'জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে মৃতদেহ সংরক্ষণ ও পরিবহনে তৈরি হয় তীব্র সংকট' বণিক বার্তার শিরোনাম। খবরে বলা হয়, ২০২৪ সালের ৫ই আগস্ট ক্ষমতাচ্যুত হয়ে শেখ হাসিনা দেশ থেকে পালিয়ে যান। সেদিন আশুলিয়ায় ধারণ করা একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
ভিডিওতে দেখা যায়, কয়েকজন আন্দোলনকারীর মরদেহ স্তূপ করে একটি রিকশা ভ্যানে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। জুলাইয়ের সেই সহিংস সময়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হামলায় একসঙ্গে অনেক অন্দোলনকারী নিহত হন। সে সময় মরদেহ সম্মানজনক ও সংরক্ষণযোগ্যভাবে পরিবহনের জন্য প্রয়োজনীয় বিশেষায়িত যানবাহন দেখা যায়নি।
সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, জুলাই অভ্যুত্থানের সময় দেশে সরকারি মরচুয়ারি ভ্যান ছিল মাত্র তিনটি। এর মধ্যে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অধীন সরকারি যানবাহন অধিদপ্তরের দুটি এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ছিল একটি। বর্তমানেও সেই সংখ্যা অপরিবর্তিত রয়েছে। যেকোনো পরিস্থিতিতে মৃতদেহের মর্যাদাপূর্ণ সংরক্ষণ, নিরাপদ পরিবহন ও সঠিক পরিচয় শনাক্তকরণ আন্তর্জাতিক রীতিসিদ্ধ চর্চার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ।
'গ্যাসের অভাবে উৎপাদন কম, ছুটি বাড়িয়েছে কিছু কারখানা' প্রথম আলোর শিরোনাম। খবরে বলা হয়, গাজীপুরের কোনাবাড়ী এলাকায় মিতালি ফ্যাশনের কারখানার ডাইং (কাপড়ের রং করা) সেকশন গ্যাস-সংকটের কারণে আট দিন ধরে বন্ধ। কাপড় ডাইং না হওয়ায় প্রতিষ্ঠানটির সেলাই সেকশনের ৩০টি উৎপাদন লাইনের মধ্যে ১৮টি লাইন অলস হয়ে পড়েছে।
মিতালি ফ্যাশনের চেয়ারম্যান আবু ইউসুফ আবদুল্লাহ গতকাল বলেন, গ্যাস-সংকটের কারণে কারখানার উৎপাদন সচল রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে। কয়েকটি রপ্তানি ক্রয়াদেশের বিপরীতে তৈরি পোশাক নির্ধারিত সময়ে পাঠাতে পারবেন না তাঁরা। এ জন্য ক্রেতাদের মূল্যছাড় দিতে হতে পারে।
মিতালি ফ্যাশনের মতো সারা দেশের শিল্পকারখানা দুই সপ্তাহ ধরে ভয়াবহ গ্যাস-সংকটে ভুগছে। সঙ্গে আছে বিদ্যুতের লোডশেডিং। এতে অনেক শিল্পের উৎপাদন অর্ধেকে নেমেছে। ফলে খাদ্য ও খাদ্যবহির্ভূত বেশ কিছু পণ্যের চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে। অন্যদিকে চাহিদা অনুযায়ী উৎপাদন না হওয়ায় পণ্য রপ্তানি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
বিভিন্ন খাতের ব্যবসায়ীরা বলছেন, গ্যাস-সংকটের কারণে কাচ, ইস্পাত, বস্ত্রকল ও তৈরি পোশাক, সিরামিক, বিস্কুট-কেক এবং ভোগ্যপণ্যের উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। উৎপাদন কম হওয়ায় ব্যয় বাড়ছে। তাতে লোকসান গুনতে হচ্ছে। শিগগিরই গ্যাসের সংকট না কাটলে কর্মী ছাঁটাইয়ের মতো পদক্ষেপ নিতে হতে পারে কোনো কোনো প্রতিষ্ঠানে।
'জ্বালানি খাতে নতুন প্রস্তাব বিরোধপূর্ণ প্রতিষ্ঠান সকারের' সমকালের শিরোনাম।
খবরে বলা হয়, আজারবাইজানের রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান সকার আবারও বাংলাদেশের জ্বালানি খাতে কাজ করার আগ্রহ দেখিয়েছে। দীর্ঘমেয়াদি এলএনজি সরবরাহ, নতুন ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণ এবং বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিচালনায় অংশ নেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় তেল-গ্যাস অনুসন্ধান প্রতিষ্ঠান বাপেক্সের 'সঙ্গে চলমান আইনি বিরোধের মধ্যেই কোম্পানিটি এমন প্রস্তাব দিল। পুরোনো বিরোধ নিষ্পত্তির আগেই নতুন উদ্যোগ কতটা যৌক্তিক, তা নিয়ে জ্বালানি খাত-সংশ্লিষ্টদের মধ্যে আলোচনা চলছে।
তবে জ্বালানি বিভাগ প্রস্তাবটি ইতিবাচকভাবে পর্যালোচনা করছে বলে দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে। জ্বালানি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, গত জুনে সকার সরকারকে কয়েকটি পৃথক প্রস্তাব দেয়।
এর মধ্যে রয়েছে দুই দেশের সরকারি পর্যায়ে (জিটুজি ভিত্তিতে) দীর্ঘমেয়াদি এলএনজি সরবরাহ, ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণ এবং রূপসা বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিচালনায় অংশগ্রহণ। প্রস্তাব পাওয়ার পর বিষয়গুলো পর্যালোচনার জন্য সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
'আইনের খসড়া মন্ত্রিসভায় অনুমোদন: গুমের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড'- কালের কণ্ঠের শিরোনাম। খবরে বলা হয়, 'গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৬'-এর খসড়া নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। এতে গুম করার অপরাধের জন্য যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।
আর গুমের ফলে মৃত্যু ঘটলে, মরদেহ পাওয়া গেলে অথবা পাঁচ বছর অতিক্রান্ত হওয়ার পরেও জীবিত বা মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা সম্ভব না হলে মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং সর্বোচ্চ এক কোটি টাকা অর্থদণ্ড আরোপের বিধান এতে যুক্ত করা হয়েছে। গতকাল সোমবার বিকেলে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই আইনের খসড়া অনুমোদন করা হয়েছে। বৈঠকের পর মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মানবাধিকার, মানবিক মর্যাদা, ব্যক্তি-স্বাধীনতা এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে 'গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৬'-এ গুমকে একটি স্বতন্ত্র, আমলযোগ্য, জামিন অযোগ্য ও আপস-অযোগ্য ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
'কোচিং-বাণিজ্য গ্রামেও' আজকের পত্রিকার শিরোনাম। খবরে বলা হয়, রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশের বেশিরভাগ স্কুলশিক্ষার্থীই ছুটছে কোচিং সেন্টারে। শুধু স্কুলশিক্ষার্থী নয়, প্ৰথম শ্রেণিতে ভর্তির অপেক্ষায় থাকা শিশুদের নিয়েও অভিভাবকেরা ছুটছেন কোচিং সেন্টারে। বিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা শুধু নয়; এসএসসি, এইচএসসি, বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল ও প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা এমনকি চাকরির পরীক্ষার প্রস্তুতিতেও কোচিংনির্ভরতা। রাজধানী থেকে জেলা শহর, উপজেলা, গ্রাম পর্যন্ত বিস্তার ঘটেছে রমরমা এই কোচিং-বাণিজ্যের। আনাচকানাচেগড়ে ওঠা এসব কোচিং সেন্টারে সকাল থেকে রাত ৯টা -১০ টা পর্যন্ত ব্যাচে ব্যাচে চলছে কোচিংয়ের নামে ক্লাস। কোচিং - বাণিজ্য ঠেকাতে বিভিন্ন সময়ে উদ্যোগ নেওয়া হলেও কোনো কাজে আসেনি। ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়েছে কোচিং সেন্টার।
শিক্ষাবিদেরা বলছেন , শ্রেণিকক্ষে পাঠদানের ঘাটতি, পরীক্ষাকেন্দ্রিক শিক্ষাব্যবস্থা, অসুস্থ প্রতিযোগিতা এবং অভিভাবকদের ভালো ফলের প্রত্যাশা — সব মিলিয়ে কোচিংনির্ভরতা বাড়ছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে একশ্রেণির শিক্ষকদের শ্রেণিকক্ষে পড়ানোর চেয়ে আর্থিক লাভের জন্য কোচিং করানোর প্রবণতা।
'গোর-প্রণয় বৈঠক ও দিল্লির নতুন বার্তা' নয়াদিগন্তের শিরোনাম। খবরে বলা হয়, ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দিনেশ ত্রিবেদীর সাথে মার্কিন বিশেষ দায়িত্বপ্রাপ্ত দূত সার্জিও গোরের বৈঠকের পরই ভারতের ভূখণ্ড থেকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিষয়ে নিজস্ব অবস্থান স্পষ্ট করেছে দিল্লি। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দেশটির সংসদীয় স্থায়ী কমিটিকে জানিয়েছে, শেখ হাসিনাকে মানবিক বিবেচনায় আশ্রয়ে রাখা হলেও ভারতের মাটি ব্যবহার করে কোনো ধরনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার সুযোগ দেয়া হচ্ছে না। একই সময়ে ঘটে যাওয়া এই দু'টি ঘটনা ঘিরে কূটনৈতিক অঙ্গন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ঘটনা দু'টির সময়কাল কাছাকাছি হলেও এদের মধ্যে সরাসরি কোনো সংযোগ বা কার্যকারণ রয়েছে- এমন কোনো দাফতরিক প্রমাণ এখনো পাওয়া যায়নি। বরং এটিকে ভারতের দীর্ঘদিনের ঘোষিত নীতিরই ধারাবাহিকতা হিসেবে দেখছেন তারা।
নিউ এইজের শিরোনাম 'Promised quota reforms remain stalled' অর্থাৎ 'কোটা সংস্কারের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে অগ্রগতি নেই'। খবরে বলা হয়, বাংলাদেশে সরকারি চাকরিতে কোটা বণ্টন নিয়ে বিতর্ক এখনো চলছে। অথচ কোটা সংস্কারের দাবিতে শুরু হওয়া বিক্ষোভই একসময় গণ-আন্দোলনে রূপ নিয়েছিল। যা পরে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটিয়েছিল। বিষয়টি দীর্ঘায়িত হওয়ার কারণ হলো, আওয়ামী লীগ সরকারের শেষ সময়ে তৈরি করা বর্তমান ব্যবস্থাকে সংস্কারের পরিবর্তে বিক্ষোভের মুখে নেওয়া তড়িঘড়ি পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হয়েছিল।
এরপর অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নিলেও একটি পর্যালোচনা কমিটি গঠন করা ছাড়া আর বিশেষ কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।
এদিকে, নারী সংগঠন ও জাতিগত সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা বলছেন, সরকারি নিয়োগের ক্ষেত্রে তারা এখনো বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন। বিদ্যমান কোটা ব্যবস্থার বাস্তবায়ন পর্যালোচনা করতে ড. ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার যে ১১ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছিল তা কার্যত অকার্যকর হয়ে পড়েছ।
ইত্তেফাকের প্রথম পাতার একটি শিরোনাম- রাজনৈতিক হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহারে জেলা পর্যায়ে কমিটি গঠন। খবরে বলা হয়, রাজনৈতিক কারণে দায়ের করা হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহারের বিষয়ে সরকারের কাছে সুপারিশ প্রণয়নের লক্ষ্যে জেলা পর্যায়ে কমিটি গঠন করেছে সরকার। এ সংক্রান্ত কার্যক্রম সুষ্ঠু ও নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় সম্পন্ন করতে কমিটির গঠন, কার্যপরিধি ও কর্মপদ্ধতি নির্ধারণ করে সম্প্রতি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, জেলা পর্যায়ে কমিটির সভাপতি থাকবেন সংশ্লিষ্ট জেলার জেলা ম্যাজিস্ট্রেট। কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন পুলিশ সুপার ও পাবলিক প্রসিকিউটর। অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সদস্যসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। মহানগর এলাকায় পুলিশ সুপারের পরিবর্তে পুলিশের একজন ডেপুটি কমিশনার এবং পাবলিক প্রসিকিউটরের পরিবর্তে মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। সরকার জানিয়েছে, রাজনৈতিক হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহারের জন্য সংশ্লিষ্ট মামলার আসামি অথবা আসামির পিতা, মাতা, স্ত্রী, স্বামী, ভাই, বোন, ছেলে কিংবা মেয়ের মধ্যে যে কোনো একজন সব আসামির পক্ষে সংশ্লিষ্ট জেলার জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে আবেদন করতে পারবেন। আবেদনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মামলা-সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় সব দলিলের আইনজীবী কর্তৃক সত্যায়িত ফটোকপি জমা দিতে হবে। জেলা পর্যায়ের কমিটি আবেদন ও সংশ্লিষ্ট নথিপত্র পর্যালোচনা করে সরকারের কাছে প্রয়োজনীয় সুপারিশ করবে। এদিকে নতুন এই প্রজ্ঞাপন জারির পরিপ্রেক্ষিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের গত ২১ মে জারি করা এ-সংক্রান্ত আগের প্রজ্ঞাপন বাতিল বলে গণ্য হবে। নতুন প্রজ্ঞাপনটি অবিলম্বে কার্যকর হবে বলে জানিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
দেশের অর্ধেক হাসপাতাল আগুন ঝুঁকিতে। এটি আগামীর সময় এর প্রতিবেদন। এতে বলা হয়, রোগ নিরাময়ের শেষ আশ্রয়স্থল হাসপাতাল। যেখানে মানুষ আসে জীবন বাঁচাতে। অথচ সেই হাসপাতালেই তাড়া করে ফিরছে আগুনের আতঙ্ক। জীবন প্রদীপের বদলে সেখানে জ্বলছে যেকোনো মুহূর্তে ছাই হয়ে যাওয়ার শঙ্কা। সরকারি সমীক্ষাতেই উঠে এসেছে আশঙ্কা জাগানিয়া এমন এক চিত্র। ফায়ার সার্ভিসের তথ্য বলছে, দেশের প্রায় অর্ধেক হাসপাতালই এখন যেন একেকটি আগুনের বারুদ। সবচেয়ে শঙ্কা হলো, শুধুই অখ্যাত ক্লিনিক নয়; এই তালিকায় রয়েছে সাধারণ মানুষের ভরসাস্থল হিসেবে পরিচিত ঢাকা মেডিকেল কলেজ, সোহরাওয়ার্দী, হৃদরোগ, নিউরোসায়েন্সেস ও শিশু হাসপাতালের মতো দেশের নামকরা স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলোও। যাকে দেশের পুরো চিকিৎসাব্যবস্থার ওপরই এক বড় প্রশ্নচিহ্ন হিসেবে দেখছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।
রাজধানী ঢাকার ইউনাইটেড হাসপাতালে ২০২০ সালে এসি বিস্ফোরণ থেকে লাগা আগুনে প্রাণ যায় পাঁচ করোনা রোগীর। সম্প্রতি আগুন লাগে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ)। ১৫ জন রোগীকে দ্রুত সরানো গেলেও বাঁচানো যায়নি একজনকে। ২০২৪ সালে বাংলাদেশ শিশু হাসপাতালের আইসিইউতে আগুন লেগে ছাই হয়ে যায় বিছানা ও দামি যন্ত্রপাতি। দিনের বেলা হওয়ায় অনেকটাই অলৌকিকভাবে বেঁচে যায় শিশুরা। এভাবে প্রায়ই আগুন লাগার ঘটনা ঘটছে হাসপাতাল-ক্লিনিকে। ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের সর্বশেষ পরিসংখ্যানের তথ্য বলছে, গত ছয় বছরে দেশের হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ঘটেছে ৮৬২টি অগ্নিদুর্ঘটনা। গড়ে প্রতি বছর ঘটছে ১৪৪টি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা।
এসব দুর্ঘটনায় হতাহতের পাশাপাশি পুড়ে গেছে হাসপাতালের অনেক গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রপাতি ও ওষুধ, যাতে একদিকে যেমন রোগীর সেবা ব্যাহত হয়েছে, অন্যদিকে হাসপাতালগুলোর বড় অঙ্কের আর্থিক ক্ষতি হয়।
হাসপাতালে জীবন বাঁচাতে এসে আগুনে পুড়ে মৃত্যুর ঘটনা অনাকাঙ্ক্ষিত উল্লেখ করে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক মেহেদি আহমেদ আনসারী জানালেন, দেশের হাসপাতালগুলোর অবকাঠামোতে রয়েছে গুরুতর সমস্যা। ‘হাসপাতালগুলোর অবকাঠামো সাধারণ ভবনের মতো। ভবন তৈরির সময় রোগী, আগুন বা গ্যাসের দুর্ঘটনার কথা মাথায় রেখে ভবন নির্মাণ করা হয় না। ফলে হাসপাতালে অগ্নিদুর্ঘটনার ঝুঁকি বেশি। আবার দুর্ঘটনা হলে ক্ষয়ক্ষতিও বেশি হয়।’
২০২০ সাল থেকে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেল, গত ছয় বছরে হাসপাতাল-ক্লিনিক-ডায়াগনস্টিক সেন্টারে বছরে আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে গড়ে ১৪৪টি। ২০২০ সালে দুর্ঘটনার সংখ্যা ছিল ৯০টি। এরপর থেকে ২০২৪ সাল ছাড়া ফি বছরই বাড়ছে দুর্ঘটনার সংখ্যা। ২০২৫ সালের অগ্নিকাণ্ডের মধ্যে সরকারি হাসপাতালে ৩৪টি, বেসরকারি হাসপাতালে ২৫টি এবং ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ৭২টি ঘটনা ঘটে।
