুতে তারা সরব হতে প্রস্তুত। প্রশ্নফাঁস বিরোধী আন্দোলন, শিক্ষাব্যবস্থার সংস্কারের দাবি এবং কর্মসংস্থান নিয়ে আলোচনাগুলো দেখিয়েছে যে, তরুণরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পাশাপাশি রাজপথ ও জনপরিসরেও নিজেদের মতামত তুলে ধরছে।

প্রতি বছর লাখ লাখ ভারতীয় তরুণ ১৮ বছরে পা দিয়ে ভোটার হচ্ছেন। ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের সময় জেন জি ভারতের ভোটারদের আরও বড় একটি অংশে পরিণত হবে। ফলে দেশের রাজনৈতিক ফলাফল নির্ধারণে তাদের ভূমিকা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে। এ কারণে রাজনৈতিক দলগুলো তরুণ ভোটারদের প্রত্যক্ষভাবে প্রভাবিত করে এমন বিষয়- যেমন কর্মসংস্থান, শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন এবং ডিজিটাল সুযোগ- নিয়ে আরও বেশি গুরুত্ব দিতে পারে। ভারতের রয়েছে বিশ্বের সবচেয়ে বড় জেন জি জনগোষ্ঠী। আগামী লোকসভা নির্বাচনই দেখাবে, এই বিশাল তরুণ ভোটারগোষ্ঠী দেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্ধারণে কতটা প্রভাব বিস্তার করতে পারে।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন