অতি ধনীদের কর নিয়ে ফ্রান্সে ফের রাজনৈতিক উত্তাপ

ফন্ট সাইজ:

ফ্রান্সে অতি ধনীদের ওপর কর আরোপের বিষয়টি আবারও রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে। বড় সম্পদের ওপর কর ব্যবস্থা নিয়ে জাতীয় পরিষদের তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন প্রকাশের পর দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে এ নিয়ে নতুন বিতর্ক শুরু হয়েছে।
তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে বড় ধরনের কর পরিবর্তনের পরিবর্তে কর ব্যবস্থায় কিছু নির্দিষ্ট সংস্কারের সুপারিশ করা হয়েছে। তবে বামপন্থি রাজনৈতিক দলগুলো অতি ধনীদের ওপর বিশেষ কর আরোপের দাবি আবারও সামনে এনেছে।

সবচেয়ে আলোচিত প্রস্তাবগুলোর মধ্যে রয়েছে অর্থনীতিবিদ গ্যাব্রিয়েল জুকমানের প্রস্তাবিত ‘জুকমান ট্যাক্স’। এই প্রস্তাব অনুযায়ী, যাদের সম্পদের পরিমাণ ১০০ মিলিয়ন ইউরোর বেশি, তাদের ওপর ন্যূনতম ২ শতাংশ কর আরোপের কথা বলা হয়েছে। তবে এই প্রস্তাব এখনো আইনে পরিণত হয়নি।

ফ্রান্সের বামপন্থি দলগুলোর দাবি, অতি ধনীদের কাছ থেকে বাড়তি কর আদায়ের মাধ্যমে অর্থনৈতিক বৈষম্য কমানো এবং রাষ্ট্রীয় আয়ের ভারসাম্য ফিরিয়ে আনা সম্ভব। তাদের মতে, সাধারণ নাগরিকদের ওপর করের চাপ কমাতে ধনী শ্রেণির আরও বেশি অবদান রাখা উচিত।

অন্যদিকে সরকারপন্থি ও রক্ষণশীল রাজনীতিকদের একাংশ মনে করছেন, এ ধরনের কর বিনিয়োগ কমিয়ে দিতে পারে এবং ধনী উদ্যোক্তা ও বিনিয়োগকারীদের দেশ ছাড়ার প্রবণতা বাড়াতে পারে। আইন বিশেষজ্ঞদের মধ্যেও প্রশ্ন রয়েছে, নতুন কোনো সম্পদ কর ফ্রান্সের সাংবিধানিক নীতির সঙ্গে কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে।

অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ফ্রান্সের কর বিতর্ক মূলত দুটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নকে ঘিরে আবর্তিত হচ্ছে। প্রথমত, কীভাবে রাষ্ট্রীয় আয় বাড়ানো যায় এবং দ্বিতীয়ত, কীভাবে বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের ওপর নেতিবাচক প্রভাব এড়ানো যায়।

ফরাসি অর্থনীতিবিদ গ্যাব্রিয়েল জুকমানের মত, অতি ধনীদের ওপর ন্যূনতম কর আরোপ করলে করব্যবস্থায় আরও ন্যায্যতা আনা সম্ভব। তার যুক্তি, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অতি ধনী ব্যক্তিদের প্রকৃত করের হার নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিতর্ক রয়েছে।

অন্যদিকে ফ্রান্সের অর্থনৈতিক পর্যবেক্ষণ সংস্থা (OFCE)-এর অর্থনীতিবিদদের মতে, শুধু সম্পদের ওপর কর আরোপের পরিবর্তে আয়, মূলধন লাভ ও উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া সম্পদের ওপর আরও কার্যকর করব্যবস্থা গড়ে তোলা যেতে পারে। তাদের মতে, কর ফাঁকি বন্ধ করা এবং কর ব্যবস্থায় ভারসাম্য আনা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

বিশেষজ্ঞদের একটি অংশ সতর্ক করে বলছে, নতুন কর নীতি গ্রহণের ক্ষেত্রে আইনি গ্রহণযোগ্যতা, বিনিয়োগ পরিবেশ এবং ধনী ব্যক্তিদের দেশত্যাগের সম্ভাবনাও বিবেচনায় নিতে হবে। ফলে ফ্রান্সে অতি ধনীদের করের বিষয়টি এখন শুধু অর্থনৈতিক নয়, এটি একটি বড় রাজনৈতিক ও সামাজিক বিতর্কে পরিণত হয়েছে।

অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা, আগামী বাজেট আলোচনা ও আসন্ন রাজনৈতিক বিতর্কে অতি ধনীদের কর একটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠতে পারে। সরকারকে একদিকে রাষ্ট্রীয় অর্থ ঘাটতি মোকাবিলা করতে হচ্ছে, অন্যদিকে জনগণের মধ্যে করের ন্যায্যতা নিশ্চিত করার চাপ রয়েছে।
বর্তমানে ফ্রান্সে অতি ধনীদের ওপর নতুন কোনো কর কার্যকর হয়নি। বিষয়টি এখনো রাজনৈতিক আলোচনা, সংসদীয় প্রক্রিয়া এবং আইনি পর্যালোচনার পর্যায়ে রয়েছে।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন