পাকিস্তানের বেলুচিস্তানের বিভিন্ন এলাকায় জুলাই মাসজুড়ে পরিচালিত ৪৮টি অভিযানে পাক বাহিনীর ৯৭ জন সদস্যকে হত্যা করা হয়েছে। সেই সঙ্গে এসব অভিযানে পাক বাহিনীর আরও ১৫ জন গুরুতর আহত হয়েছে। বেলুচিস্তান লিবারেশন ফ্রন্ট (বিএলএফ) এসব দাবি করেছে।
বিএলএফ আরও দাবি করেছে, একই সময়ে তারা পাকিস্তানি বাহিনীর ‘তথ্যদাতা ও এজেন্ট’ হিসেবে অভিযুক্ত পাঁচজনকেও হত্যা করেছে।
সংগঠনটির মাসিক কার্যক্রমের প্রতিবেদনে মুখপাত্র মেজর গওহরাম বেলুচ বলেন, জুলাইজুড়ে পাকিস্তানের সামরিক ও রাষ্ট্রীয় বাহিনী, সামরিক ও অর্থনৈতিক অবকাঠামো, যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং নজরদারি নেটওয়ার্ককে লক্ষ্য করে এসব হামলা চালানো হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, মাস্তুঙ, খুজদার, বাসিমা, মান্দ, তুম্প, কাহান, চাগাই, খারান, কালাত, কোয়েটা, জামুরান, সুরাব, মাশকেল, বুলেদা, করাচি, পাসনি, রাখনি, নাল, খুদান, বালনেগওয়ার ও মাশকাইসহ মোট ২৩টি স্থানে এসব অভিযান চালানো হয়।
বিএলএফের দাবি, তাদের অভিযানের লক্ষ্য ছিল বেলুচিস্তানে পাকিস্তানের কথিত ‘ঔপনিবেশিক কাঠামো’ দুর্বল করা, প্রাকৃতিক সম্পদের শোষণ ঠেকানো এবং অঞ্চলে সামরিক উপস্থিতি কমিয়ে আনা।
সংগঠনটির ভাষ্য, সবচেয়ে বড় অভিযানটি চালানো হয় গত ২২ জুলাই। সেদিন মাস্তুঙের খাদকোচা এলাকার ম্যাক্রো স্টপে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর একটি বহরে হামলা চালানো হয়। এতে ১৭ জন সেনাসদস্য নিহত এবং আরও ১০ জন আহত হন বলে দাবি করেন মেজর গওহরাম বেলুচ।
এ ছাড়া হামলায় সামরিক বহরটিরও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
বিএলএফের দাবি, জুলাই মাসে তারা পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর সাতটি সামরিক বহরে অতর্কিত হামলা চালিয়েছে, যাতে জনবল ও সামরিক সরঞ্জামের উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
সংগঠনটি আরও দাবি করেছে, জুলাই মাসে তাদের যোদ্ধারা বেলুচিস্তানের গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কের নয়টি স্থানে অবরোধ গড়ে তুলে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে। তাদের ভাষ্য, এর উদ্দেশ্য ছিল পাকিস্তানি বাহিনীর রসদ সরবরাহ ব্যাহত করা এবং কৌশলগত নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখা।
এ ছাড়া বেলুচিস্তানের বিভিন্ন এলাকায় ছয়টি বড় সামরিক ঘাঁটি এবং সাতটি চেকপোস্টে সমন্বিত হামলা চালানোর দাবিও করেছে বিএলএফ।
বিএলএফের দাবি, অভিযানের সময় তারা পাক বাহিনীর নজরদারির কাজে ব্যবহৃত দুটি ড্রোন এবং তিনটি স্থলভিত্তিক নজরদারি ক্যামেরা ধ্বংস করেছে।
এ ছাড়া বিস্ফোরণ ও হামলায় পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর ১৫টি সামরিক যান ধ্বংস এবং পাঁচটি আধুনিক অস্ত্র জব্দ করার দাবিও করেছে সংগঠনটি।
তাদের মতে, এসব পদক্ষেপ ছিল পাকিস্তানের সামরিক ও নিরাপত্তা অবকাঠামোর বিরুদ্ধে চলমান অভিযানের অংশ।
বেলুচিস্তান পোস্টের খবরে বলা হয়েছে, জুলাই মাসে বিএলএফ বিভিন্ন ধরনের গেরিলা কৌশল ব্যবহার করেছে।
সংগঠনটির তথ্যমতে, তারা ১৬টি ভারী অস্ত্রের হামলা, আটটি অতর্কিত হামলা, পাঁচটি গোয়েন্দা তথ্যভিত্তিক গোপন অভিযান, চারটি স্নাইপার হামলা, দুটি গ্রেনেড লঞ্চার হামলা, দুটি ইম্প্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস (আইইডি) বিস্ফোরণ এবং একটি হ্যান্ড গ্রেনেড হামলা চালিয়েছে।
মেজর গওহরাম বেলুচ বলেন, বেলুচিস্তানের পূর্ণ স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব অর্জন না হওয়া পর্যন্ত আরও নিয়মিত, উদ্ভাবনী, বৈচিত্র্যময় ও আরও তীব্রভাবে আমাদের সশস্ত্র অভিযান চলবে।
