কী আছে বসুন্ধরা কিংস ও আবাহনীর ভাগ্যে

কী আছে বসুন্ধরা কিংস ও আবাহনীর ভাগ্যে

ফন্ট সাইজ:

আগামী ১৩ই আগস্ট ঘরোয়া ফুটবলে ফুটবলারদের রেজিস্ট্রেশনের শেষ দিন। এক সপ্তাহ বিরতি দিয়ে ২১শে আগস্ট এক ম্যাচের চ্যালেঞ্জ কাপ দিয়ে মাঠে গড়ানোর কথা নতুন ফুটবল মৌসুম। ২৪শে আগস্ট ফেডারেশন কাপ শুরু এবং ২৮-২৯শে আগস্ট বাংলাদেশ লীগের প্রথম রাউন্ড। ঠিক এই সময়েও নিষেধাজ্ঞার কারণে দলবদল কার্যক্রমে নামতে পারেনি লীগ চ্যাম্পিয়ন বসুন্ধরা কিংস। এখন অবস্থা রানার্সআপ আবাহনী লিমিটেডের। নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে ক্লাব দু’টি শেষ পর্যন্ত দলবদলে অংশ নিতে পারবে কিনা- তাও নিশ্চিত না। একপ্রকার বাধ্য হয়েই বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) বসুন্ধরা কিংস ও আবাহনীর বিকল্প ভেবে রেখেছে।

বসুন্ধরা কিংসের বিরুদ্ধে তাদের সাবেক খেলোয়াড়-কোচের ১১টি এবং আবাহনীর বিরুদ্ধে ৩টি অভিযোগ জমা পড়েছিল ফিফায়। যা পরবর্তীতে রূপ নেয় দলবদলের নিষেধাজ্ঞায়। আগামীকাল অভিযোগ নিষ্পত্তির শেষ দিন। এরইমধ্যে দু’টি অভিযোগের নিষ্পত্তি করা আবাহনী দলবদলের নিষেধাজ্ঞামুক্ত হওয়ার আশা করছে। প্রিমিয়ার ফুটবল লীগে অংশ নেয়া দলগুলোকে বাফুফে ফাস্ট ইন্সট্যান্ট বডিতে (এফআইবি) ক্লাব লাইসেন্সিং আবেদন করতে হয়। ফিফা নিষেধাজ্ঞা ও ফুটবলারদের দেনা-পাওনা থাকলে লাইসেন্সিং সনদ পাওয়া যায় না। এই প্রক্রিয়া বাফুফের অধীনে থাকায় সময় বাড়ানোর সুযোগ ছিল। এরইমধ্যে সময় বাড়িয়ে ৭ তারিখ করেছে বাফুফে। ঢাকা আবাহনীর কর্মকর্তা সত্যজিৎ দাশ রুপু আশা করছেন, এ সময়ের মধ্যেই তারা তাদের বাকি নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করতে পারবেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের তিনটি ফিফা নিষেধাজ্ঞা ছিল।

