প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন সৌদি আরবের উপ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার ওয়ালিদ এলখারেজি। সাক্ষাতে বাংলাদেশে সৌদি বিনিয়োগ আরও বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সৌদি আরব বাংলাদেশে প্রক্রিয়াজাত খাদ্য, সি-ফুড, ট্রপিক্যাল ফুড, কৃষিভিত্তিক শিল্প, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, নবায়নযোগ্য জ্বালানিসহ আরও বিভিন্নখাতে বিনিয়োগে আগ্রহী বলে জানিয়েছেন দেশটির উপ পররাষ্ট্রমন্ত্রী। মঙ্গলবার বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সাক্ষাতে এসব বিষয় নিয়ে আলোচন হয় বলে জানিয়েছেন উপ-প্রেস সচিব শাহাদাৎ হোসেন স্বাধীন। এছাড়া সাক্ষাতে বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে উভয় পক্ষ একমত পোষণ করেন।
সৌদি উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশে বর্তমানে বিনিয়োগের জন্য ইতিবাচক পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে দু’দেশের সম্পর্ক আরও জোরদার করতে সৌদি আরব আন্তরিকভাবে আগ্রহী। তিনি বিভিন্ন সম্ভাবনাময় খাতে সহযোগিতা ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণে সৌদি সরকারের আগ্রহের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। এছাড়া সৌদি আরবের উন্নয়নে বাংলাদেশি কর্মীদের গুরুত্বপূর্ণ অবদানের কথাও তুলে ধরেন দেশটির উপ পররাষ্ট্রমন্ত্রী। একই সঙ্গে তিনি জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের সভাপতি হিসেবে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান নির্বাচিত হওয়ায় প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানান।
সাক্ষাতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের সম্পর্ক পারস্পরিক আস্থা এবং দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বের ওপর প্রতিষ্ঠিত। বর্তমান সরকার সৌদি আরবের সঙ্গে একটি কৌশলগত, বহুমাত্রিক ও দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারিত্ব গড়ে তুলতে চায়। সৌদি উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সৌদি আরব বাংলাদেশে প্রক্রিয়াজাত খাদ্য, সি-ফুড, ট্রপিক্যাল ফুড, কৃষিভিত্তিক শিল্প, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, নবায়নযোগ্য জ্বালানিসহ আরও বিভিন্নখাতে বিনিয়োগে আগ্রহী।
প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশে সৌদি বিনিয়োগ আরও বাড়ানোর আহ্বান জানান। তিনি বলেন, বাংলাদেশে বিনিয়োগের জন্য এখন অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বিশেষভাবে সৌরবিদ্যুৎ খাতে সৌদি বিনিয়োগের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, বাংলাদেশ পরিচ্ছন্ন জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে ব্যাপক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। এ খাতে সৌদি কোম্পানিগুলোর বিনিয়োগ দু’দেশের জন্যই লাভজনক হবে।
সাক্ষাৎ শেষে সৌদি উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে সৌদি আরব সফরের আমন্ত্রণ জানান। প্রধানমন্ত্রী আমন্ত্রণের জন্য ধন্যবাদ জানান এবং সুবিধাজনক সময়ে সৌদি আরব সফরের আশা প্রকাশ করেন।
সৌদি প্রতিনিধি দলে ছিলেন দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল সুলাইমান বিন আবদুলআজিজ আল-ইয়াহইয়া, কনস্যুলার বিষয়ক উপমন্ত্রী ড. মোহাম্মদ আল-শাম্মারি, মানবসম্পদ ও সামাজিক উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী মুহান্নাদ বিন আহমেদ আল-ইসা, বাংলাদেশে নিযুক্ত সৌদি রাষ্ট্রদূত ড. আবদুল্লাহ বিন আবিয়াহ এবং দেশটির পররাষ্ট্র ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
বাংলাদেশের পক্ষে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ এবং প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির।
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে মার্কিন প্রশান্ত মহাসাগরীয় নৌবহরের কমান্ডারের সাক্ষাৎ
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন মার্কিন প্রশান্ত মহাসাগরীয় নৌবহরের কমান্ডার অ্যাডমিরাল স্টিফেন টি কোহলার। মঙ্গলবার দুপুরে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এই সাক্ষাৎ হয়েছে বলে জানিয়েছেন তার উপ-প্রেস সচিব শাহাদাৎ হোসেন স্বাধীন।
তিনি বলেন, সাক্ষাতে জেনারেল সিকিউরিটি অফ মিলিটারি ইনফরমেশন এগ্রিমেন্ট ( GSOMIA) নিয়ে দুই দেশের পারস্পরিক বোঝাপড়া ও এর অগ্রগতি, মানবিক সহায়তা, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশের সক্ষমতা ও অবদান নিয়ে আলোচনা হয়েছে। সাক্ষাতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ১৯৯১ সালে বাংলাদেশে আঘাত হানা ঘূর্ণিঝড়ের পর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র পরিচালিত অপারেশন সি এন্জেলস (Operation Sea Angels।-এর কথা স্মরণ করেন।
মঙ্গলবার সকালে তিন দিনের সফরে ঢাকায় আসেন স্টিফেন টি কোহলার। এই সফরে তিনি ২২ সদস্যের একটি নৌ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন।
উপ প্রেস সচিব বলেন, সাক্ষাতে মার্কিন কমান্ডার বিভিন্ন নৌ মহড়ায় বাংলাদেশের অংশগ্রহণের বিষয়টি তুলে ধরেছেন এবং তিনি জানিয়েছেন আগামী নভেম্বরে ( CARAT (Cooperation Afloat Readiness and Training) মহড়া বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত হবে।
মার্কিন নৌ কমান্ডার সিঙ্গাপুরে অনুষ্ঠিত “Sea Vision Exercise”-এ বাংলাদেশের অংশগ্রহণের কথা উল্লেখ করে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন যে, ভবিষ্যতে নিয়মিতভাবে অনুষ্ঠিত “Rim of the Pacific (RIMPAC)” মহড়া ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ করবে।
সাক্ষাতে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ককে বাংলাদেশ অধিক গুরুত্ব দেয়। যুগোপযোগী ও বিস্তৃত সহযোগিতার মাধ্যমে দুই দেশের সম্পর্ক আরও গভীর করার আগ্রহ প্রকাশ করা হয়।
মার্কিন নৌ কমান্ডার স্টিফেন টি. কোহলার বলেন, বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্র একসঙ্গে কাজ করার ক্ষেত্রে অনেক সুযোগ রয়েছে। ভবিষ্যতে দুই দেশের সম্পর্ক আরও এগিয়ে যাবে। নৌ কমান্ডার আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের অবদানের ভূয়সী প্রশংসা করেন। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, বিশ্বব্যাপী বাংলাদেশের অবস্থান সবসময় শান্তির পক্ষে।
বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল অব. এ কে এম শামছুল ইসলাম, বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন, যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত তারেক মো. আরিফুল ইসলাম, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উত্তর আমেরিকা অনুবিভাগের মহাপরিচালকসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
