সাবেক দুই এমপি, ওসি, আ.লীগ নেতাসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে আইসিটিতে পদক্ষেপের আবেদন

যাত্রাবাড়ীর ১৭জন হত্যার অভিযোগে

সাবেক দুই এমপি, ওসি, আ.লীগ নেতাসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে আইসিটিতে পদক্ষেপের আবেদন

ফন্ট সাইজ:

২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থান চলাকালে রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকায় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় সাবেক দুই সংসদ সদস্য, ওসি এবং আওয়ামী লীগের দুই নেতার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে (আইসিটি) পুনরায় গ্রেপ্তার দেখানো ও পরোয়ানা জারির আবেদন করা হয়েছে। বিষয়টি মানবজমিন কে নিশ্চিত করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর ফারুক আহম্মদ। সোমবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ আবেদন করা হয় বলে জানান তিনি।

তদন্ত সংস্থার উপ-পরিচালক ও তদন্তকারী কর্মকর্তা মো. আলমগীর (পিপিএম) গত ১৮ই জুলাই চিফ প্রসিকিউটরের কাছে এ সংক্রান্ত একটি তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন। প্রতিবেদনে বর্তমানে অন্য মামলায় কারাগারে থাকা চার অভিযুক্তকে এ মামলায় পুনরায় গ্রেফতার দেখানোর এবং পলাতক সাবেক সংসদ সদস্য মশিউর রহমান সজলের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানানো হয়। মামলার পরবর্তী শুনানির তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে আগামী ৪ঠা অক্টোবর।

আবেদনে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার অভিযোগ নিবন্ধন নং-২০৪ (তারিখ: ১১ ডিসেম্বর ২০২৫)-এর ভিত্তিতে তদন্ত শুরু হয়। তদন্তকারী কর্মকর্তা ঘটনাস্থল পরিদর্শন, প্রত্যক্ষদর্শী ও ভুক্তভোগীদের জবানবন্দি গ্রহণ, ভিডিও ধারণ, চিকিৎসা সনদ সংগ্রহ এবং বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করেন।

এছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ায় প্রকাশিত প্রতিবেদন, জাতিসংঘের প্রকাশিত রিপোর্ট, আইটিজেপি (ITJP)-এর প্রতিবেদন, স্থিরচিত্র, ভিডিওচিত্র এবং বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের নথিপত্র পর্যালোচনা করা হয়। র‌্যাব, এপিবিএন, ডিএমপি, বিজিবি, জেলা প্রশাসন, সিভিল সার্জন, পুলিশ সুপার এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমের কাছ থেকেও প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে।

তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ২০২৪ সালের জুলাই মাসে সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে শুরু হওয়া আন্দোলনের সময় যাত্রাবাড়ী এলাকায় দেশের মধ্যে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক আন্দোলনকারী নিহত ও গুরুতর আহত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। তদন্তে প্রাথমিকভাবে জানা যায়, ১৮ জুলাই অন্তত ৮ জন এবং ২০ জুলাই অন্তত ৯ জন নিহত হন। ১৭ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত আরও বহু মানুষ নিহত ও গুরুতর আহত হয়েছেন। অনেককে বেওয়ারিশ হিসেবে দাফনের অভিযোগও তদন্তাধীন রয়েছে।

তদন্তে দাবি করা হয়েছে, আন্দোলন দমনের উদ্দেশ্যে সাবেক যাত্রাবাড়ী থানার ওসি আবুল হাসান, সাবেক সংসদ সদস্য কাজী মনিরুল ইসলাম মনু, সাবেক সংসদ সদস্য মশিউর রহমান সজল, সাবেক কাউন্সিলর শফিকুল ইসলাম খান দিলু এবং যাত্রাবাড়ী থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হারুনুর রশিদ মুন্নাসহ অন্যদের বিরুদ্ধে আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা, হত্যা, গুরুতর জখম, গ্রেফতার, মিথ্যা মামলা এবং নির্যাতনের অভিযোগের প্রাথমিক তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে।

বর্তমানে সাবেক ওসি আবুল হাসান, সাবেক এমপি কাজী মনিরুল ইসলাম মনু, শফিকুল ইসলাম খান দিলু এবং হারুনুর রশিদ মুন্না ডিএমপির যাত্রাবাড়ী থানার একটি মামলায় গ্রেফতার হয়ে কারাগারে রয়েছেন। তাদের আইসিটির মামলায় পুনরায় গ্রেফতার দেখানোর আবেদন করা হয়েছে। অন্যদিকে পলাতক সাবেক সংসদ সদস্য মশিউর রহমান সজলের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির আবেদন করা হয়েছে।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন