কঠিন চ্যালেঞ্জে ডারউইনে শুরু টাইগারদের প্রস্তুতি

কঠিন চ্যালেঞ্জে ডারউইনে শুরু টাইগারদের প্রস্তুতি

ফন্ট সাইজ:

২৩ বছর পর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট সিরিজ খেলতে নামার রোমাঞ্চ নিয়ে ডারউইনে প্রথম দিনের অনুশীলন করেছে বাংলাদেশ। ফিটনেস, ফিল্ডিং, ব্যাটিং ও বোলিং অনুশীলনে দারুণ ফুরফুরে দেখা গেছে দেশের ক্রিকেটারদের। গত শুক্রবার রাতে প্রথম বহরে দেশ ছেড়ে গতকালই মূল অনুশীলনে নেমে পড়েন তারা। দীর্ঘ সময় বিমান ভ্রমণের পর ডারউইনের চমৎকার মাঠে নিবিড়ভাবে কাজ করেছেন সফরকারীরা।

প্রথম দিনের প্রস্তুতি শেষে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড প্রকাশিত ভিডিও বার্তায় নিজের অভিজ্ঞতা শেয়ার করেন অভিজ্ঞ স্পিনার তাইজুল ইসলাম। দলের প্রস্তুতি এবং সুযোগ-সুবিধা নিয়ে বাঁহাতি এই স্পিনার বলেন, ‘ভ্রমণটা ভালো ছিল। কারণ আসার সময় আমরা একটা ট্রানজিট পেয়েছিলাম। যথেষ্ট বিশ্রাম নেয়ার একটা ব্যাপার ছিল। আলহামদুলিল্লাহ সবমিলিয়ে প্রথম দিনের প্রস্তুতি খুব ভালো হয়েছে। এখানে সুযোগ-সুবিধা অনেক ভালো। উইকেট থেকে শুরু করে ফিল্ডিং ও রানিং সব ধরনের কার্যক্রম আমরা খুব ভালোভাবে করতে পেরেছি।’
অস্ট্রেলিয়া সফরের শুরুতেই বাংলাদেশ দলের পুরো বহর অবশ্য একসঙ্গে হতে পারেনি। যাত্রার প্রথম ধাপে শুক্রবার রাতে একাংশ অস্ট্রেলিয়ার ডারউইনে পৌঁছালেও মূল দলের কয়েকজন সদস্য এখনো গিয়ে পৌঁছাননি। শনিবার রাতে তারা অস্ট্রেলিয়ার উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন আজ তারা মূল দলের অনুশীলনে অবশ্যই যুক্ত হবেন। বিসিবি’র নির্দিষ্ট পরিকল্পনা অনুযায়ী আগামী ৫ই আগস্ট পর্যন্ত ডারউইনে প্রথম ধাপে অনুশীলন চালাবে বাংলাদেশ দল। কন্ডিশনের সঙ্গে পুরোপুরি মানিয়ে নিতেই এই বাড়তি সময়টুকু নিবিড়ভাবে কাজে লাগাতে চায় সফরকারীরা। এরপর ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া একাদশের বিপক্ষে ৩ দিনের প্রস্তুতি ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ দল। প্রস্তুতি ম্যাচ শেষে টেস্ট লড়াইয়ের মূল পর্বে নামার আগে আরও ২ দিন অনুশীলনের সুযোগ মিলবে ডারউইনে।

আইসিসি টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হিসেবে অজিদের বিপক্ষে ২টি ম্যাচের টেস্ট সিরিজে মাঠে নামবে টাইগাররা। সূচি অনুযায়ী, আগামী ১৩ই আগস্ট ডারউইনের মারারা ওভালে অনুষ্ঠিত হবে সিরিজের ১ম টেস্ট। এরপর সাউথ ম্যাকাইতে আগামী ২২শে আগস্ট শুরু হবে সিরিজের ২য় ও শেষ টেস্ট ম্যাচ, যা অনুষ্ঠিত হবে গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ অ্যারেনায়। তবে গুরুত্বপূর্ণ এই সফরের আগেই ইনজুরির বড় ধাক্কা সামলাতে হচ্ছে বাংলাদেশকে। চোটের কারণে তারকা পেসার নাহিদ রানা পুরো সফর থেকেই দুর্ভাগ্যজনকভাবে ছিটকে গেছেন। তবে বাংলাদেশের আশার খবর হলো, পুনর্বাসনে আশাব্যঞ্জক উন্নতি হওয়ায় উইকেটরক্ষক-ব্যাটার লিটন দাসকে প্রথম টেস্টে দলে পাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

এ ছাড়া চোট কাটিয়ে ওঠা পেসার শরীফুল ইসলাম ২য় টেস্টের আগে অস্ট্রেলিয়ায় দলের স্কোয়াডে যুক্ত হতে পারেন। গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়দের ইনজুরি সমস্যা কাটিয়ে ওঠা লাল-সবুজের টেস্ট দলকে অনেকটাই স্বস্তি জোগাচ্ছে বলে মনে করেন টিম অফিশিয়ালরা। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে লাল-বল ও টেস্ট ক্রিকেটের অতীত ইতিহাস খুব একটা সুখকর নয় বাংলাদেশের জন্য। শক্তিশালী অজিদের বিপক্ষে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এখন পর্যন্ত মোট ৬টি টেস্ট ম্যাচ খেলেছে বাংলাদেশ দল। এর মধ্যে মিরপুরে ঐতিহাসিক জয়টি ছাড়া বাকি ৫টি টেস্ট ম্যাচেই লজ্জাজনক হারের স্বাদ পেতে হয়েছে টাইগারদের। এমনকি ওই ৫টি হারের মধ্যে ৩টি পরাজয়ই ছিল ইনিংস ব্যবধানে। দীর্ঘ ২৩ বছর পর অস্ট্রেলিয়ার কন্ডিশনে স্পোর্টিং ও বাউন্সি উইকেটে টেস্ট সিরিজ খেলার সুযোগ পেয়ে এবার অতীতের সেই ব্যর্থতার পরিসংখ্যান বদলাতে চরম মরিয়া লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। ডারউইনে প্রথম দিনের অনুশীলনে এমনই বার্তা দিয়েছেন দলের সিনিয়র ক্রিকেটার তাইজুল ইসলাম।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন