ইউরোপীয় ইউনিয়নের সীমান্তে কড়াকড়ির ডাক

সেউতায় অভিবাসীদের ঢল

ইউরোপীয় ইউনিয়নের সীমান্তে কড়াকড়ির ডাক

ফন্ট সাইজ:

সেউতায় হাজার হাজার অবৈধ অভিবাসীর প্রবেশের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইউরোপ জুড়ে তীব্র বিতর্ক ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। এই ঘটনার পর ইউরোপীয় সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে একবদ্ধ হয়ে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লিয়েন। এ খবর দিয়েছে অনলাইন বিবিসি।

গত সপ্তাহে মরক্কো থেকে সমুদ্র ও স্থলপথে রেকর্ড সংখ্যক অভিবাসী সেউতায় প্রবেশ করে। স্পেন কর্তৃপক্ষের হিসাব অনুযায়ী, অনুপ্রবেশকারীদের মধ্যে প্রায় ৬৯,৫০০ জন ইতোমধ্যে আবার মরক্কোতে ফিরে গেছেন। সীমান্ত অতিক্রমের এই প্রাণপণ চেষ্টার মুখে স্প্যানিশ সীমান্তে ৭২ জন এবং মরক্কো সীমান্তে অন্তত ১১ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে স্প্যানিশ প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজের দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপের প্রশংসা করে একটি চিঠি পাঠান উরসুলা।

তবে চিঠিতে তিনি সতর্ক করে বলেন, এই ঘটনা স্পষ্ট করে দিয়েছে যে সংকটপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে আমাদের সীমান্ত আরও শক্তিশালী করতে হবে। সীমান্তের নিরাপত্তা জোরদারে শারীরিক বাধা বা দেয়াল নির্মাণ এবং নজরদারি বৃদ্ধির ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি। সেউতার এই সীমান্ত সংকট ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে বড় ধরনের ফাটল ধরিয়েছে। ইতালি সাময়িকভাবে স্পেনের সাথে তাদের ‘শেনজেন চুক্তি’ স্থগিত করেছে। ইতালির এই পদক্ষেপকে সমর্থন জানিয়েছে ফিনল্যান্ড ও ডেনমার্ক।

অন্যদিকে, চেক প্রজাতন্ত্রের প্রধানমন্ত্রী আন্দ্রেজ বাবিশ স্পেনের শেনজেন সদস্যপদ সাময়িকভাবে স্থগিত করার জোরালো দাবি জানান। অন্যান্য ইউরোপীয় দেশের এমন আচরণে তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ। তিনি মনে করিয়ে দেন, সেউতা ‘শেনজেন এলাকার’ অন্তর্ভুক্ত নয়। সংকটকালে সহমর্মিতা না দেখিয়ে ইউরোপের কিছু সরকার কুসংস্কার, ভুয়া খবর ও রাজনৈতিক স্বার্থে স্পেনের ওপর আক্রমণ চালাচ্ছে বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। পরিস্থিতি পর্যালোচনায় ও পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণে ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলোর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীরা মঙ্গলবার ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে জরুরি বৈঠকে বসেন। ইউরোপীয় কমিশন অবৈধ অভিবাসন রোধে পাঁচটি প্রধান ক্ষেত্রে সমন্বিত ব্যবস্থা গ্রহণের তাগিদ দেন। এর মধ্যে সীমান্ত রক্ষা জোরদার করা, মানব পাচারকারী চক্র ধ্বংস করা এবং অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া দ্রুত করা অন্যতম।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন