প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এবং বিএনপি’র সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, জুলাই আন্দোলনের কৃতিত্ব একক কোনো ব্যক্তি বা সংগঠনের নয়; এটি ছিল ছাত্র-জনতা, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল এবং সর্বস্তরের মানুষের সম্মিলিত প্রয়াসের ফল। সোমবার রাজধানীতে নার্সেস এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ন্যাব), বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএমইউ) শাখার আয়োজনে ‘রক্তঝরা জুলাইয়ে নার্সদের অবদান’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। রিজভী বলেন, বিএনপি’র একটি সামাজিক ভিত্তি আছে। আন্দোলনে সেই ভিত্তিটা কাজে লেগেছে। যদি শেখ হাসিনার পতন না হতো এবং এই আন্দোলন যদি ব্যর্থ হতো, তাহলে আমাদের অনেকের ফাঁসি হয়ে যেতো। প্রত্যেকটি বৈষম্যবিরোধী ছাত্রনেতাদের আন্দোলনের কর্মসূচিতে বিএনপি সমর্থন দিয়েছে। ৫ই জুন থেকে তাদের প্রতিটি কর্মসূচিকে বিএনপি’র পক্ষ থেকে সমর্থন জানানো হয়েছে।
তিনি বলেন, জুলাই বিপ্লব কোটাবিরোধী আন্দোলন থেকে এক দফার আন্দোলনে রূপ নেয়। কিন্তু এর পেছনে বিএনপি’র ১৭ বছরের আন্দোলন এবং সেই রক্তঝরা আন্দোলনের ইতিহাস আছে। চব্বিশের জুলাইতে তার চূড়ান্ত বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে। নার্সদের উদ্দেশ্যে রিজভী বলেন, নার্সরা মানবতার প্রথম সারির সৈনিক। তাদের দাবি-দাওয়া, সুখ-দুঃখ এবং আনন্দ-বেদনার সঙ্গে এই সরকার থাকবে। তিনি আরও বলেন, শেখ হাসিনা মানুষের কথা বলার অধিকার এবং রাজনীতি করার অধিকার বন্ধ করেছিলেন। মানুষের নাগরিক অধিকার বন্ধ করে রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করেছেন। শেখ হাসিনা দেশের বিরোধী রাজনৈতিক পক্ষকে নোংরা ভাষায় গালাগালি করতেন। আমরা এত জুলুম, নির্যাতন, রিমান্ডের পরও কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে তার বিরুদ্ধে কঠোর ভাষায় সমালোচনা করেছি, কিন্তু কোনোদিন বাজে কথা বলিনি।
ন্যাবের বিএমইউ শাখার সভাপতি শারমিন আক্তারের সভাপতিত্বে এবং মহাসচিব সুজন মিয়ার সঞ্চালনায় সভায় প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী (সচিব পদমর্যাদা) মো. রাশেদ খান, বিএনপি’র স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক অধ্যাপক ডা. রফিকুল ইসলাম প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
