শ্রীলঙ্কায় ভারী বৃষ্টির ফলে সৃষ্ট বন্যা ও আকস্মিক ভূমিধসে অন্তত ৫ জনের মৃত্যু এবং ৩ জন আহত হয়েছেন। এতে চা-বাগান পরিবেষ্টিত পাহাড়ি এলাকার স্কুলগুলো বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা এপি। গত দুই দিন ধরে টানা বর্ষণে দেশটির বিভিন্ন স্থানে বাড়িঘর, কৃষিজমি ও সড়ক প্লাবিত হয়ে চরম জনভোগান্তি তৈরি হয়েছে।
সরকারি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কেন্দ্রের বরাতে জানা যায়, দেশের মধ্যভাগের পাহাড়ি অঞ্চলগুলো এই দুর্যোগে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সংস্থাটির মুখপাত্র প্রদীপ কোদিপিলি জানান, দুটি পাহাড়ের মধ্যবর্তী অঞ্চলে দুটি বাড়ির ওপর পাহাড়ের মাটি ধসে পড়ে। এতে চাপা পড়ে পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে এবং আরও দুজন নিখোঁজ রয়েছেন। এছাড়া বৃষ্টি ও বন্যায় প্রায় ১২৯টি ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে প্রায় ২,০০০ মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। বন্যা ও পাহাড়ি ধসে আটকে পড়া মানুষকে উদ্ধার এবং নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে সেনাবাহিনী ও নৌবাহিনীর সদস্যদের মোতায়েন করা হয়েছে।
স্থানীয় টেলিভিশন চ্যানেলের ফুটেজে দেখা গেছে, বাড়িঘরে আটকে পড়া সাধারণ মানুষ ও উদ্ধারকর্মীরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে একে অপরকে সরিয়ে নিচ্ছেন। বিভিন্ন স্থানে বিশাল আকৃতির পাথর, ধসে পড়া মাটি ও উপড়ে পড়া বিদ্যুতের খুঁটি ভেঙে প্রধান প্রধান সড়কগুলোতে যান চলাচল সম্পূর্ণ অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে।
গত বছরের নভেম্বরে ঘূর্ণিঝড় ‘দিতওয়া’র তাণ্ডব কাটিয়ে ওঠার আগেই নতুন করে এই প্রাকৃতিক দুর্যোগের মুখে পড়ল শ্রীলঙ্কা। ওই সাইক্লোনে প্রায় ৬৪০ জনের মৃত্যু হয়েছিল। সেসময় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল প্রায় ২০ লাখ মানুষ এবং অর্থনৈতিক ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছিল ৪১০ কোটি ডলারে।
