২০২২ কাতার বিশ্বকাপের সোনালি সাফল্যের সুবাস আর ২০২৬ উত্তর আমেরিকা বিশ্বকাপের রূঢ় বাস্তবতার মাঝের ব্যবধানটা ঠিক কোথায়? চীনের সংবাদমাধ্যম ‘মিগু’কে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে সেই কঠিন সত্যটাই সামনে এনেছেন আর্জেন্টিনা কোচ লিওনেল স্কালোনি। স্পেনের কাছে বিশ্বকাপ ফাইনালে ১-০ গোলে হারের প্রায় দুই মাস পর দলের সামগ্রিক পারফরম্যান্স নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন আর্জেন্টিনা বস।
কাতারের আসরের সঙ্গে তুলনা করে স্কালোনি জানান, এবারের যাত্রায় তাদের লড়তে হয়েছে একদম শেষ সীমা ছুঁয়ে। আগের মতো দলটির শতভাগ ফিটনেস না থাকলেও খেলোয়াড়দের ওপর অন্ধ বিশ্বাস রেখেছিলেন তারা। স্কালোনির ভাষায়, ‘আগের বিশ্বকাপে ৯৫ শতাংশ খেলোয়াড় সেরা ফর্মে ছিল। তবে এবার আমরা ঠিক যতটুকু প্রয়োজন, ততটুকুই নিয়ে গিয়েছিলাম। পরিস্থিতি ভিন্ন ছিল, খেলোয়াড়রা শতভাগ ফিট না থাকলেও আমরা তাদের ওপর আস্থা রেখেছিলাম। গত আট বছর ধরে যারা সবকিছু উজাড় করে দিয়েছে, ফুটবলারের চেয়ে মানুষ হিসেবে তাদের গুরুত্ব আমাদের কাছে বেশি ছিল।’
খাদের কিনারা থেকে ঘুরে দাঁড়ানো নকআউট পর্বের স্মৃতিচারণ করে স্কালোনি বিশেষ জোর দেন দলের লড়াকু মানসিকতার ওপর। মিশর ও ইংল্যান্ডের বিপক্ষে শ্বাসরুদ্ধকর ম্যাচগুলোর কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, ‘আমরা কখনোই হাল ছাড়িনি, আর এটাই ছিল আমাদের দেয়া সেরা বার্তা। এই জার্সিটা যে কারো জন্য নয়। তারা একে অপরের সেরাটা বের করে আনে এবং দলের মধ্যে একটা দারুণ ইতিবাচক শক্তি কাজ করে।’
ফাইনালে স্পেনের কাছে হারের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলা নানা ষড়যন্ত্র তত্ত্বকে পাত্তাই দিচ্ছেন না স্কালোনি। স্পেনের সঙ্গে তাদের সম্পর্ককে ‘দুই ভাইয়ের মতো’ উল্লেখ করে তিনি জানান, রানার্সআপ হওয়ার পরও আর্জেন্টাইন সমর্থকদের রাস্তায় নেমে উদযাপন করাটাই তার কাছে আসল জয়।
এদিকে চলতি বছরের ডিসেম্বরেই স্কালোনির বর্তমান চুক্তির মেয়াদ ফুরাচ্ছে। লিওনেল মেসির আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের বিদায়লগ্নে কোচের ভবিষ্যৎ নিয়েও চলছে নানা জল্পনা-কল্পনা। তবে সাক্ষাৎকারে স্কালোনির কণ্ঠে ছিল এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা ও আত্মিক বন্ধন বজায় রাখার প্রত্যয়। ভবিষ্যৎ নিয়ে আর্জেন্টাইন কোচ বলেন, ‘শুধু পুরোনো ট্রফি ধরে রাখার প্রতিযোগিতা নয়, মূল কথা হলো এই দলটার সঙ্গে মানুষের আত্মিক টান যেন বজায় থাকে। দলনেতা হিসেবে জানি চ্যালেঞ্জটা কতটা কঠিন। আমরা সেই পথেই এগিয়ে যাব, আমি ডাগআউটে থাকি বা না থাকি।’
বয়সের বাধা পেরিয়ে তরুণদের সুযোগ দেয়ার বার্তা দিয়ে স্কালোনি আরও বলেন, ‘ক্লাব ফুটবলে কেমন খেলছে, তার ওপর নির্ভর করবে পুরোনোরা থাকবে নাকি নতুনরা আসবে। আমাদের ইচ্ছা সবাইকে এই পবিত্র জার্সি গায়ে চাপানোর সুযোগ দেয়া।’
নতুন প্রীতি ম্যাচগুলোতে এই দল নিয়েই আরেকবার ডাগআউটে দাঁড়াবেন স্কালোনি। ফিফা উইন্ডোতে বলিভিয়া, বুরকিনা ফাসো ও বেনিনের বিপক্ষে খেলবে আর্জেন্টিনা। আর বেনিন ম্যাচে শেষবারের মতো নীল-সাদা জার্সিতে মাঠে নামবেন মেসি।
