বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তানে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি (ইউনিফর্ম সিভিল কোড বা ইউসিসি) বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশের নির্বাসিত বিতর্কিত লেখিকা তসলিমা নাসরিন। তার মতে, নারী-পুরুষের বৈষম্য দূর করতে এবং সবার জন্য সমান আইন নিশ্চিত করতে ইউসিসি অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। একই সঙ্গে তিনি বাংলাদেশ ও পাকিস্তানেও এমন আইন প্রণয়নের দাবি জানান। এ খবর দিয়েছে ভারতের বার্তা সংস্থা পিটিআই। রোববার কলকাতায় এক সংবাদ সম্মেলনে তসলিমা নাসরিন বলেন, ৪০ বছর ধরে আমি ইউসিসির পক্ষে আন্দোলন করে আসছি। যে কোনো সভ্য দেশের জন্য এটি অত্যন্ত জরুরি। বাংলাদেশ, পাকিস্তান এবং ভারতের অভিন্ন দেওয়ানি বিধি প্রয়োজন। সবার জন্য সমান আইন থাকা উচিত। নারীরা নানা ধরনের বৈষম্যের শিকার হন, যার অনেকটাই ইউসিসির মাধ্যমে দূর করা সম্ভব।
তিনি এমন সময়ে এই মন্তব্য করেলেন যখন পশ্চিমবঙ্গ সরকার রাজ্যে অভিন্ন দেওয়ানি বিধির একটি খসড়া বিল পর্যালোচনার জন্য উচ্চপর্যায়ের একটি কমিটি গঠন করেছে। সরকারি প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, প্রস্তাবিত আইনের ব্যাপক প্রভাব ও বিস্তৃত বিষয়বস্তু বিবেচনায় নিয়ে বিলটি বিস্তারিতভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য এই কমিটি গঠন করা হয়েছে।
বাংলাদেশের প্রসঙ্গ টেনে ৬৩ বছর বয়সী এই লেখিকা বলেন, সমতা সভ্যতার অন্যতম ভিত্তি হলেও বাংলাদেশে এখনও বহু নারী বৈষম্যের শিকার। বিশেষ করে হিন্দু সম্প্রদায়ের নারীরা পিতার সম্পত্তিতে সমান উত্তরাধিকার পান না। তারা যদি স্বাধীনতা ও সমঅধিকার ভোগ করতে চান, তাহলে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি প্রয়োজন।
প্রায় ১৯ বছর পর সম্প্রতি কলকাতায় ফিরে আসেন তসলিমা নাসরিন। শনিবার কলকাতার রবীন্দ্র সদনে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের এক অনুষ্ঠানে তাকে সংবর্ধনা জানানো হয়। উল্লেখ্য, ২০০৭ সালে তার আত্মজীবনীমূলক বই ‘দ্বিখণ্ডিত’ প্রকাশকে ঘিরে বিক্ষোভের মুখে তৎকালীন বামফ্রন্ট সরকার তাকে কলকাতা ছাড়তে বাধ্য করে।
