ঢাকায় সৌদির উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী

ঢাকায় সৌদির উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী

ফন্ট সাইজ:

সৌদি আরবে অবস্থানরত বাংলাদেশি পাসপোর্টধারী রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে কথা বলতে  ঢাকায় এসেছেন সৌদি আরবের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার ওয়ালিদ এলখেরেইজি। কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, প্রায় ১০ সদস্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলের এ সফরের কেন্দ্রবিন্দুতেই রয়েছে সৌদিতে থাকা রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের বিষয়টি। একই সঙ্গে এ নিয়ে বাংলাদেশের পরবর্তী অবস্থান জানতে চায় রিয়াদ।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, বাংলাদেশি পাসপোর্ট ব্যবহার করে সৌদি আরবে প্রবেশ করেছে বলে অভিযোগ থাকা রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে দীর্ঘদিন ধরেই বাংলাদেশকে বলে আসছে সৌদি আরব। এ-সংক্রান্ত ব্যক্তিদের একটি তালিকাও ইতিমধ্যে ঢাকার কাছে হস্তান্তর করেছে দেশটি। এবারের বৈঠকেও বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব পাবে।

গতকাল রাতে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছালে সৌদি উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে স্বাগত জানান প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির।
আজ (মঙ্গলবার) রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদের সঙ্গে ওয়ালিদ এলখেরেইজির বৈঠক হবে। বৈঠকের পর মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেবেন তিনি। পরে বিকেলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করার কথা রয়েছে। একই সময়ে সৌদি প্রতিনিধিদলের সদস্যরা প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীর সঙ্গে বৈঠক করবেন। সন্ধ্যায় প্রতিনিধিদলটির ঢাকা ত্যাগ করার কথা রয়েছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, সৌদি আরবে অবস্থানরত রোহিঙ্গাদের বিষয়টিই এবারের আলোচনায় সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে। প্রতিনিধিদলের গঠন থেকেই বোঝা যায়, রিয়াদ বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিচ্ছে। কারণ, এ ইস্যুর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একাধিক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা প্রতিনিধিদলে রয়েছেন।

ওই কর্মকর্তা জানান, সৌদি কর্তৃপক্ষের ধারণা, প্রায় ৭০ হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশি পাসপোর্ট ব্যবহার করে সৌদি আরবে প্রবেশ করেছে। যদিও বাংলাদেশ সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে এ সংখ্যা নিশ্চিত করেনি।
কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানায়, বৈঠকে বাংলাদেশ স্পষ্ট করে জানাবে যে পরিচয় যাচাই ছাড়া কাউকে ফিরিয়ে নেয়া হবে না। প্রত্যাবাসনের আগে নিশ্চিত হতে হবে, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা সত্যিই রোহিঙ্গা এবং তারা বাংলাদেশি পাসপোর্ট ব্যবহার করে সৌদি আরবে প্রবেশ করেছে কি না। পুরো প্রক্রিয়া বাংলাদেশের আইন অনুযায়ী পরিচালিত হবে।

সূত্রগুলো আরও জানায়, বাংলাদেশ রোহিঙ্গাদের জন্য নতুন করে বাংলাদেশি পাসপোর্ট ইস্যুর কোনো সুযোগ দেখছে না। তবে পরিচয় যাচাই শেষে প্রয়োজন হলে ট্রাভেল ডকুমেন্ট বা ভ্রমণপত্র দেওয়ার প্রস্তাব উত্থাপন করতে পারে ঢাকা।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন