রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে তুমুল পাল্টাপাল্টি হামলা চলছে। আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এদিন রাশিয়ার হামলায় ইউক্রেনে এখন পর্যন্ত তিনজন এবং ইউক্রেনের হামলায় রাশিয়ায় অন্তত নয়জন নিহত হয়েছে।
রাশিয়ার দক্ষিণাঞ্চলীয় ক্রাসনোদার অঞ্চলের গভর্নর ভেনিয়ামিন কনদ্রাতিয়েভ বার্তা আদান-প্রদানের মাধ্যম টেলিগ্রামে জানান, সোমবার (৩ আগস্ট) ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় কৃষ্ণসাগর উপকূলীয় অবকাশকেন্দ্র গেলেনজিক শহরে ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ পড়ে অন্তত ছয়জন নিহত এবং আরও ৪০ জন আহত হয়েছেন।
এর কয়েক ঘণ্টা আগে রাশিয়ার দখলে থাকা ক্রিমিয়ার মস্কো-সমর্থিত গভর্নর সের্গেই আকসিওনভ জানান, রাতভর ইউক্রেনের হামলায় সেখানে তিনজন নিহত এবং দুজন আহত হয়েছেন। তবে তিনি হামলার বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেননি।
অন্যদিকে ইউক্রেনের দনিপ্রোপেত্রোভস্ক অঞ্চলে একটি গ্যাস স্টেশনে রাশিয়ার হামলায় অন্তত তিনজন নিহত হয়েছেন। যুদ্ধের শুরু থেকে অঞ্চলটি বারবার রুশ হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে।
অঞ্চলটির গভর্নর ওলেক্সান্দর হানঝা টেলিগ্রামে জানান, হামলার পর গ্যাস স্টেশনটিতে আগুন ধরে যায়। এতে স্টেশনটি এবং আশপাশে থাকা কয়েকটি যানবাহন ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
যুদ্ধের পঞ্চম বছরে এসে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে উভয় দেশেই বেসামরিক মানুষের প্রাণহানির সংখ্যা বেড়েছে। যদিও রাশিয়া ও ইউক্রেন- উভয় পক্ষই বেসামরিক স্থাপনা বা মানুষকে লক্ষ্য করে হামলা চালানোর অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।
সোমবার রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, তাদের বাহিনী পূর্ব ইউক্রেনের খারকিভ অঞ্চলের বিলিই কোলোদিয়াজ এবং উসপেনিভকা নামে দুটি বসতির নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে।
অন্যদিকে ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় রাশিয়ার বৃহৎ ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ওয়াইল্ডবেরিজের একটি গুদামেও আঘাত হেনেছে। রাশিয়ার পূর্বাঞ্চলীয় ভ্লাদিমির অঞ্চলের খ্রিয়াস্তোভো গ্রামের ওই গুদামে হামলার ঘটনা ঘটে।
কিয়েভ থেকে আল জাজিরার প্রতিবেদক অড্রি ম্যাকঅ্যালপাইন জানান, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি অভিযোগ করেছেন, রাশিয়ার যুদ্ধ প্রচেষ্টায় ওয়াইল্ডবেরিজ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
তার ভাষ্য, স্বাধীন পর্যবেক্ষক সংস্থাগুলোর একাধিক তদন্তে দেখা গেছে, প্রতিষ্ঠানটি তথাকথিত ‘ডুয়াল-ইউজ’ বা বেসামরিক ও সামরিক- উভয় কাজে ব্যবহারযোগ্য বিভিন্ন পণ্য বিক্রি করে। এর মধ্যে ব্যবহৃত সামরিক হেলমেট, ব্যক্তিগত সুরক্ষা সরঞ্জাম, বুলেটপ্রুফ ভেস্ট এবং ড্রোনে ব্যবহৃত ফাইবার-অপটিক কেবলও রয়েছে।
এদিকে গত সপ্তাহে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি ওয়াশিংটনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠক শেষে তিনি এটিকে “ভালো” বলে উল্লেখ করেন।
জেলেনস্কি যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তায় ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করতে আগ্রহী। এ বিষয়ে গত শুক্রবার মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের সঙ্গেও তার টেলিফোনে আলোচনা হয়েছে।
তবে সাম্প্রতিক সময়ে ট্রাম্প ইউক্রেনকে প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদনের লাইসেন্স দেয়ার যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, সেখান থেকে তিনি সরে আসছেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।