দুটো ইতিমধ্যে প্রত্যাহার হয়েছে, আরেকটি প্রক্রিয়াধীন। সেটা উঠানোর চেষ্টা করছি। তবে এটা চ্যালেঞ্জিং। কারণ ওই ফুটবলারের আইনজীবী ধরা দিচ্ছে না। আমরা চাচ্ছি, কিস্তির মাধ্যমে টাকাটা পরিশোধ করতে। কিন্তু ওর আইনজীবী চাইছে একসঙ্গে। এটা নিয়েই দেন-দরবার চলছে। তবে আশা করি, আবাহনীর নিষেধাজ্ঞা থাকবে না।’ বাংলাদেশ ফুটবল লীগের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন বসুন্ধরা কিংসের নিষেধাজ্ঞার সংখ্যা ১১। রোববার বাফুফে নির্বাহী কমিটির জরুরি সভা লীগ সংক্রান্ত বিষয় হলেও ফেডারেশনের সিনিয়র সহ-সভাপতি ও লীগ কমিটির চেয়ারম্যান ইমরুল হাসান অনুপস্থিত ছিলেন। ফলে বসুন্ধরা কিংসের সর্বশেষ অবস্থা কীÑ এ ব্যাপারে ফেডারেশনের অন্যরা অজ্ঞাত। তবে বসুন্ধরা কিংসের কর্মকর্তা বায়েজিদ জোবায়ের আলম নিপু বলেন, ‘রোববার আমাদের ক্লাবের মিটিং ছিল। সেখানে ৭-৮ই আগস্ট খেলোয়াড়দের আসতে বলা হয়েছে। এর মধ্যে আমরা নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নিবন্ধন করতে পারবো বলে আশা করছি।’ বসুন্ধরা কিংসের নিষেধাজ্ঞা নিষ্পত্তি করতে হলে কয়েক কোটি টাকা ব্যয় করতে হবে। এত বড় অঙ্কের অর্থ বৈদেশিক মুদ্রায় পরিশোধে প্রয়োজনীয় অনুমতি এবং সময় প্রয়োজন। খেলোয়াড়-কোচরা পাওনা বুঝে পাওয়ার পর ফিফা নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করতে খানিকটা সময়সাপেক্ষ ব্যাপার। নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার হয়ে ১৩ই আগস্টের মধ্যে নিবন্ধন কার্যক্রম সম্পন্ন করা তাই বড় অনিশ্চয়তা। বসুন্ধরা কিংস ফুটবলারদের সঙ্গে মৌখিক কথা বললেও ঢাকা আবাহনী এখনো সেভাবে ফুটবলারদের সঙ্গে আলোচনাও করেনি।

এ বিষয়ে রুপু বলেন, ‘গত মৌসুমে আমাদের দলের হয়ে যারা খেলেছেন, তাদের বেশির ভাগই আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। তবে নিষেধাজ্ঞা থাকায় আমরা কোনো প্রকার আলোচনা করিনি। আগে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করি। তারপর অন্য বিষয় নিয়ে ভাববো।’ এই পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয় হয়ে উঠেছে আসন্ন বাংলাদেশ ফুটবল লীগ। ফিফার বিধি অনুযায়ী, প্রতিযোগিতামূলক শীর্ষ লীগে নির্দিষ্ট সংখ্যক দল থাকা জরুরি। সংখ্যাটা কমপক্ষে ১০। যদি বসুন্ধরা কিংস ও আবাহনী লীগে অংশগ্রহণ করতে না পারে, তাহলে পুরো লীগ কাঠামোই প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে। এমন বাস্তবতায় বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) জরুরি ভিত্তিতে বিকল্প ব্যবস্থা নিয়ে রেখেছে। তবে এটা ঠিক, বিকল্প দল ঢুকিয়ে লীগের সংখ্যা ঠিক রাখা গেলেও কিংস ও আবাহনী না থাকলে প্রতিযোগিতার মান ধরে রাখা সম্ভব হবে না। বাফুফে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যেকোনো পরিস্থিতিতেই শীর্ষ লীগে অন্তত ১০টি দল রাখা হবে। সে কারণে গত মৌসুমে অবনমিত হওয়া আরামবাগ ও ইয়ংমেন্স ক্লাবকে শীর্ষ লীগে রেখে দেয়া হয়েছে।

একইসঙ্গে বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়নশিপ লীগের দল ঢাকা ওয়ান্ডারার্সের আবেদন বিবেচনা করে তাদেরও বাংলাদেশ ফুটবল লীগে অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। তবে এসব পদক্ষেপ আপাতদৃষ্টিতে সংকট সামাল দেয়ার উদ্যোগ হলেও মূল সমস্যার কোনো স্থায়ী সমাধান এখনো পাওয়া যায়নি। বাংলাদেশ ফুটবল লীগের সবচেয়ে সফল দুই ক্লাব কিংস ও আবাহনী ছিটকে গেলে সেটা হবে দেশের ফুটবলের বড় এক বিপর্যয়।


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন