ইরান ছাড়তে নাগরিকদের আহ্বান জানিয়েছে যেসব দেশ

ইরান ছাড়তে নাগরিকদের আহ্বান জানিয়েছে যেসব দেশ

ফন্ট সাইজ:

ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্র ইরানে হামলা চালিয়েছে। তবে এই হামলার হুমকির প্রেক্ষাপটে ক্রমবর্ধমান সংখ্যক দেশ ইরানে অবস্থানরত তাদের নাগরিকদের দেশটি ত্যাগ করার পরামর্শ দেয়। বৃহস্পতিবার জেনেভায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের কূটনীতিকদের মধ্যে তৃতীয় দফা পরোক্ষ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। তবে তাতে তেমন কোনো অগ্রগতি হয়নি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প তার স্টেট অব দ্য ইউনিয়ন ভাষণে ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেয়ার ঘোষণা দেন। তিনি অভিযোগ করেন, গত বছর যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত পারমাণবিক কর্মসূচি ইরান পুনর্গঠন করার চেষ্টা করছে এবং দেশটির এমন ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে যা যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ডে পৌঁছাতে পারে। তবে তিনি এর পক্ষে কোনো প্রমাণ দেননি।

তিনি বলেন, তার পছন্দ কূটনৈতিক সমাধান। কিন্তু এর মধ্যেই শনিবার সকালে ইরানে হামলা চালানো হয়েছে। ইরান বারবার বলেছে, তারা শূন্য মাত্রার ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণে রাজি হবে না এবং তাদের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি একটি ‘লাল রেখা’। যা নিয়ে আলোচনা করা যাবে না।

সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্য ও ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলে সামরিক উপস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ায়। যার মধ্যে আছে ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন ও ইউএসএস জেরাল্ড ফোর্ডসহ বড় বিমানবাহী রণতরী। এমন অবস্থায় শনিবার যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগেই যেসব দেশ তাদের নাগরিকদের ইরান ছাড়ার পরামর্শ দেয় তাদের সম্পর্কে নিচে সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো-

ইতালির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে নাগরিকদের ইরান ত্যাগের আহ্বান জানিয়েছে এবং পুরো মধ্যপ্রাচ্যে চরম সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছে। তারা জানিয়েছে, পর্যটন বা একান্ত প্রয়োজন ছাড়া ইরানে থাকা ইতালীয়দের দেশে চলে যেতে বলা হচ্ছে। একই সঙ্গে ইরাক ও লেবাননে ভ্রমণ নিরুৎসাহিত করা হয়েছে।
বৃটেন আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে ইরান থেকে সাময়িকভাবে তাদের কর্মীদের প্রত্যাহার করছে। পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, বৃটিশ নাগরিকদের সহায়তা করার সক্ষমতা এখন অত্যন্ত সীমিত, দূতাবাস দূরবর্তীভাবে পরিচালিত হচ্ছে এবং সরাসরি কনস্যুলার সহায়তা পাওয়া যাচ্ছে না।

অটোয়া নাগরিকদের বলেছে, নিরাপদে সম্ভব হলে এখনই ইরান ত্যাগ করুন। তারা সতর্ক করেছে, যে কোনো সময় সতর্কতা ছাড়াই সংঘাত শুরু হতে পারে। প্রয়োজনে আশ্রয়ে থাকতে হলে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম মজুত রাখারও পরামর্শ দেয়া হয়েছে।
অস্ট্রেলিয়া সরকার নাগরিকদের ‘যত দ্রুত সম্ভব’ ইরান ছাড়ার আহ্বান জানিয়েছে। তারা বলেছে, আঞ্চলিক উত্তেজনা উচ্চ পর্যায়ে রয়েছে এবং সামরিক সংঘাতের ঝুঁকি আছে। অযৌক্তিক আটক এবং অস্থিতিশীল নিরাপত্তা পরিস্থিতির ঝুঁকির কারণে ইরানে ভ্রমণ না করারও পরামর্শ দেয়া হয়েছে।

চীন সরকার নাগরিকদের ‘যত দ্রুত সম্ভব’ ইরান ত্যাগ করতে বলেছে এবং বহিরাগত নিরাপত্তা ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ার কথা উল্লেখ করেছে। আপাতত ইরানে ভ্রমণ এড়িয়ে চলারও পরামর্শ দেয়া হয়েছে। প্রয়োজনে চীনা দূতাবাস ও কনস্যুলেট সহায়তা দেবে বলে জানানো হয়েছে।

জার্মান দূতাবাস জানিয়েছে, ইরান ও পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতি অত্যন্ত অস্থির ও উত্তেজনাপূর্ণ। যেকোনো সময় সামরিক সংঘাত বা বিমান চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ হতে পারে।
নয়াদিল্লি নাগরিকদের সতর্কতা অবলম্বন এবং যেকোনো উপলব্ধ উপায়ে ইরান ত্যাগ করার আহ্বান জানিয়েছে।

পোল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ডোনাল্ড টাস্ক পোলিশ নাগরিকদের ইরান অবিলম্বে ত্যাগ করতে এবং কোনো অবস্থাতেই সেখানে ভ্রমণ না করতে বলেছেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও একই আহ্বান জানিয়েছে এবং ইসরাইল ও লেবানন ত্যাগের পরামর্শ দিয়েছে।
সার্বিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নাগরিকদের ইরানে ভ্রমণ না করতে এবং যারা সেখানে আছেন তাদের দ্রুত দেশ ত্যাগ করতে বলেছে।

দক্ষিণ কোরিয়ার দূতাবাস দ্রুত বাড়তে থাকা আঞ্চলিক উত্তেজনার কথা উল্লেখ করে নাগরিকদের যত দ্রুত সম্ভব ইরান ত্যাগের আহ্বান জানিয়েছে।
সুইডেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, পরিস্থিতি অত্যন্ত অনিশ্চিত। তিনি ইরান ভ্রমণ না করার পরামর্শ পুনর্ব্যক্ত করেছেন এবং দেশটিতে অবস্থানরত নাগরিকদের দ্রুত চলে যেতে বলেছেন।

যুক্তরাষ্ট্র লেবাননের বৈরুতে অবস্থিত দূতাবাস থেকে অপ্রয়োজনীয় কর্মীদের প্রত্যাহারের নির্দেশ দিয়েছে। একই সঙ্গে জেরুজালেমে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস জানিয়েছে, নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে জরুরি নয় এমন কর্মী ও তাদের পরিবারের সদস্যদের ইসরাইল ছাড়ার অনুমতি দেয়া হবে।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন