জাপানি মুদ্রার নজিরবিহীন দরপতন রোধ করতে একযোগে বাজারে নেমেছে জাপান ও যুক্তরাষ্ট্র। ইয়েনের মানের রেকর্ড পতন ঠেকানোর লক্ষ্যে গত শুক্রবারে দুই দেশ যৌথভাবে বাজার থেকে বিপুল পরিমাণ ইয়েন কেনে। আজ সোমবার জাপানের অর্থ মন্ত্রণালয় আনুষ্ঠানিকভাবে এই যৌথ হস্তক্ষেপের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে এবং দরপতন রোধে প্রয়োজনে তারা আরও পদক্ষেপ নেয়ার ঘোষণা দেয়। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
২০১১ সালের মারাত্মক ভূমিকম্পের পর এটিই প্রথম জাপান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে কোনো যৌথ মুদ্রা চুক্তি বাস্তবায়নের ঘটনা। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, বন্ধুত্বের নিদর্শন এবং বৈশ্বিক অর্থনীতিকে সহায়তা করতে যুক্তরাষ্ট্র জাপানকে সহায়তা করছে। বাজার বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মার্কিন শুল্কের সুফল যাতে ইয়েনের রেকর্ড অবমূল্যায়নের কারণে নষ্ট না হয়, সেজন্য যুক্তরাষ্ট্রও এতে যোগ দিয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের এই ঘোষণার পরপরই মার্কিন ডলারের বিপরীতে ইয়েনের মান এক শতাংশেরও বেশি বৃদ্ধি পেয়ে ১৫৫.২০-এ দাঁড়ায়। জাপানের অর্থমন্ত্রী সাতসুকি কাতায়ামা সাংবাদিকদের বলেন, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ইয়েনের অতিরিক্ত অস্থিরতা রোধে আমরা এই পদক্ষেপ নিয়েছি এবং সামনে একযোগে আরো পদক্ষেপ নিতে আমরা দ্বিধাবোধ করব না। মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্টও এই যৌথ প্রচেষ্টার বিষয়টি নিশ্চিত করে ব্যাংক অব জাপানকে (বিওজে) দ্রুত সুদের হার বাড়ানোর আহ্বান জানান।
উল্লেখ্য, ক্রমাগত ইয়েনের পতনে জাপানে আমদানি খরচ আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ায় তা মূল্যস্ফীতি বাড়িয়ে দিচ্ছিল। এতে প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির জনপ্রিয়তায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। এর আগে জাপান এককভাবে চেষ্টা করেও ইয়েনের পতন ঠেকাতে পারেনি। তবে এই যৌথ ঘোষণার পর আগামী সেপ্টেম্বরেই ব্যাংক অব জাপান কর্তৃক আবারও সুদের হার বাড়ানোর জল্পনা জোরালো হয়েছে।
